আগস্ট ১৯, ২০২৩, ১২:১২ পিএম
সংগৃহীত ছবি
বাংলাদেশের আসছে জাতীয় সংসদ নির্বাচন ইস্যু ও হাসিনা সরকারকে আবারও ক্ষমতায় রাখার সমর্থন চেয়ে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কাছে পাঠানো ভারতের বার্তা সত্যি হয়ে থাকলে সেটি দুঃখজনক বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। বার্তাটি সত্যি হলে বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে ভারত সরাসরি হস্তক্ষেপ করছে বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
শনিবার (১৯ আগস্ট) স্বেচ্ছাসেবক দলের ৪৩তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে জিয়াউর রহমানের মাজার জিয়ারত শেষে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।
আরও পড়তে পারেন: বাংলাদেশের হাসিনা সরকারকে দুর্বল করা হলে ক্ষতি সবার: ওয়াশিংটনকে নয়াদিল্লির বার্তা
মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, বাংলাদেশ ইস্যুতে যুক্তরাষ্ট্রের কাছে ভারতের পাঠানো চিঠির বিষয়টি সত্যি হলে তা হবে অপ্রত্যাশিত ও দুঃখজনক। ভারতের মত একটা গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের কাছে এটা আশা করা যায় না। দেশের মানুষ কি চায় নিশ্চয়ই সেটা ভারত তা দেখবে।
এ সময় বিএনপি মহাসচিব আরও বলেন, “ভারত যদি তার অবস্থানে অনড় থাকে তবে তা এ অঞ্চলের জন্য শুভকর হবে না। বাংলাদেশের রাজনৈতিক অভ্যন্তরীণ বিষয়ে ভারত হস্তক্ষেপ করতে পারে না। দেশে কখনই মৌলবাদের উত্থানের কোনো সম্ভাবনা নাই। কখনই ছিল না।”
তিনি বলেন, “আশা করবো ভারত বাংলাদেশের মানুষের যে গণতান্ত্রিক আকাঙ্ক্ষা তাকে মর্যাদা দেবে, সত্যিকার অর্থে সকল দলের অংশগ্রহণে যাতে গ্রহণযোগ্য নির্বাচন হয় সে বিষয়ে সমর্থন দেবে।”
প্রসঙ্গত, গতকাল শুক্রবার ভারতীয় গণমাধ্যম আনন্দবাজারের অনলাইন ভার্সনের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন সরকারকে দূর্বল করা হলে ভারত ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র কারোর জন্য সুখকর হবে না বলে ওয়াশিংটনকে বার্তা দিয়েছে নয়াদিল্লি। শুধুমাত্র বাংলাদেশের জন্য পৃথক একটি ভিসা নীতি ঘোষণা বাইডেন প্রশাসনের উচিত হয়নি বলেও মনে করে নরেন্দ্র মোদি প্রশাসন।
ওই প্রতিবেদনে বলা হয়, ‘শেখ হাসিনাকে দুর্বল করলে ক্ষতি সবার, বার্তা আমেরিকাকে’ শিরোনামে ওই প্রতিবেদনে বলা হয়, বাংলাদেশে হাসিনা সরকার দুর্বল হলে তা ভারত এবং আমেরিকা কারও পক্ষেই সুখকর হবে না বলে মনে করে নয়াদিল্লি। কূটনৈতিক সূত্রের খবর, একাধিক স্তরের বৈঠকে নয়াদিল্লি এ কথা জানিয়েছে বাইডেন প্রশাসনকে। সূত্রের খবর— বাংলাদেশের আসন্ন নির্বাচন নিয়ে আমেরিকার বর্তমান ভূমিকায় ভারত যে খুশি নয়, ওয়াশিংটনকে পৌঁছে দেওয়া হয়েছে সেই বার্তাও।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, ‘নয়াদিল্লির বক্তব্য, ঢাকায় সুষ্ঠু ও অবাধ নির্বাচন হোক এটা ওয়াশিংটনের মতো ভারতও চায়। কিন্তু যে ভাবে হাসিনা সরকারকে অস্থির করার জন্য আমেরিকার তরফ থেকে বিভিন্ন পদক্ষেপ দেখা যাচ্ছে, তা প্রতিবেশী রাষ্ট্র হিসাবে ভারত তথা দক্ষিণ এশিয়ার সার্বিক নিরাপত্তার জন্য ইতিবাচক নয়।’
এতে আরও বলা হয়, ‘আর তিন সপ্তাহ পরেই নয়াদিল্লিতে এক মঞ্চে বসবেন আমেরিকার প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন এবং বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তার আগে ভারতের এই বার্তা যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করা হচ্ছে। সাউথ ব্লক মনে করে, জামাতে ইসলামিকে ‘রাজনৈতিক ছাড়’ দেওয়া হলে অদূর ভবিষ্যতে ঢাকা মৌলবাদের দখলে চলে যাবে। উদার পরিবেশ যেটুকু রয়েছে, তা-ও আর থাকবে না।’