নানামুখী ষড়যন্ত্রের কারণে আগামী নির্বাচনটা একটা চ্যালেঞ্জ: প্রধানমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক

জুন ৫, ২০২৩, ০৭:৪৫ পিএম

নানামুখী ষড়যন্ত্রের কারণে আগামী নির্বাচনটা একটা চ্যালেঞ্জ: প্রধানমন্ত্রী

সংগৃহীত ছবি

নানামুখী চক্রান্ত ও ষড়যন্ত্রের কারণে আসছে দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন চ্যালেঞ্জের হবে উল্লেখ করে আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দলীয় নেতাকর্মীদের সেভাবে প্রস্তুতি নেওয়ার আহবান জানিয়েছেন।  

সোমবার প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবন গণভবনে আওয়ামী লীগ ও এর সহযোগী সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীদের সাথে মতবিনিময়কালে শেখ হাসিনা এ কথা বলেন।

যারা বাংলাদেশের বদনাম করে তাদের ‘কুলাঙ্গার’ আখ্যা দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “দেশের মানুষের জীবন যখন একটু উন্নত হয়, তখনই বাংলাদেশেরই কিছু কুলাঙ্গার আছে যারা বাংলাদেশের বিরুদ্ধে সব জায়গায় বদনাম করে বেড়ায়, মিথ্যা বলে বেড়ায়। আর কিছু আছে বিদেশী অনুদানের টাকা পাওয়ার জন্য বাংলাদেশ সম্পর্কে ভ্রান্ত ধারনা দেয়।”

এসময় সরকারপ্রধান আরও বলেন, “যারা আমাদের স্বাধীনতায় বিশ্বাসই করে নাই, যারা গণহত্যা চালিয়েছে, লুটপাট করেছে, নারী ধর্ষণ, নির্যাতন করেছে তারা আছে, তাদের আওলাদ আছে তারা সারাক্ষণ বাংলাদেশের বিরুদ্ধে অপপ্রচার করেই যাচ্ছে।”

বিএনপির সমালোচনা করে আওয়ামী লীগ সভাপতি বলেন, “নির্বাচনে কারচুপি করা বিএনপির অভ্যাস। ভোট চুরি করা এটাই তাদের রেকর্ড। গণতন্ত্রহরণ করা এটাই তাদের রেকর্ড। তো ওদের মুখে এখন আবার আমরা গণতন্ত্র শুনি।”

এসময় তিনি আরও বলেন, “যারা মিলিটারি ডিকটেটরের হাতে তৈরি দল তাদের কাছে গণতন্ত্রের ছবক শুনতে হয়। তাদের কাছে ভোটের কথা শুনতে হয়। তো চুরি করা সবাই যাদের অভ্যস, তো চোরদের কাছে আমরা বাংলাদেশের জনগণ কি শুনবে, কি দেখবে।” 

বিএনপির শাসনামলে এক কোটির বেশি ভুয়া ভোটারের বিষয়টি উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, “২০০১ সালের নির্বাচনেও তো কম কারচুপি হয়নি। ১৯৯৬ সালে এই খালেদা জিয়াকেই বাংলাদেশের মানুষ ভোট চুরির অপরাধে বিতাড়িত করেছে। আবার ২০০৬ সালে নির্বাচনে ১ কোটি ২৩ কোটি ভুয়া ভোটার দিয়ে ভোট চুরি করতে গেছে তখনও জনগণের আন্দোলনেই তাদের বিদায় নিতে হয়েছে।”

এসময় দলীয় নেতাদের উদ্দেশ্যে সরকারপ্রধান বলেন, “আমাদের সংগঠনটা যথেষ্ট শক্তিশালী। সংগঠনটা যেন আরও মজবুত থাকে। সেদিকে ব্যবস্থা নিতে হবে।”

শেখ হাসিনা বলেন, “আওয়ামী লীগকে ধ্বংস করার চেষ্টা, স্বাধীনতার ইতিহাস মুছে ফেলা, জয় বাংলা মুছে ফেলা, বঙ্গবন্ধুর স্বাধীনতার ইতিহাস মুছে ফেলা, অনেক অপকর্মই করা হয়েছে। আসলে সত্য এক সময় না এক সময় উদ্ভাসিত হবেই। সত্য কেউ মুছে ফেলতে পারে না। আজকে সেটাই হয়ে গেছে।”

এসময় তিনি আরও বলেন, “আজকে ৭ই মার্চের ভাষণ আন্তর্জাতিক মর্যাদা পেয়েছে। ২১ ফেব্রূয়ারি আন্তর্জাতিক মাতৃভাষার স্বীকৃতি পেয়েছে। জয় বাংলা স্লোগান আবার ফিরে এসেছে।”

আওয়ামী লীগ সরকারের উন্নয়নের কথা তুলে ধরে সরকারপ্রধান বলেন, “আল্লাহর রহমতে এইটুকু করতে পেরেছি, এই ১৪ বছরে, ২০০৮ এ সরকারে আসার পর, এই একটানা ক্ষমতায় ফলে যে স্থিতিশীল গণতান্ত্রিক পরিবেশ আছে বলেই আজকে বাংলাদেশের এই উন্নতিটা সম্ভব হয়েছে।”

শেখ হাসিনা বলেন, “আমরা কিন্তু বাংলাদেশকে বদলে দিতে পেরেছি। আজকে কিন্তু সেই ভিক্ষুকের জাতি বলে কেউ আর অবহেলা করতে পারবে না। এই জায়গাটা থেকে বাংলাদেশকে উত্তরণ ঘটিয়ে আমরা উন্নয়নশীল দেশের মর‌্যাদা পেয়েছি। উন্নয়নশীল দেশ হিসেবে আমাদের তৈরি হতে হবে, এগিয়ে যেতে হবে। এটাকে আমাদের স্থায়ী করতে হবে।”

তিনি  বলেন, যেকোন দুযোর্গে-দুর্বিপাকে আওয়ামী লাগই কিন্তু মানুষের পাশে থাকে। এটাও প্রমাণিত যেকোন সময় আওয়ামী লীগ মানুষের কাছে থাকে।

বাংলাদেশের উন্নয়নে বিদেশিদের মনোভাব তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “দেশের বাইরে গেলে সবাই বাংলাদেশের উন্নয়ন বিষয়ে আমাকে বলে আপনার ম্যাজিকটা কি? আমি বলি ম্যাজিক কিছু নাই ওখানে। আমার শক্তিশালী সংগঠন আছে। আর আমাদের সংগঠনের শক্তিশালী আছে, আর আমাদের সংগঠনের শক্তিশালী নীতিমালা আছে। আমাদের একটা লক্ষ্য আছে, একটা পরিকল্পনা আছে। সুষ্ঠু পরিকল্পনা নিয়ে, জনগণকে নিয়ে উন্নয়নের কাজ করি বলেই আমরা সাফল্য আনতে পেরেছি।”

Link copied!