আগস্ট ৯, ২০২৩, ০২:৪৯ পিএম
ফাইল ছবি
বাংলাদেশের প্রাপ্তবয়স্ক জনগণের ৫৩ শতাংশ মানুষই মনে করেন দেশ চলছে ভুল পথে। তবে নিজ দায়িত্ব ঠিকমতোই পালন করছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। মার্কিন প্রতিষ্ঠান ইন্টারন্যাশনাল রিপাবলিকান ইনস্টিটিউটের (আইআরআই) সেন্টার ফর ইনসাইট ইন সার্ভে রিসার্চ (সিআইএসআর) পরিচালিত এক জরিপ থেকে এ তথ্য জানা গেছে।
১৮ বছর থেকে ৫৬ বছরের বেশি মোট ৫ হাজার লোককে নমুনা হিসেবে বাছাই করে এই জরিপ চালানো হয়। ৫ হাজার জনের মধ্যে পুরুষ ২ হাজার ৬৩৩ জন এবং নারী ২ হাজার ৩৬৭ জন। অঞ্চল বিবেচনায় অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে গ্রামাঞ্চলের ৩ হাজার ৪৫০ জন এবং বাকি ১ হাজার ৫৫০ জন শহরের বাসিন্দা।
জরিপ বলছে, দেশের মাত্র ৪৪ শতাংশ মানুষ মনে করেন দেশ সঠিক পথে চলছে। বিপরীতে ৫৩ শতাংশ মানুষই মনে করেন, দেশ ভুল পথে চলছে। এর বাইরে ৩ শতাংশ মানুষ এ বিষয়ে দ্বিধাগ্রস্ত বা কোনো উত্তর দেননি।
এদিকে জরিপে উঠে এসেছে শতকরা ৭০ জন বাংলাদেশি প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শেখ হাসিনার অবস্থানকে সমর্থন করেন।
জরিপে দেখা গেছে, আসন্ন দ্বাদশ জাতীয় নির্বাচনের আগে সরকার জনসমর্থন ধরে রাখলেও বাড়ছে বিরোধীদের জনসমর্থনও।
অর্থাৎ শেখ হাসিনা ভালো করলেও দল হিসেবে বিরোধীরা বেশ জনসমর্থন পাচ্ছে। যেখানে ২০১৯ সালে বিরোধীদের জনসমর্থন ছিল মাত্র ৩৬ শতাংশ। সেখানে বর্তমানে সেই সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৬৩ শতাংশে।
নির্বাচন নিয়ে প্রশ্নে বাংলাদেশিরা জানান, স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ হলে আগামী জাতীয় নির্বাচনে তারা ভোট দিতে আগ্রহী। উত্তরদাতাদের ৯২ শতাংশই বলেছেন যে, তাঁরা পরবর্তী জাতীয় নির্বাচনে ভোট দিতে চান। তবে এর মধ্যে ৫৭ শতাংশ উত্তরদাতা বলেছেন, তাঁরা ‘খুব সম্ভবত’ ভোট দিতে পারবেন। যাঁরা ভোট দিতে চান না, তাঁরা মূলত নির্বাচনে জালিয়াতি এবং ভোটার নিবন্ধনসংক্রান্ত সমস্যাকে ভোটদানের ক্ষেত্রে প্রধান বাধা হিসেবে উল্লেখ করেছেন।
এদিকে, বাংলাদেশে তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থাকে সমর্থন করে ৪৪ শতাংশ জনগণ। জরিপে অংশ নেওয়া সংখ্যাগরিষ্ঠ একটি অংশ বিশ্বাস করে যে, নির্বাচন প্রশাসন নির্বিশেষে বিরোধীদের নির্বাচনে যোগ দেওয়া উচিত।
জরিপের ফলাফলের ওপর মন্তব্য করতে গিয়ে আইআরআইয়ের দক্ষিণ এশিয়া চ্যাপ্টারের পরিচালক স্টিভ সিমা বলেন, ‘অবাধ, সুষ্ঠু ও প্রতিযোগিতামূলক নির্বাচনের জন্য এমন জনসমর্থন দেখা সত্যই উৎসাহজনক। এই ফলাফল আসন্ন শীতে ব্যালট বাক্সে নিজেদের সত্যিকারের পছন্দকে বাছাই করার ক্ষেত্রে বাংলাদেশিদের মৌলিক আকাঙ্ক্ষার বহিঃপ্রকাশের ওপর জোর দেয়।’
২০১৪ সালের পর এই প্রথমবার বাংলাদেশ নিয়ে জরিপ চালিয়েছে আইআরআই।