ফারাক্কা বাঁধ খুলে দিলেও বাংলাদেশে বন্যার শঙ্কা নেই

নিজস্ব প্রতিবেদক

আগস্ট ২৭, ২০২৪, ০৭:২৬ এএম

ফারাক্কা বাঁধ খুলে দিলেও বাংলাদেশে বন্যার শঙ্কা নেই

ফারাক্কা ব্যারেজ

ভারী বৃষ্টি ও ভারত থেকে আসা পানিতে বাংলাদেশে বেশ কয়েকটি জেলা বন্যার কবলে পড়েছে। এরই মধ্যে আবারও ভারতের বিহার ও ঝাড়খণ্ডে বন্যার জেরে খুলে দেওয়া হয়েছে ফারাক্কা বাঁধের ১০৯টি গেট। ফলে বাংলাদেশে আরও বন্যার আশঙ্কা করা হচ্ছে। তবে পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র জানায়, ফারাক্কা বাঁধের ১০৯টি গেট খুলে দেওয়া হলেও বাংলাদেশে বন্যার তেমন কোনও প্রভাব এখনও পড়েনি।

বোর্ডের সূত্র জানায়, ফারাক্কা বাঁধের গেট খুলে দেওয়ায় গঙ্গা নদীর বাংলাদেশ অংশে পানি মাত্র ৭ সেন্টিমিটার বৃদ্ধি পেয়েছে।

তবে গতকাল সোমবার আনন্দবাজার অনলাইনে প্রকাশ হওয়া প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, ফরাক্কা থেকে পানি ছাড়ায় রাজশাহী, চাঁপাইনবাবগঞ্জ, পাবনা, সিরাজগঞ্জ, কুষ্ঠিয়া, মানিকগঞ্জসহ বেশ কয়েকটি জেলা প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়, সোমবার দিনভর ফারাক্কা বাঁধ দিয়ে ১১ লাখ কিউসেক পানি ছাড়া হয়েছে।

এ ছাড়া বাঁধ প্রকল্পের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের উদ্ধৃতি দিয়ে প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, নিম্নচাপের ফলে বিহার ও ঝাড়খণ্ডে ভারী বৃষ্টির ফলে ফারাক্কা ব্যারেজে পানির স্তর বিপৎসীমার ৭২ ফুট ছাড়িয়ে ৭৭ দশমিক ৩৪ ফুটে পৌঁছেছে। এর ফলে ফারাক্কা ব্যারেজে অতিরিক্ত পানি আর ধরে রাখা সম্ভব নয়।

বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্রের নির্বাহী প্রকৌশলী সরদার উদয় রায়হান গঙ্গা নদীর বাংলাদেশ অংশে পানি পরিমাণ ও বন্যা পরিস্থিতি প্রসঙ্গে বলেন, “চাঁপাইনবাবগঞ্জের পাংখা পয়েন্টে গঙ্গার পানি পর্যবেক্ষণ করা হয়েছে। ২৪ ঘণ্টায় সেখানে পানি বৃদ্ধি পেয়েছে ৭ সেন্টিমিটার। যা শঙ্কামুক্ত ও স্বাভাবিক। আগামী কয়েকদিন বন্যা পরিস্থিতির সম্ভাবনা নেই।”

পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) সাবেক অতিরিক্ত মহাপরিচালক ম ইনামুল হক বলেন, “ফারাক্কার সবগুলো গেট খুলে দেওয়ার চিত্র প্রতিবারের মতো এবারও রয়েছে। তবে বাংলাদেশে এর জন্য বন্যা পরিস্থিতি সৃষ্টির কোনও শঙ্কা নেই। আগামী ২০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সবগুলো গেট খোলা থাকবে ও এরপর ৪-৫টি গেট খোলা রেখে বাকিগুলো বন্ধ রাখা হবে।”

Link copied!