কার স্বাক্ষরে বিএনপির মনোনয়ন ফরম,জানতে চেয়েছিল ইসি

নিজস্ব প্রতিবেদক

নভেম্বর ১৮, ২০২৩, ১০:৪৭ এএম

কার স্বাক্ষরে বিএনপির মনোনয়ন ফরম,জানতে  চেয়েছিল  ইসি

বিএনপিসহ ৪৪ দলকে ইমেইলের মাধ্যমে পৃথক পৃথকভাবে চিঠি দিয়েছে ইসি।

কার স্বাক্ষরে আসন্ন দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মনোনয়নপত্র কিনবে বিএনপি। দলটির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া দুর্নীতি মামলায় সাজা ভোগ করছেন। অপর দিকে দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরও কারাবন্দি। এমন অবস্থায় ইসি থেকে মনোনয়ন সংগ্রহ করবেন কে? এদিকে একই বিষয় জানতে চেয়ে বিএনপিকে চিঠি দিয়েছে নির্বাচন কমিশন। শনিবার নির্বাচন কমিশন থেকে এ তথ্য জানা গেছে।

চিঠিতে বিএনপি ও অন্য রাজনৈতিক দল থেকে মনোনীতদের মনোনয়ন দেওয়ার ক্ষমতা এবং প্রতীক বরাদ্দ প্রসঙ্গে জানতে চেয়েছে ইসি। একই সঙ্গে নিবন্ধিত রাজনৈতিক দলের সঙ্গে জোটভুক্ত নির্বাচন ও দলীয় বা জোটের প্রার্থীর মনোনয়নের বিষয়ে জানাতেও বিএনপিকে চিঠি দিয়েছে ইসি।

বৃহস্পতিবার ইসির উপসচিব (নির্বাচনী সহায়তা ও সমন্বয়) মো. মাহবুব আলম শাহ বিএনপিসহ ৪৪ দলকে ইমেইলের মাধ্যমে পৃথক পৃথকভাবে চিঠি দিয়েছেন।

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) এখনও নির্বাচনে না আসার বিষয়ে অটল রয়েছে। এক দফা দাবিতে যুগপৎভাবে আন্দোলনের নেতৃত্ব দিচ্ছে দলটি। তফসিল ঘোষণার পর নতুন করে কর্মসূচিও ঘোষণা করেছে সরকারবিরোধী জোট। রবিবার থেকে সারা দেশে ৪৮ ঘণ্টার হরতাল পালনের ঘোষণা দিয়েছে দলটি। এরই মধ্যে বিএনপিকে চিঠি দিয়েছে নির্বাচন কমিশন।

চিঠিতে ইসি উল্লেখ করেছে, ‘গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ, ১৯৭২ এর ১২(৩ক) দফা(২) এর অধীন প্রত্যেক মনোনয়নপত্রের সঙ্গে দলিলাদি সংযুক্ত করতে হবে। নিবন্ধিত রাজনৈতিক দলের পক্ষে সভাপতি বা সাধারণ সম্পাদক বা সমপর্যায়ের পদাধিকারী মাধ্যমে স্বাক্ষরিত এই মর্মে একটি প্রত্যয়নপত্র দিতে হবে, প্রার্থীকে ওই দলের পক্ষ থেকে মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে। তবে শর্ত থাকে, কোনো নিবন্ধিত দলের পক্ষ থেকে প্রাথমিকভাবে একাধিক প্রার্থীকে মনোনয়ন দেওয়া যাবে। একের অধিক প্রার্থীকে মনোনয়ন দেওয়া হলে তাদের প্রার্থিতা অনুচ্ছেদ ১৬ এর দফা (২) সাপেক্ষ হবে।’

‘১৬(২) যেক্ষেত্রে কোনো নিবন্ধিত রাজনৈতিক দলের মাধ্যমে একাধিক প্রার্থীকে মনোনয়ন দেওয়া হয়, সেক্ষেত্রে দলের সভাপতি বা সাধারণ সম্পাদক বা এ ধরনের পদধারী কোনো ব্যক্তি থেকে স্বাক্ষরিত একটি লিখিত নোটিশ দিতে হয়। প্রার্থিতা প্রত্যাহারের তারিখে বা এর পূর্বে তিনি স্বয়ং বা ক্ষমতাপ্রাপ্ত কোনো ব্যক্তির মাধ্যমে রিটার্নিং অফিসারকে কোনো প্রার্থীর চূড়ান্ত মনোনয়ন সম্পর্কে অবহিত করবেন। ওই দলের অন্যান্য প্রার্থীর প্রার্থিতা স্থগিত হবে।’

চিঠিতে ইসি জানায়, ‘আপনার দলের যে পদধারীর স্বাক্ষরে কোনো প্রার্থীকে আপনার দলের প্রতীকে কোনো আসনে মনোনয়ন দেওয়ার ক্ষেত্রে আরপিওর আর্টিকেল ১২(৩এ)বি) এবং ১৬(২)(৩) অনুযায়ী মনোনয়ন প্রদান করা হবে, সে পদধারীর নাম, পদবি ও সত্যায়িত নমুনা স্বাক্ষর সংশ্লিষ্ট রিটার্নিং অফিসারের কাছে পাঠাতে অনুরোধ করা হলো। নির্বাচন কমিশন সচিবালয়কে এগুলোর অনুলিপি পাঠাতে অনুরোধ করা হলো।’

