প্রান্তিক চরবাসীর সফলতায় খুশি লুক্সেমবার্গের উন্নয়নমন্ত্রী

দ্য রিপোর্ট ডেস্ক

মে ৯, ২০২৩, ০৫:৩৪ পিএম

প্রান্তিক চরবাসীর সফলতায় খুশি লুক্সেমবার্গের উন্নয়নমন্ত্রী

প্রান্তিক চরবাসীদের সফলতা ও সহনশীলতা দেখে খুশি হয়েছেন লুক্সেমাবার্গের উন্নয়ন সহযোগিতা এবং মানবিক মন্ত্রী ফ্রান্জ ফায়োট। সম্প্রতি কুড়িগ্রাম গাইবান্ধা জেলার অধীনে যমুনা-ব্রহ্মপুত্রের চর সফর করেন লুক্সেমবার্গের ১১ সদস্যের প্রতিনিধি দল। এই সফরে চরবাসীদের সফলতায় উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেন তারা।  গণমাধ্যমে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানা গেছে।

সামাজিক উন্নয়ন সংস্থা ফ্রেন্ডশিপ-এর আমন্ত্রণে লুক্সেমবার্গ মন্ত্রণালয়ের প্রতিনিধি দলটি কুড়িগ্রামের চিলমারী গয়নারপটল চর এবং গাইবান্ধার বাটিকামারি চর সফর করে। দুই দিনের সফরে প্রতিনিধি দলটি চরের পরিবেশ পর্যবেক্ষণ করেন এবং চরবাসীদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। তারা দেখেন যে, চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় তাদের সহনশীলতা এবং দৃঢ়তার সর্বোত্তম ব্যবহার তাদের জীবনযাত্রার উন্নতিতে সহায়তা করছে এবং তারা উপকৃত হচ্ছে। গত ১৫ বছর ধরে এসব এলকায় ফ্রেন্ডশিপ প্রকল্পলোতে সহযোগিতা করে আসছে লুক্সেমবার্গ। 

উল্লেখ্য, ২০ বছরেরও বেশি আগে ফ্রেন্ডশিপ যখন একটি ভাসমান হাসপাতাল নিয়ে যমুনা-ব্রহ্মপুত্র নদীর চরগুলোতে কাজ শুরু করে তখন চরগুলোতে পরিবেশ ও জলবায়ু পরিবর্তনজনিত নানা সমস্যা ছিলো। যেমন-চরগুলোতে কোনো সংযোগ ছিলো না, নদী ভাঙ্গন, বন্যার কারণে দারিদ্রতা চরবাসীদের অনিবার্য সমস্যা ছিলো এবং এখানে জরুরি কোনো সেবা গ্রহণেরও সুযোগ ছিলো না। পরবর্তীতে দিন দিন এই সমস্যা বেড়েছে এবং তার পাশাপাশি দেশের নানা দিকের অগ্রগতি হয়েছে। জীবন রক্ষা, দারিদ্র বিমোচন, জলাবয়ু অভিযোজন, জনগোষ্ঠীর ক্ষমতায়নের প্রতি দায়বদ্ধ থেকে সামাজিক উন্নয়ন সংস্থা ফ্রেন্ডশিপ বাংলাদেশ সরকারের সঙ্গে একাত্ম হয়ে কাজ করে যাচ্ছে। যার ফলে এসব এলাকায় এবং জনগোষ্ঠীর মধ্যে বড় ধরনের পরিবর্তন সম্ভব হয়েছে। 

সফরে লুক্সেমবার্গ মন্ত্রণালয়ের সফরকারী দলে আরও ছিলেন, লুক্সেমবার্গ মন্ত্রণালয়ের ডিরেক্টর অব কোঅপারেশন ক্রিস্টোফে পল জোসেফ স্ক্লিটজ, বাংলাদেশে নিযুক্ত লুক্সেমবার্গ গ্র্যান্ড ডাচির রাষ্ট্রদূত পেজি ফ্রান্তজেন। এতে আরো উপস্থিত ছিলেন ফ্রেন্ডশিপ-এর প্রতিষ্ঠাতা ও নির্বাহী পরিচালক রুনা খান এবং ফ্রেন্ডশিপ লুক্সেমবার্গের চেয়ার মার্ক এলভিনগার। 

