মার্কিন ভিসা নীতির আওতায় তাদের জ্বালাও-পোড়াও বন্ধ হোক: পররাষ্ট্রমন্ত্রী

কূটনৈতিক প্রতিবেদক

মে ২৭, ২০২৩, ০৪:৩২ পিএম

মার্কিন ভিসা নীতির আওতায় তাদের জ্বালাও-পোড়াও বন্ধ হোক: পররাষ্ট্রমন্ত্রী

আসছে দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে বাংলাদেশের জন্য ঘোষণা করা মার্কিন ভিসানীতির আওতায় বিএনপি এখন তাদের জ্বালাও-পোড়াও কর্মসূচি পরিত্যাগ করবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেন।

শনিবার রাজধানীর সেগুনবাগিচায় আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউটে এক অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, “প্রধানমন্ত্রী যে ফ্রি অ্যান্ড ফেয়ার ইলেকশন করতে চান, সেটাকে সাহায্য করার জন্য তারা তাদের ভিসা নীতি প্রচলন করেছে। আমরা চাইব এ ভিসা নীতির আওতায় জ্বালাও-পোড়াও বন্ধ হোক।”

‘আমরা আর জ্বালাও-পোড়াও চাই না’ উল্লেখ করে ড. মোমেন আরও বলেন, “ ২০১৪ সালে তারা ৩৮০০ যানবাহন জ্বালিয়েছে, বগি জ্বালিয়েছে, স্টিমার জ্বালিয়েছে। এখন যদি জ্বালাও-পোড়াও বন্ধ হয়, দ্যাট উড বি আ ব্লেসিং। যারা জ্বালাও-পোড়াও করে, তাদের এবং তাদের  নেতাদের সতর্ক হওয়া দরকার। আমরা ফ্রি অ্যান্ড ফেয়ার ইলেকশন করব।”

পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, এই দেশে যারা ভোটারবিহীনভাবে নির্বাচিত হয়েছে, তাদের দু-তিন মাসের মধ্যে জনগণ ফেলে দিয়েছে। জনগণের রায়ে নির্বাচিত সরকার না হলে টিকতে পারবে না। আমরা জনগণের ওপর বিশ্বাস করি, জনগণের জন্য কাজ করি, আমাদের অন্য কোনো স্বার্থ নেই। মানুষের যদি মঙ্গল করে থাকি, তাহলে নিশ্চয়ই তারা আমাদের সাহায্য করবে।”

প্রসঙ্গত, জাতীয় নির্বাচনের আগে বাংলাদেশের জন্য নতুন ভিসা নীতি ঘোষণা করেছে যুক্তরাষ্ট্র। এতে বলা হয়, বাংলাদেশের নাগরিকদের যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা পেতে হলে নতুন এক নীতিমালার শর্ত পূরণ করতে হবে। এর আওতায় বাংলাদেশে অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন না হলে তার জন্য দায়ী ব্যক্তি এবং তাঁদের পরিবারের সদস্যদের ভিসা দেওয়ার ক্ষেত্রে বিধিনিষেধ দেওয়ার কথা বলা হয়েছে।

বুধবার(২৪ মে) মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী অ্যান্টনি ব্লিঙ্কেন এক বিবৃতিতে ওই ঘোষণা দেন।  বিবৃতিটি তিনি টুইটারেও শেয়ার করেন।

ব্লিঙ্কেন ওই টুইট বার্তায় বলেন, ‘অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনপ্রক্রিয়া এগিয়ে নিতে আমি আজকে একটি নতুন ভিসা নীতি ঘোষণা করছি। এই নীতির অধীনে যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক নির্বাচনপ্রক্রিয়াকে বাধাগ্রস্ত করার জন্য দায়ী বা জড়িত বলে মনে করা যেকোনো বাংলাদেশি ব্যক্তির জন্য ভিসা প্রদানে বিধিনিষেধ আরোপে সক্ষম হবে।’

যাঁদের ওপর ভিসা বিধিনিষেধ আরোপ হবে, তাঁদের মধ্যে বাংলাদেশের সাবেক ও বর্তমান কর্মকর্তা–কর্মচারী, সরকারপন্থী ও বিরোধী রাজনৈতিক দলের সদস্য এবং আইন প্রয়োগকারী, বিচার বিভাগ ও নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরা অন্তর্ভুক্ত রয়েছেন।

গণতান্ত্রিক নির্বাচনপ্রক্রিয়াকে বাধাগ্রস্ত করে, এমন কাজের মধ্যে রয়েছে ভোট কারচুপি, ভোটারদের ভয় দেখানো, সহিংসতার মাধ্যমে জনগণকে সংগঠিত হওয়ার স্বাধীনতা, শান্তিপূর্ণ সমাবেশের অধিকার প্রয়োগ করতে বাধা দেওয়া এবং বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণের মাধ্যমে রাজনৈতিক দল, ভোটার, সুশীল সমাজ বা গণমাধ্যমকে তাদের মতামত প্রচার করা থেকে বিরত রাখা।

ব্লিঙ্কেন আরও বলেন, অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন অনুষ্ঠানের দায়িত্ব ভোটার, রাজনৈতিক দল, সরকার, নিরাপত্তা বাহিনী, সুশীল সমাজ, গণমাধ্যমসহ সবার। যারা বাংলাদেশে গণতন্ত্রকে এগিয়ে নিতে চায়, তাদের সবাইকে আমাদের সমর্থন দিতে আমি এই নীতি ঘোষণা করছি।

Link copied!