জাতীয় নাগরিক পার্টি

ভোট না দেয়া প্রজন্মকে টার্গেটের পরামর্শ সমর্থকদের

দ্য রিপোর্ট ডেস্ক

ফেব্রুয়ারি ২৮, ২০২৫, ১০:১৩ পিএম

ভোট না দেয়া প্রজন্মকে টার্গেটের পরামর্শ সমর্থকদের

ভোট ব্যাংকগুলোর মন জয় করতে পারলেই নির্বাচনে সফলতা আসবে বলে জানায় সমর্থকরা।

বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতাদের উদ্যোগে আত্মপ্রকাশ করা নতুন রাজনৈতিক দল ‘জাতীয় নাগরিক পার্টি’। ‘সেকেন্ড রিপাবলিক’ প্রতিষ্ঠা করার লক্ষ্য ঘোষণা দিলেও ভোটের রাজনীতিতে কতটা সফল হবে এই নিয়ে জনমনে প্রশ্ন। তবে নতুন রাজনৈতিক দলের সমর্থকরা আশা করছে ভোট না দেয়া প্রজন্মে মাধ্যমেই নির্বাচনে বাজিমাত করতে পারবে দলটি।

গুলশান থেকে নাগরিক পার্টির আত্মপ্রকাশে অংশগ্রহণ করা আব্দুর রহিম জানান, ২০০০ সাল থেকে জন্ম নেয়া কেউ এখন পর্যন্ত সুষ্ঠু ভোট দিতে পারেনি। এই ভোট ব্যাংকগুলোর মন জয় করতে পারলেই নির্বাচনে সফলতা আসবে।

তিনি আরও বলেন, ২৪ এর গণজোয়ার দেখে অনেকেই ছাত্রদের রাজনৈতিক দলের প্রতি আশা রাখছে। ঠিক আমিও এই আশা রেখেছি।
আত্মপ্রকাশের অনুষ্ঠানে মানিক মিয়া এভিনিউতে সরেজমিনে দেখা যায়, কোন ধরনের রাজনীতির সাথে সম্পৃক্ততা না থাকলেও দুপুর থেকেই আসতে শুরু করেছেন দেশের বিভিন্ন প্রান্তের লোক। অনেকেই পরিবার পরিজন নিয়ে আসছেন। স্টেজ ও সামনে ঘুরে দেখছেন। তেমনি একজন তাহেরা আক্তার। ধানমন্ডি থেকে নিজের পোষা পায়রা ও মায়ের সাথে এসেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির আত্মপ্রকাশ দেখতে।

তাহেরা দ্য রিপোর্ট ডট লাইভকে বলেন, আমাদের পুরাতন রাজনীতি আর চলে না নতুন কিছু চাই। আমার কবুতরটাও জেন আলফা। ফলে নতুন প্রজন্ম কি ভাবছে কিভাবে এগিয়ে যাবো সেই চিন্তা করা উচিৎ।

গোপালগঞ্জ থেকে আসা আরিফুল দালিয়া বলেন, আমাদের জেলাকে কুক্ষীগত করে রাখা হয়েছে। বিএনপির সময় এক নজর আবার আওয়ামী লীগের সময় ভিন্ন নজর এরে কোনটি কাম্য নয়। বাংলাদেশের প্রতিটি জেলা প্রয়োজন অনুসারে উন্নত হবে এই আশা করছি। নতুন প্রজন্ম আইন ও সাম্যের দিকটা বজায় রাখবে বলে আশা করছি।

দিনাজপুর থেকে আগত প্রীতি আফরোন নিশি বলেন, নতুন দলটি প্রতিষ্ঠার আগেই জনপ্রিয়তা পেয়েছে। বৈষম্যহীন দেশ গড়তে তারা যেহেতু নেতৃত্ব দিয়েছে তাই আগামীতেও ভরসা রাখা যায়। অন্য রাজনৈতিক দলগুলো যেন শিক্ষা নিতে পারে। আশা করি দেশে নির্বাচনের মাধ্যমে জনগণ নতুন দলের প্রতি আস্থা রাখবে।

রাজধানীর মানিক মিয়া অ্যাভিনিউয়ে নাগরিক পার্টির আত্মপ্রকাশ অনুষ্ঠানে আজ সন্ধ্যা সোয়া ছয়টার দিকে দলের কমিটি ঘোষণা শুরু হয়। আহ্বায়ক ও সদস্যসচিবের নাম ঘোষণার পর দলের আংশিক অর্গ্যানোগ্রাম পড়ে শোনান আখতার হোসেন। কমিটিতে মোট ১৫১টি পদ রয়েছে।

আখতার হোসেন বলেন, নতুন দলের জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক পদে রয়েছেন সামান্তা শারমিন ও আরিফুল ইসলাম আদীব। জ্যেষ্ঠ যুগ্ম সদস্যসচিব পদে রয়েছেন তাসনিম জারা ও নাহিদা সারওয়ার নিভা৷ মুখ্য সংগঠক (দক্ষিণাঞ্চল) পদে রয়েছেন হাসনাত আবদুল্লাহ এবং মুখ্য সংগঠক (উত্তরাঞ্চল) পদে রয়েছেন সারজিস আলম।

আখতার হোসেন আরও জানান, নতুন দলের মুখ্য সমন্বয়ক পদে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী, জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মুখ্য সমন্বয়ক পদে আবদুল হান্নান মাসউদ দায়িত্ব পালন করবেন। পরে দলের যুগ্ম আহ্বায়ক, যুগ্ম সদস্যসচিব ও যুগ্ম মুখ্য সংগঠকদের নাম ঘোষণা করেন তিনি।

জুলাইয়ের গণ-অভ্যুত্থান সেকেন্ড রিপাবলিক প্রতিষ্ঠার লড়াইয়ের সূচনা করেছে বলে মন্তব্য করে জাতীয় নাগরিক কমিটির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম বলেন, ‘একটি গণতান্ত্রিক নতুন সংবিধান প্রণয়নের মাধ্যমে আমাদের সাংবিধানিক স্বৈরতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠার সব সম্ভাবনার অবসান ঘটাতে হবে। আমাদের সেকেন্ড রিপাবলিক প্রতিষ্ঠার জন্য গণপরিষদ নির্বাচনের মাধ্যমে একটি নতুন সংবিধান প্রণয়ন আমাদের অন্যতম প্রাথমিক লক্ষ্য।’

সেকেন্ড রিপাবলিক কেমন হবে, তার রূপরেখাও লিখিত বক্তব্যে তুলে ধরেছেন নাহিদ ইসলাম। তিনি বলেন, জাতীয় স্বার্থ সুরক্ষায় শক্তিশালী প্রতিরক্ষাব্যবস্থা গড়ে তোলা হবে। ভেঙে পড়া রাজনৈতিক, সামাজিক, অর্থনৈতিক ও সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠানগুলো পুনরায় গড়ে তোলা এবং সেগুলোর গণতান্ত্রিক চরিত্র রক্ষা করা হবে তাঁদের রাজনীতির অগ্রাধিকার। এর মধ্য দিয়েই একটি পরিপূর্ণ গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র হিসেবে আবির্ভূত হওয়া যাবে বলে উল্লেখ করেন নাহিদ ইসলাম।

 

Link copied!