করোনাভাইরাসের সংক্রমণ পরিস্থিতি অনেকটা নিয়ন্ত্রণে থাকায় দেশে প্রথম ধাপের ১৬০ ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) ও ৯ পৌরসভা নির্বাচনে ভোটগ্রহণ চলছে। সোমবার(২০ সেপ্টেম্বর)সকাল ৮টা থেকে পৌরসভা ও ১১ ইউনিয়ন পরিষদে ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিনে (ইভিএম) ভোটগ্রহণ শুরু হয়। একটানা ভোটগ্রহণ চলবে বিকাল ৪টা পর্যন্ত।
নির্বাচন কমিশন সূত্রে জানা যায়, ৩টি পৌরসভায় মেয়র, ৪৪ ইউনিয়ন পরিষদ(ইউপি) চেয়ারম্যান, ৩৯ ইউপি সদস্য এবং সাতজন সংরক্ষিত সদস্য বিনাপ্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়েছেন। বিনাপ্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিতদের বাদে ইউপিতে ৮ হাজার ৭১০ ও পৌরসভায় ৪৮৬ প্রার্থী লড়ছেন।
তফসিল ঘোষণার ছয় মাসের বেশি সময় পর এসব ইউনিয়ন পরিষদ ও পৌরসভায় ভোট হতে হচ্ছে। গত ১১ এপ্রিল ভোট হওয়ার কথা থাকলেও রোনাভাইরাস সংক্রমণের কারণে দুই দফায় নির্বাচন পিছিয়ে যায়। যদিও এর আগে প্রথম ধাপের ২০৪ ইউপিতে ভোট হয় ২১ জুন। ৫টিতে প্রার্থী মারা যাওয়ায় এবং সেন্টমার্টিন ইউপিতে যাতায়াত সমস্যা থাকায় সেগুলোতে এ মুহূর্তে ভোট হচ্ছে না। আজ ১৬১টিতে ভোট হওয়ার কথা থাকলেও উচ্চ আদালতের নির্দেশনার কারণে বাগেরহাটের মোরেলগঞ্জ উপজেলার নিশানবাড়িয়া ইউপির ভোট স্থগিত করেছে ইসি।
এক নজরে ১৬০ ইউপি নির্বাচন
নির্বাচন কমিশন সূত্রে জানা যায়, ছয় জেলার ২৩ উপজেলার ১৬০ ইউনিয়ন পরিষদের ৪৪টিতে চেয়ারম্যান পদে আওয়ামী লীগ প্রার্থীরা বিনাপ্রতিদ্বন্দ্বিতায় জয়লাভ করেছেন। বাকি ১১৬ ইউপিতে চেয়ারম্যান পদে ৫০০ জন প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। ১৬০ ইউপির এক হাজার ৪৪০টি সাধারণ সদস্য পদের মধ্যে ৩৯টিতে বিনাপ্রতিদ্বন্দ্বিতায় জয় হওয়ায় বাকিগুলোতে ভোট হচ্ছে। এসব পদে ৬ হাজার ২৪৫ জন প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। একইভাবে এসব ইউপির ৪৮০ সংরক্ষিত সদস্য পদে সাতজন বিনাপ্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়েছেন। বাকি ৪৭৩ পদে এক হাজার ৯৪১ জন লড়াই করছেন। সব মিলিয়ে ১৬০ ইউপিতে ৮ হাজার ৭১০ প্রার্থী লড়ছেন।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তৎপরতা
ইউপি নির্বাচনে পুলিশ-আনসার সমন্বয়ে ১৬৪টি মোবাইল টিম ও ৫৩টি স্ট্রাইকিং টিম মোতায়েন রয়েছে। এ ছাড়া র্যাবের ৩২০টি টিম, স্ট্রাইকিং ১৬০টি টিম ও অতিরিক্ত ১১টি টিম রয়েছে। বিজিবির ৩২০ প্লাটুন মোবাইল, ১৬০ প্লাটুন স্ট্রাইকিং ও অতিরিক্ত ১৭ প্লাটুনও মাঠে রয়েছে। কক্সবাজার, বাগেরহাট ও খুলনার উপকূলীয় ইউপিগুলোতে বিজিবির বদলে কোস্টগার্ড সদস্য রাখা হয়েছে।
আচরণবিধি প্রতিপালনে ৬৯ নির্বাহী ও ২৩ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটও রয়েছেন। প্রতিটি ভোটকেন্দ্রের পাহারায় পুলিশ ও আনসারের ২২ সদস্য মোতায়েন থাকছে।
৯ পৌরসভায় নির্বাচন
নির্বাচন কমিশন সূত্রে জানা গেছে, ৬ষ্ঠ ধাপের ৯ পৌরসভার মধ্যে লাঙ্গলকোট, বোয়ালখালী ও কবিরহাট পৌরসভায় মেয়র পদে আওয়ামী লীগের প্রার্থীরা বিনাপ্রতিদ্বন্দ্বিতায় জয় পেয়েছেন। বাকি ছয় পৌরসভায় ২৭ মেয়র পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। ৯ পৌরসভার ৮১টি সাধারণ ওয়ার্ডে কাউন্সিলর পদে ৩৬৭ ও ২৭টি সংরক্ষিত কাউন্সিলর পদে ৯২ জন প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। সব মিলিয়ে পৌরসভায় ৪৮৬ জন প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। পৌরসভাগুলোতে ভোটার রয়েছেন ২ লাখ ৭৬ হাজার ৮৪২ জন।
পৌরসভা নির্বাচনে প্রতিটি সাধারণ কেন্দ্রে ১১ জন ও গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রে ১৩ জন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য মোতায়েন রাখা হয়েছে। আচরণবিধি প্রতিপালনে প্রতিটি ওয়ার্ডে একজন করে ৮১ নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও প্রতি পৌরসভায় একজন করে ৯ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটও রয়েছেন। কেন্দ্রের বাইরের আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় ৯ পৌরসভায় পুলিশের ২৭টি মোবাইল টিম, ৯ স্ট্রাইকিং টিম, র্যাবের ২৭ টিম ও ২০ প্লাটুন বিজিবি মাঠে রয়েছেন।
এর আগে, নির্বাচনের প্রস্তুতির বিষয়ে শনিবার (১৮ সেপ্টেম্বর) বিকেলে প্রেস ব্রিফিংয়ে ইসিরসচিব মো. হুমায়ুন কবীর খোন্দকার বলেন, আমরা যে প্রস্তুতি নিয়েছি তাতে আশা করতে পারি— স্বচ্ছ, অবাধ, নিরপেক্ষ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। আমরা বলতে পারি, ভোট সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ হবে।
বিভিন্ন স্থানে সহিংসতা প্রসঙ্গে ইসি সচিব বলেন, এটি আমরা দেখছি। জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার ও রিটার্নিং কর্মকর্তাদের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে বলেছি। তারাও আমাদের কথা দিয়েছেন।