বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের নিরাপত্তা, কর্মকর্তা-কর্মচারীদের শৃঙ্খলা, পেশাদারত্ব এবং সততা নিশ্চিত করার বিষয়ে বিশেষ বিজ্ঞপ্তি জারি করেছে সুপ্রিম কোর্ট প্রশাসন।
বুধবার (৮ জানুয়ারি) সুপ্রিম কোর্টের রেজিস্ট্রার জেনারেল মুহাম্মদ হাবিবুর রহমান সিদ্দিকী সই করা বিজ্ঞপ্তিতে কোর্টের দুর্নীতি বন্ধে বেশ কিছু হুঁশিয়ারি বার্তা দেওয়া হয়েছে।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, উপর্যুক্ত বিষয়ে নির্দেশিত হয়ে বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের নিরাপত্তা নিশ্চিত করাসহ, দাফতরিক কাজের গতিশীলতা এবং কর্মকর্তা-কর্মচারীদের শৃঙ্খলা, পেশাদারত্ব ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে নিম্নোক্ত নির্দেশনাগুলো বাধ্যতামূলকভাবে পালনের নির্দেশনা দেওয়া হলো।
ক. অফিসে উপস্থিতি ও প্রস্থান
১. সব কর্মকর্তা-কর্মচারীকে নির্ধারিত অফিস সময়সূচি অনুযায়ী সকাল ৯টায় কর্মস্থলে উপস্থিত থাকতে হবে।
২. অফিস ত্যাগের ক্ষেত্রে উপযুক্ত কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়া নির্ধারিত সময়ের আগে কোনও অবস্থাতেই কর্মস্থল ত্যাগ করা যাবে না।
৩. বিলম্ব উপস্থিতি এবং অনুমতি ছাড়া কর্মস্থল প্রস্থান ‘অসদাচারণ’ হিসেবে গণ্য হবে এবং সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
খ. নির্ধারিত ডেস্কে সার্বক্ষণিক উপস্থিতি ও পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা
১. সব কর্মকর্তা-কর্মচারীকে স্ব স্ব ডেস্কে সার্বক্ষণিক উপস্থিত থাকতে হবে, কোনও কাজ অনিষ্পন্ন রাখা যাবে না।
২. পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখতে হবে। ময়লা, আবর্জনা ও খাদ্য দ্রব্যের উচ্ছিষ্ট নির্দিষ্ট ডাস্টবিনে ফেলতে হবে।
গ. সুপ্রিম কোর্টের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা
১. সুপ্রিম কোর্ট অব বাংলাদেশ (হাইকোর্ট ডিভিশন) রুলস, ১৯৭৩ (সংশোধিত ১২ নভেম্বর, ২০১২) এর চ্যাপ্টার-XVIA এর বিধি ৩ এর দফা ৪ অনুযায়ী কোন ব্যক্তি, তিনি বারের সদস্য বা আইনজীবী সহকারী বা আদালতের কর্মী বা অন্য কোনও ব্যক্তি আদালত প্রাঙ্গণে বা আদালত ভবনের কোনও অংশে কোনও মিছিল, স্লোগান, প্রচার, সভা বা বিক্ষোভে অংশ নিতে পারবেন না।
২. সুপ্রিম কোর্ট প্রাঙ্গণে বৈধ ও অবৈধ যেকোনও প্রকার অস্ত্র, মারণাস্ত্র, বিস্ফোরক ও মাদকদ্রব্য বহন সম্পূর্ণরূপে নিষিদ্ধ করা হলো।
৩. নিরাপত্তা ও ট্রাফিক ব্যবস্থাপনার স্বার্থে নির্ধারিত পার্কিং ছাড়া রাস্তা, ভবনের গেটের সামনে গাড়ি ও রিকশা পার্ক করা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ।
ঘ. পোশাক রীতি
১. অফিস চলাকালীন সব কর্মকর্তা-কর্মচারীকে নির্ধারিত ফরমাল পোশাক পরতে হবে।
২. সব কর্মকর্তা-কর্মচারীকে অফিস আইডি কার্ড সঙ্গে বহন করে তা দৃশ্যমান রাখতে হবে।
ঙ. দুর্নীতি প্রতিরোধ ও সততা
১. বাংলাদেশ সুপ্রীম কোর্ট দুর্নীতির বিরুদ্ধে ‘শূন্য সহিষ্ণুতা’ (জিরো টলারেন্স) নীতি অবলম্বন করে।
২. সেবাগ্রহীতাদের সঙ্গে কোনও ধরনের আর্থিক লেনদেন বা অনৈতিক সুবিধা গ্রহণ সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ।
৩. কোনও কর্মকর্তা-কর্মচারীর বিরুদ্ধে দুর্নীতির প্রমাণ পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট বিধিমালা অনুযায়ী তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নিতে হবে।
চ. তদারকি
১. সংশ্লিষ্ট শাখা প্রধানরা এবং শাখার দায়িত্বপ্রাপ্ত সহকারী রেজিস্ট্রাররা নিয়মিতভাবে হাজিরা খাতা এবং ড্রেস কোড পর্যবেক্ষণ করবেন।
২. সংশ্লিষ্ট ডেপুটি রেজিস্ট্রার কর্তৃক আকস্মিক পরিদর্শনের মাধ্যমে এই নির্দেশনা বাস্তবায়ন নিশ্চিত করতে হবে।
বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, এই আদেশ অবিলম্বে কার্যকর হবে।