এদিকে চিঠির জবাব দিতে শুরু করেছে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল। সংসদে থাকা বিরোধীদলের পক্ষ থেকেও ইসির চিঠির জবাব দেওয়া হয়েছে। চিঠিতে জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান জি এম কাদের নির্বাচনে অংশ নিবেন বলে জানিয়েছে। অপরদিকে জাতীয় পার্টির (জাপা) প্রধান পৃষ্ঠপোষক রওশন এরশাদ আগামী নির্বাচনে মহাজোটের অংশ হয়ে নির্বাচন করবেন বলে জানিয়েছেন।

আওয়ামী লীগের সাথে জোটে রওশনপন্থী জাতীয় পার্টি

আসন্ন দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের সঙ্গে জোটবদ্ধভাবে অংশগ্রহণ করবে রওশনপন্থী জাতীয় পার্টি। নির্বাচন কমিশন ভবনে চিঠি দেয়ার মাধ্যমে এ কথা জানান বিরোধী দলীয় নেতা রওশন এরশাদের মুখপাত্র কাজী মামুনুর রশিদ। 

এ সময় তিনি বলেন, ‍‍`গতকাল আমাদের ফোরামে আলোচনা হয়েছে। সেখানে সিদ্ধান্ত হয়েছে জাতীয় পার্টি আওয়ামী লীগের সাথে জোটবদ্ধ হয়ে নির্বাচন করবে। আমরা আশা করি জিএম কাদেরও এই নির্বাচনে অংশ নিবে।‍‍`

রওশন এরশাদের মুখপাত্র কাজী মামুনুর রশীদ বলেন, ‍‍`আমরা প্রাথমিকভাবে সিদ্ধান্ত হয়েছে ৩০০ আসনে প্রার্থী দেওয়া হবে। পরে আওয়ামীলীগের সাথে জোট হলে পরে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। 

তিনি আরও বলেন, আমরা আশা করি জিএম কাদেরও এই নির্বাচনে অংশ নিবে। নির্বাচনে অংশগ্রহন করবে। আর না হলে রাজনীতি থেকে হারিয়ে যাবে।‍‍`

সকালে জাতীয় পার্টির অন্য একটি অংশ মনোনয়নপত্র দেওয়ার ক্ষমতার বিষয় একটি চিঠি নির্বাচন কমিশনে দিয়েছে, এ বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‍‍`জাতীয় পার্টির অন্য কোন অংশ নাই। রওশন এরশাদ যেখানে থাকবে সেটাই জাতীয় পার্টি। জাতীয় পার্টিতে মনোনয়নপত্র রওশন এরশাদ এর স্বাক্ষরেই হবে।‍‍`

রওশনপন্থী জাতীয় পার্টির চিঠিতে বলা হয়েছে, আসন্ন দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনে জাতীয় পার্টি বিগত ৩ টি জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ধারাবাহিকতায় এবারও চতুর্থবারের মতো বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন মহাজোটের শরীক দল হিসেবে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছি। এটা হবে শুধু মাত্র নির্বাচনী জোট। নির্বাচন অন্তে জাতীয় পার্টির নির্বাচিত সংসদ সদস্যগণ দলীয় সিদ্ধান্ত অনুসরন করবেন। এই নির্বচনে জাতীয় পার্টির মনোনীত প্রার্থীরা দলীয় প্রতিক “লাঙ্গল” কিংবা প্রার্থীর ইচ্ছানুসারে মহাজোটে জোটবদ্ধ হয়ে নির্বাচন করতে পারবেন। এই ব্যপারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য অনুরোধ করছি।

জি এম কাদের দিবে জাতীয় পার্টির মনোনয়ন

জাতীয় পার্টির মহাসচিব মুজিবুল হক চুন্নু স্বাক্ষরিত বাংলাদেশ জাতীয় পার্টির চিঠিতে বলা হয়, গত ১৬ নভেম্বর ইসির উপ সচিব মোঃ মাহবুব আলম শাহ স্বাক্ষরিত জানানো হয় গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ, ১৯৭২ এর ১২.(৩ক) দফা (২) এর অধীন প্রত্যেক মনোনয়নপত্রের সঙ্গে দলিলাদি সংযুক্ত করতে হবে। নিবন্ধিত রাজনৈতিক দলের পক্ষে সভাপতি বা সাধারণ সম্পাদক বা সমপর্যায়ের পদাধিকারী মাধ্যমে স্বাক্ষরিত এই মর্মে একটি প্রত্যয়নপত্র দিতে হবে। 

যে প্রার্থীকে উক্ত দলের পক্ষ হইতে মনোনয়ন দেয়া হয়েছে। তবে শর্ত থাকে যে, কোনো নিবন্ধিত দলের পক্ষ হতে প্রাথমিকভাবে একাধিক প্রার্থীকে মনোনয়ন দেয়া যাবে এবং একের অধিক প্রার্থীকে মনোনয়ন দেয়া হলে হইলে তাহাদের প্রার্থিতা অনুচ্ছেদ ১৬ এর দফা (২) সাপেক্ষ হবে। 

চিঠিতে আরো বলা হয়, মনোনীত প্রার্থী নির্বাচনে জাতীয় পার্টির ক্ষমতাপ্রাপ্ত ব্যক্তি হিসেবে দলের প্রার্থী মনোনয়ন ও প্রতীক বরাদ্ধ করবেন- জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান গোলাম মোহাম্মদ কাদের।

এদিকে এক ভিডিও বার্তায় জাতীয় পার্টি মহাসচিব মুজিবুল হক চুন্নু গণমাধ্যমকে বলেছেন, আমরা এখনও সংলাপ চাই। সংলাপ ছাড়া জাতীয় পার্টি নির্বাচনে যাবে কি যানে না, তা দুই -এক দিনে পার্টি নেতাদের সাথে বৈঠক করে সিদ্ধান্ত নেয়া হবে।

Link copied!