মার্চ ১৫, ২০২৬, ০৫:৫০ পিএম
ছবি: সংগৃহীত
দীর্ঘ প্রায় দুই দশকের আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের ইতি টানলেন পাকিস্তানকে চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি জেতানো অধিনায়ক সারফারাজ আহমেদ।
গত দুই বছরেরও বেশি সময় ধরে জাতীয় দলে সুযোগ পাচ্ছিলেন না সারফারাজ। ঘরোয়া ক্রিকেটেও পারফরম্যান্সে ধারাবাহিকতা ছিল না, পাশাপাশি বয়সও হয়েছে ৩৮। সব মিলিয়ে দেশের প্রতিনিধিত্ব করার সম্ভাবনা আর দেখছেন না বলেই আন্তর্জাতিক ক্রিকেটকে বিদায় জানানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছেন এই উইকেটকিপার-ব্যাটসম্যান।
দীর্ঘ সময় পাকিস্তানের হয়ে খেলতে পেরে গর্ব প্রকাশ করেন সারফারাজ। তিনি বলেন, ‘পাকিস্তানের প্রতিনিধিত্ব করতে পারা আমার জীবনের সবচেয়ে বড় সম্মান। ২০০৬ সালে অনূর্ধ্ব-১৯ দলকে বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন করা থেকে শুরু করে ২০১৭ সালে চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি জয়—পাকিস্তানের জার্সিতে কাটানো প্রতিটি মুহূর্তই ছিল স্পেশাল।’
অধিনায়কত্বের অভিজ্ঞতাকেও নিজের ক্যারিয়ারের বড় প্রাপ্তি হিসেবে উল্লেখ করেন তিনি। সারফারাজ বলেন, ‘তিন সংস্করণে অধিনায়কত্ব করা ছিল স্বপ্ন সত্যি হওয়ার মতো। সবসময় নির্ভীক ক্রিকেট খেলার এবং একটি ঐক্যবদ্ধ দল গড়ার চেষ্টা করেছি। বাবর আজম, শাহিন আফ্রিদি, হাসান আলির মতো ক্রিকেটারদের ম্যাচ উইনার হিসেবে গড়ে উঠতে দেখা আমার অন্যতম বড় প্রাপ্তি।’
২০২৩ সালের ডিসেম্বরে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে পার্থ টেস্টে শেষবারের মতো পাকিস্তানের হয়ে খেলেন সারফারাজ। এর প্রায় দুই বছর আগে ওয়ানডে ও টি-টোয়েন্টি সংস্করণে দেশের জার্সিতে সর্বশেষ দেখা যায় তাকে।
২০০৭ সালে ভারতের বিপক্ষে জয়পুরে ওয়ানডে ম্যাচ দিয়ে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অভিষেক হয় সারফারাজের। পাকিস্তানের হয়ে তিনি খেলেছেন ৫৪টি টেস্ট, ১১৭টি ওয়ানডে এবং ৬১টি টি-টোয়েন্টি। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ছয়টি সেঞ্চুরি ও ৩৫টি ফিফটিতে মোট ৬ হাজার ১৬৪ রান করেছেন এই ডানহাতি ব্যাটসম্যান। উইকেটের পেছনে গ্লাভস হাতে তার ঝুলিতে আছে ৩১৫টি ক্যাচ ও ৫৬টি স্টাম্পিং।
পাকিস্তানকে মোট ১০০টি আন্তর্জাতিক ম্যাচে নেতৃত্ব দিয়েছেন সারফারাজ—যার মধ্যে রয়েছে ৫০টি ওয়ানডে, ৩৭টি টি-টোয়েন্টি এবং ১৩টি টেস্ট। তার অধিনায়কত্বেই টি-টোয়েন্টি র্যাঙ্কিংয়ের শীর্ষে উঠেছিল পাকিস্তান এবং এই সংস্করণে টানা ১১টি সিরিজ জয়ের বিশ্বরেকর্ড গড়েছিল দলটি।
সারফারাজের ক্যারিয়ারের সবচেয়ে বড় সাফল্য ২০১৭ সালের আইসিসি চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি জয়। সেই আসরের ফাইনালে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ভারতকে ১৮০ রানে হারিয়ে আট বছরের আইসিসি শিরোপা খরা কাটায় পাকিস্তান।
এর আগে ২০০৬ সালের যুব বিশ্বকাপেও পাকিস্তানকে নেতৃত্ব দিয়ে শিরোপা জেতান তিনি। জাতীয় দল ও যুব দলের অধিনায়ক হিসেবে আইসিসি শিরোপা জেতা একমাত্র পাকিস্তানি ক্রিকেটারও সারফারাজ।
ক্রিকেটে অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে ২০১৮ সালে তাকে পাকিস্তানের ‘প্রাইড অব পারফরম্যান্স’ পুরস্কারে ভূষিত করা হয়। এই সম্মান পাওয়া সবচেয়ে কম বয়সী পাকিস্তান অধিনায়কও তিনি।