এপ্রিল ৪, ২০২৬, ০২:১৩ পিএম
ছবি: সংগৃহীত
সংস্কার শেষ হওয়ার মাত্র চার মাসের মধ্যেই রংপুর-সৈয়দপুর মহাসড়কের বিভিন্ন স্থানে কার্পেটিং উঠে গিয়ে গর্ত ও ফাটল দেখা দিয়েছে। এতে সড়কটির মান নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয় বাসিন্দা ও সংশ্লিষ্টরা।
স্থানীয়দের অভিযোগ, সংস্কারকাজ ছিল দায়সারা এবং নিম্নমানের। বড় গর্তগুলোতে সামান্য পাথর ও পিচ দিয়ে কাজ শেষ করা হয়েছে, ফলে অল্প সময়েই সড়ক আবারও নষ্ট হয়ে পড়েছে। দ্রুত পুনরায় সংস্কারের দাবি জানিয়েছেন তারা।
সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে প্রায় ১৭ কিলোমিটার সড়ক সংস্কারের কাজ নেয় একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। প্রায় ২৬ কোটি টাকার এই প্রকল্পের কাজ ২০২৫ সালের নভেম্বরে শেষ হয়। কিন্তু কয়েক মাস না যেতেই সড়কের বিভিন্ন অংশে সমস্যা দেখা দেয়।
সরেজমিনে দেখা গেছে, পাগলাপীর থেকে রংপুর মেডিকেল মোড় পর্যন্ত সড়কের বিভিন্ন জায়গায় গর্ত, ফাটল এবং উঁচু-নিচু অবস্থা তৈরি হয়েছে। কোথাও পানি জমে থাকায় দুর্ঘটনার ঝুঁকিও বাড়ছে।
স্থানীয় বাসিন্দারা বলছেন, আগেও এই সড়কের সংস্কারকাজে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছিল। এমনকি কাজ চলাকালে সেনাবাহিনী অনিয়ম শনাক্ত করার ঘটনাও রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, প্রয়োজনের তুলনায় কম পাথর ব্যবহার এবং নিম্নমানের বিটুমিন দিয়ে কাজ করা হয়েছে।
তবে সড়ক বিভাগের পক্ষ থেকে এসব অভিযোগ অস্বীকার করা হয়েছে। তাদের দাবি, অতিরিক্ত ওজনের যানবাহন চলাচলের কারণেই সড়কের এই অবস্থা হয়েছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, নিয়মের বাইরে ভারী যান চলাচল নিয়ন্ত্রণ করা না গেলে সড়ক টেকসই রাখা কঠিন।
এ বিষয়ে সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) রংপুরের নেতারা বলছেন, যথাযথ তদারকি না থাকায় জনগণের অর্থ অপচয় হচ্ছে। একই সড়ক বারবার সংস্কার করতে হওয়া দায়িত্বে অবহেলারই ইঙ্গিত দেয়।
সওজের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ক্ষতিগ্রস্ত অংশগুলো পুনরায় সংস্কারের জন্য নতুন প্রকল্প নেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।