দিঘির ঘাটে কুমিরের মুখে কুকুর, ভাইরাল ভিডিওর প্রকৃত ঘটনা কী?

দ্য রিপোর্ট ডেস্ক

এপ্রিল ১১, ২০২৬, ০৩:৩২ পিএম

দিঘির ঘাটে কুমিরের মুখে কুকুর, ভাইরাল ভিডিওর প্রকৃত ঘটনা কী?

ছবি: সংগৃহীত

বাগেরহাটের হযরত খানজাহান আলী (রহ.)-এর মাজারসংলগ্ন দিঘিতে কুমিরের মুখে কুকুর ধরা পড়ার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর ঘটনাটি ঘিরে শুরু হয়েছে ব্যাপক আলোচনা ও সমালোচনা। এ ঘটনার সত্যতা ও প্রেক্ষাপট নিয়ে এলাকায় দর্শনার্থীদের ভিড়ও লক্ষ্য করা গেছে।

দর্শনার্থীদের অনেকে জানান, তারা সামাজিক মাধ্যমে এমন ভিডিও দেখেছেন যেখানে দাবি করা হয়েছে কুকুরটিকে ইচ্ছাকৃতভাবে কুমিরের খাবার হিসেবে ফেলে দেওয়া হয়েছে। আবার কেউ কেউ বলেছেন, কুকুরটির পা বেঁধে পানিতে ফেলা হয়েছিল। এসব ভিডিও ও পোস্টে লাখো ভিউ এবং শত শত মন্তব্য দেখা গেছে।

তবে মাজারের খাদেম, নিরাপত্তাকর্মী ও প্রত্যক্ষদর্শীরা এসব দাবিকে অস্বীকার করেছেন। তাদের ভাষ্য, ঘটনাটি ছিল সম্পূর্ণ দুর্ঘটনাজনিত এবং সামাজিক মাধ্যমে ছড়ানো তথ্যের বড় অংশই বিভ্রান্তিকর।

মাজারের ঘাটের পাশের দোকানি বিনা আক্তার জানান, কুকুরটি তার দোকানের সামনে কয়েকজনকে আক্রমণ করেছিল এবং একটি শিশুকে কামড় দেয়। পরে কুকুরটি পানিতে পড়ে গেলে কুমির সেটিকে ধরে নিয়ে যায়। তিনি বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এ নিয়ে নানা মিথ্যা গল্প ছড়ানো হচ্ছে।

মাজারের নিরাপত্তাকর্মী মো. ফোরকান হাওলাদার বলেন, ঘাটে কুমিরটি অবস্থান করছিল এবং দর্শনার্থীরা তা দেখছিলেন। আমি নিরাপত্তার জন্য ঘাটেই দাঁড়িয়ে ছিলাম। হঠাৎ একটি বেওয়ারিশ কুকুর এসে আমার পায়ে আঁচড় দেয়। তখন আত্মরক্ষার্থে পা ঝাড়া দিলে কুকুরটি পানিতে পড়ে যায়। পরে দিঘিতে থাকা কুমিরটি তাকে ধরে পানির নিচে নিয়ে যায়।

খানজাহান (রহ.) মাজারের প্রধান খাদেম ফকির তারিকুল ইসলাম বলেন, ঘটনাটি অনাকাঙ্ক্ষিত। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এর ভুল ব্যাখ্যা দেয়া হয়েছে, যা খুবই দুঃখজনক। তিনি আরও বলেন, মাজারের পবিত্রতা রক্ষার্থে ঘটনাটি সঠিকভাবে উপস্থাপন করা প্রয়োজন।

এ বিষয়ে বাগেরহাট জেলা প্রশাসক গোলাম মো. বাতেন বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মাজারের কুমিরকে কুকুর খাওয়ানো হচ্ছে এমন শিরোনামে একটি ভিডিও ভাইরাল হয়েছে। বিষয়টি নজরে আসার পর প্রাথমিকভাবে জানতে পেরেছি প্রকৃত ঘটনা ভিন্ন। তিনি জানান, আসল ঘটনা অনুসন্ধানে সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে (ইউএনও) প্রধান করে তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।

কমিটির অন্য দুই সদস্য হিসেবে রয়েছেন সদর উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা এবং বাগেরহাট সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি)। তদন্তের মাধ্যমে আসল ঘটনা উঠে আসবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন জেলা প্রশাসক।

Link copied!