গণহত্যা দিবস আজ

দ্য রিপোর্ট ডেস্ক

মার্চ ২৫, ২০২৬, ১০:৩৭ এএম

গণহত্যা দিবস আজ

২৫ মার্চ রাত নামলেই জাতি ফিরে যায় ইতিহাসের এক ভয়াল অন্ধকারে, যে রাতে ঢাকার রাজপথ কেঁপে উঠেছিল গুলির শব্দে, আর নিরস্ত্র হাজারো মানুষ নির্মম সামরিক অভিযানে প্রাণ হারিয়েছিলেন; যার মধ্য দিয়েই শুরু হয় ১৯৭১ সালের গণহত্যা।

এই প্রেক্ষাপটে, যথাযোগ্য মর্যাদা ও শোকের মধ্য দিয়ে আজ বুধবার সারাদেশে পালিত হচ্ছে গণহত্যা দিবস।

১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ রাতে পাকিস্তানি বাহিনী ‘অপারেশন সার্চলাইট’ নামে যে নৃশংস অভিযান চালায়, তাতে ইস্ট পাকিস্তান রাইফেলস ও পুলিশের বাঙালি সদস্য, ছাত্র, শিক্ষকসহ সাধারণ মানুষকে নির্বিচারে হত্যা করা হয়। 

ঘরবাড়িতে আগুন দেওয়া হয়, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে লুটপাট চালানো হয়, এবং পুরো শহরজুড়ে সৃষ্টি হয় ধ্বংসস্তূপ।

দিবসটি উপলক্ষে দেশের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান—স্কুল, কলেজ, মাদ্রাসা ও কারিগরি প্রতিষ্ঠান—মুক্তিযুদ্ধ ও ২৫ মার্চের গণহত্যা নিয়ে আলোচনা সভার আয়োজন করেছে, যেখানে অংশ নিচ্ছেন বিশিষ্টজন ও বীর মুক্তিযোদ্ধারা।

রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন সিটি করপোরেশন এলাকায় দুপুর ১২টা থেকে গণহত্যার বিরল আলোকচিত্র ও প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শনীর আয়োজন করা হয়েছে।

এছাড়া পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরের উদ্যোগে সকাল ১০টায় (বা সুবিধাজনক সময়ে) একটি সেমিনার অনুষ্ঠিত হচ্ছে।

বিভিন্ন সাংস্কৃতিক সংগঠন আয়োজন করেছে সেমিনার, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও লিরিক্যাল নাট্য পরিবেশনা।

বাংলাদেশ বেতার, বাংলাদেশ টেলিভিশনসহ বেসরকারি টেলিভিশন ও রেডিও চ্যানেলগুলো সম্প্রচার করছে বিশেষ অনুষ্ঠান, আর জাতীয় দৈনিকগুলো প্রকাশ করেছে বিশেষ ক্রোড়পত্র।

এদিকে, শহীদদের আত্মার মাগফিরাত কামনায় বিভিন্ন ধর্মীয় সংগঠন আয়োজন করেছে বিশেষ দোয়া ও প্রার্থনা।

দিবসটি উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান পৃথক বাণী দিয়েছেন।

রাষ্ট্রপতি তার বাণীতে বলেন, দীর্ঘদিন পর একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের মাধ্যমে জনগণের ভোটাধিকার প্রতিষ্ঠিত হয়েছে এবং জনগণের ম্যান্ডেটের ভিত্তিতে গণতান্ত্রিক সরকার গঠিত হয়েছে। তিনি একটি বৈষম্যহীন, মানবিক ও আত্মনির্ভর বাংলাদেশ গঠনে সবাইকে একসঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানান।

তিনি আরও বলেন, মুক্তিযুদ্ধের শহীদরা যে ন্যায়ভিত্তিক, মানবিক ও গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের স্বপ্ন দেখেছিলেন, তা বাস্তবায়নে ধর্ম-বর্ণ-মত নির্বিশেষে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে।

প্রধানমন্ত্রী তার বাণীতে বলেন, স্বাধীনতার প্রকৃত মূল্য ও তাৎপর্য নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরতে ২৫ মার্চের গণহত্যার ইতিহাস জানা অত্যন্ত জরুরি।

তিনি বলেন, “মহান মুক্তিযুদ্ধের চেতনা—সমতা, মানবিক মর্যাদা ও সামাজিক ন্যায়বিচার—রাষ্ট্র ও সমাজে প্রতিষ্ঠার মধ্য দিয়ে শহীদদের আত্মত্যাগের প্রতি যথাযথ সম্মান জানাতে হবে।”

তিনি শহীদদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন এবং দিবসটি উপলক্ষে আয়োজিত সব কর্মসূচির সাফল্য কামনা করেন।

গণহত্যা দিবসের এই পালন জাতিকে আবারও স্মরণ করিয়ে দেয় ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের আত্মত্যাগ—এবং সেই ইতিহাস সংরক্ষণ, দলিলবদ্ধ করা ও শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানানোর অব্যাহত দায়।

Link copied!