এপ্রিল ৪, ২০২৬, ১১:১২ এএম
অর্থনৈতিক চাপ সামাল দিতে সরকারি ব্যয় কমাতে একগুচ্ছ সাশ্রয়ী সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। এর অংশ হিসেবে সরকারি কর্মকর্তাদের সুদমুক্ত গাড়ি ঋণ সুবিধা আপাতত স্থগিত করা হয়েছে। একই সঙ্গে সরকারি যানবাহনের জ্বালানি ব্যবহার ৩০ শতাংশ কমানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
শুক্রবার মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের এক ব্রিফিংয়ে এসব সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়। এর আগে বৃহস্পতিবার রাতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান-এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার বৈঠকে এ সিদ্ধান্তগুলো নেওয়া হয়।
নতুন নির্দেশনা অনুযায়ী, পরবর্তী ঘোষণা না দেওয়া পর্যন্ত উপ-সচিব ও তদূর্ধ্ব কর্মকর্তাদের জন্য গাড়ি কেনায় সুদমুক্ত ঋণ সুবিধা বন্ধ থাকবে। পাশাপাশি সরকারি অর্থায়নে বিদেশ সফর ও প্রশিক্ষণ কার্যক্রমও স্থগিত করা হয়েছে।
ব্যয় কমানোর অংশ হিসেবে অভ্যন্তরীণ প্রশিক্ষণ ব্যয় ৫০ শতাংশ, সভা-সেমিনারের আপ্যায়ন ব্যয় ৫০ শতাংশ এবং কনফারেন্স সংক্রান্ত ব্যয় ২০ শতাংশ কমানোর সিদ্ধান্ত হয়েছে। ভ্রমণ খরচও কমানো হবে ৩০ শতাংশ পর্যন্ত।
এছাড়া সরকারি দপ্তরে বিদ্যুৎ ও গ্যাসের ব্যবহার কমানোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। সরকারি যানবাহনের জ্বালানি ব্যয় মাসিক ভিত্তিতে ৩০ শতাংশ কমিয়ে আনার লক্ষ্যে সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
সরকারি খাতে নতুন গাড়ি, জলযান, আকাশযান ও কম্পিউটার ক্রয়ও আপাতত বন্ধ রাখা হয়েছে। একই সঙ্গে সরকারি ভবনের সৌন্দর্যবর্ধন ব্যয় কমানো এবং ভূমি অধিগ্রহণ সাময়িকভাবে স্থগিত রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বৈশ্বিক পরিস্থিতির প্রভাবে অর্থনীতিতে চাপ বাড়ায় সরকারি ব্যয় নিয়ন্ত্রণে এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পরিস্থিতি বিবেচনায় ভবিষ্যতে আরও সাশ্রয়ী পদক্ষেপ আসতে পারে বলেও ইঙ্গিত মিলেছে।