লুক্সেমবার্গ মন্ত্রী ফ্রান্জ ফায়োট বলেন, “বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চলে ফ্রেন্ডশিপ-এর প্রকল্প পরিদর্শন করেছি। আমি দেখেছি যে, ফ্রেন্ডশিপ-এর সঙ্গে আমাদের দীর্ঘমেয়াদী সহযোগিতামূলক সম্পর্ক স্থানীয় জনগণের ওপর ইতিবাচক প্রভাব ফেলেছে। প্রকল্প বাস্তবায়নে ফ্রেন্ডশিপ যে কাজের ধারা এবং মানসিকতা অব্যাহত রেখেছে তা অনুকরণীয়। বাংলাদেশের জনগণকে সহযোগিতা দিতে এমন একটি নির্ভরযোগ্য অংশীদারের ওপর নির্ভর করতে পেরে আমি আনন্দিত”। 

ফ্রেন্ডশিপ-এর প্রতিষ্ঠাতা রুনা খান বলেন, “লুক্সেমবার্গ সরকার সঙ্গে ফ্রেন্ডশিপ-এর সম্পর্ক দীর্ঘদিনের। তারা আমাদের সেইসব অমূল্য সহযোগিদের মতো যারা সত্যিকার অর্থে আমাদের মূল্যবোধকে প্রভাবিত করে এবং আমরা যে কমিউনিটিদের সাথে কাজ করি তাদের চাহিদাগুলোকে গভীরভাবে বোঝার চেষ্টা করে। এই ধরনের অংশীদাররা আমাদের কাজকে মূল্যবোধের ভিত্তিতে পরিচালিত এবং প্রয়োজন-ভিত্তিক করতে সক্ষম করে। আমি অত্যন্ত আনন্দিত এবং সম্মানিত যে ফ্রাঞ্জ ফায়োটট এবং তার প্রতিনিধিদল এই সম্প্রদায়গুলোকে দেখার জন্য সময় নিয়েছে, যাদের সেবা করার জন্য আমাদের একটি যৌথ অঙ্গীকার রয়েছে।” 

ফ্রেন্ডশিপ লুক্সেমবার্গের চেয়ারম্যান মার্ক এলভিংগার বলেন, “গত ১৫ বছর ধরে আমরা লুক্সেমবার্গ সরকারের কাছ থেকে অত্যন্ত উল্লেখযোগ্য এবং ক্রমবর্ধমান সহযোগিতা পেয়েছি। আমারা উভয় পক্ষের মধ্যে দৃঢ় সম্পর্ক গড়ে তুলেতে সক্ষম হয়েছি। আমার কাছে এটি আরও গুরুত্বপূর্ণ ছিল যে, মন্ত্রী এবং তার দল সরাসরি আমাদের প্রকল্পগুলো দেখার সুযোগ পেয়েছেন। এর মাধ্যমে তিনিও নিশ্চিত হতে পেরেছেন যে তারা আমাদের কাজের প্রতি যে আস্থা রেখেছেন তা ভুল হয়নি।” 

কুড়িগ্রাম ও গাইবান্ধার চরে সফরের সময় প্রতিনিধি দলটি লুক্সেমবার্গ সরকারের সহ-অর্থায়নে পরিচালিত বিভিন্ন ফ্রেন্ডশিপ প্রোগ্রাম পরিদর্শন করে, যার মধ্যে রয়েছে ফ্রেন্ডশিপের ত্রি-স্তরীয় স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থার অংশ হিসেবে একটি ভাসমান হাসপাতাল, একটি প্লিন্থ ক্লাস্টার গ্রাম, একটি সৌর গ্রাম, একটি ফ্রেন্ডশিপ প্রাথমিক ও মাধ্যমিক বিদ্যালয়, সেইসাথে কৃষি সহায়তা, বৃত্তিমূলক প্রশিক্ষণ, অন্তর্ভুক্তিমূলক নাগরিকত্ব এবং চার থিয়েটারের জন্য প্রোগ্রাম। 

Link copied!