ঢাকা-১১ আসনের উন্নয়ন না হওয়ার একমাত্র কারণ ভূমিদস্যুতা : নাহিদ ইসলাম

বাসস

ফেব্রুয়ারি ৯, ২০২৬, ১২:০২ এএম

ঢাকা-১১ আসনের উন্নয়ন না হওয়ার একমাত্র কারণ ভূমিদস্যুতা : নাহিদ ইসলাম

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মনোনীত প্রার্থী ও দলটির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম বলেছেন, ঢাকা-১১ আসনে উন্নয়ন না হওয়ার একমাত্র কারণ ভূমিদস্যুতা। এই এলাকার শত শত মানুষকে নিঃস্ব করে দেয়া হয়েছে।

তিনি বলেন, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের আগে প্রধান দুই দলের স্থানীয় নেতারাই ভূমি দখল করেছে। এই আসনের অন্যতম প্রধান সমস্যা রাজনৈতিক। এই এলাকার উন্নয়ন না হওয়ার পেছনের মূল কারণও রাজনৈতিক। আর সেই রাজনৈতিক কারণ হচ্ছে ভূমিদস্যুতা।  

তিনি বলেন, ৫ আগস্টের আগস্টের আগে যারা প্রধান দুই দল হিসেবে পরিচিত ছিল, তাদের এখানকার স্থানীয় নেতারাই ৩০ বছর ধরে ভাগ-বাটোয়ারা করে ভূমি দখল করেছেন। নির্বাচিত হলে ঢাকা-১১ আসনে ভূমিদস্যুদের সিন্ডিকেট চিরতরে নির্মূল করা হবে।

নাহিদ ইসলাম আজ রোববার ঢাকার মেরুল বাড্ডার ডিআইটি প্রজেক্ট খেলার মাঠে নির্বাচনী জনসভায় সভাপতির বক্তব্যে এ কথা বলেন।

এতে প্রধান অতিথি হিসেবে জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান এবং বিশেষ অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মামুনুল হক।

নাহিদ ইসলাম বলেন, এই এলাকার শত শত মানুষের জমি, খাসজমি, সাধারণ জলাশয় দখল ও ভরাট করে ফেলা হয়েছে। এতে শত শত পরিবার নিঃস্ব হয়ে পড়েছে। যারা রাজনীতির ময়দানে ছিলেন, তারাই ভূমিদস্যু হিসেবে এ কাজ করেছেন অথবা ভূমিদস্যুদের সহায়তা করেছেন।

তিনি বলেন, গত ৩০ বছরের ইতিহাস হলো, ভূমিদস্যুদের ভূমি দখলের ইতিহাস, জমি দখলের ইতিহাস, নদী দখলের ইতিহাস। আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি জনগণের সামনে ভূমিদস্যু, দখলদার, চাঁদাবাজ, সন্ত্রাসী ও ঋণখেলাপিদের পরাজিত করার সুযোগ এসেছে বলে উল্লেখ করেন নাহিদ ইসলাম।

তিনি বলেন, নির্বাচিত হলে এই এলাকার অর্থনৈতিক বৈষম্য দূও, নাগরিক সুবিধা নিশ্চিত ও ভূমিদস্যুদের সিন্ডিকেট চিরতরে নির্মূল করা হবে।

নাহিদ ইসলাম বলেন, তিনি এই এলাকার সন্তান। তিনি কোনো জাতীয় পর্যায়ের বক্তব্য দিতে আসেননি, বরং তিনি এই এলাকার সন্তান হিসেবে এলাকার মানুষের জন্য কিছু কথা বলতে চান।

তিনি বলেন, তার জন্ম ঢাকার বেরাইদে। বাড্ডা-রামপুরায় তার শৈশব কেটেছে। ঢাকার এত কাছে হওয়া সত্ত্বেও বাড্ডা-ভাটারা এলাকার মানুষ দীর্ঘদিন ধরে অবহেলা ও বঞ্চনার শিকার। ভেতরের দিকে গেলে কখনো কখনো মনে হয় এটি ঢাকা নয়, যেন মফস্বলের কোনো এলাকা। এখানকার মানুষ নানা অসুবিধার মধ্য দিয়ে জীবন যাপন করছেন। তবে জুলাই গণঅভ্যুত্থানে বাড্ডা-রামপুরা আন্দোলন-প্রতিরোধের অন্যতম ‘হটস্পট’ হয়ে উঠেছিল।

নাহিদ ইসলাম বলেন, জুলাই গণ-অভ্যুত্থানকালে এই এলাকার মানুষ প্রতিরোধ করেছেন। বহু মানুষ জীবন দিয়েছেন। আহত হয়েছেন। ১৯৭১ সালের ইতিহাসেও দেখা যায়, মুক্তিযোদ্ধারা বাড্ডা, বেরাইদ ও আশপাশ এলাকায় অবস্থান করতেন। নৌকা দিয়ে এসে অপারেশন করে আবার ফিরে যেতেন।

নাহিদ ইসলাম বলেন, জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সময় তিনি কয়েক দিন এই আসনের বিভিন্ন জায়গায় পালিয়ে ছিলেন। ঢাকা-১১ তাকে আশ্রয় দিয়েছে। তার জীবনের ২৮টি বছরও এই এলাকা তাকে আশ্রয় দিয়েছে। এখন তিনি চান ঢাকা-১১ আসনের মানুষের প্রতি তার ঋণ শোধ করতে।

নাহিদ ইসলাম বলেন, ঢাকা-১১ আসনে প্রায় ১৫ লাখ মানুষের বসবাস, যদিও ভোটার ৪ দশমিক ৫ লাখ। এত ঘনবসতি হওয়া সত্ত্বেও এখানে পর্যাপ্ত নাগরিক সুবিধা, খেলার মাঠ , স্কুল এবং হাসপাতাল নেই।

তিনি বলেন, ভাটারা-বাড্ডার প্রায় ৭০ শতাংশ মানুষ ইনফরমাল ইকোনমির সঙ্গে যুক্ত। ক্ষুদ্র ব্যবসা ও দিনমজুর শ্রেণির মানুষ তারা। এ এলাকায় শিক্ষিত বেকারের সংখ্যা ৮ থেকে ১০ শতাংশ।

তিনি আরও বলেন, এলাকার স্বাস্থ্য খাতের প্রায় শতভাগ প্রাইভেট সেক্টরের ওপর নির্ভরশীল। কারণ এখানে কোনো সরকারি হাসপাতাল নেই। পুরো এলাকায় একটি সরকারি হাইস্কুলও নেই। সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় আছে মাত্র ১৫টি। ফলে শিক্ষা ও স্বাস্থ্য পুরোপুরি প্রাইভেট সেক্টরের ওপর নির্ভরশীল। তিনি নির্বাচিত হলে এলাকার শিক্ষা ও চিকিৎসা ব্যবস্থার উন্নয়নে কাজ করবেন।

Link copied!