আবারও আলোচনায় ২৮ অক্টোবর

উন্নয়ন কর্মসূচি পিছিয়ে সর্বাত্মক শক্তির মহড়া দেখাবে আওয়ামী লীগ

মাহাবুব আলম শ্রাবণ

অক্টোবর ২২, ২০২৩, ০২:০৫ এএম

উন্নয়ন কর্মসূচি পিছিয়ে সর্বাত্মক শক্তির মহড়া দেখাবে আওয়ামী লীগ

২৮ অক্টোবরের শান্তি ও উন্নয়ন সমাবেশ বাস্তবায়ন করতে সর্বাত্মক প্রস্তুতি নিচ্ছে আওয়ামী লীগ। ছবি: দ্য রিপোর্ট ডট লাইভ

দেশের রাজনীতিতে আবারও আলোচনায় এসেছে ২৮ অক্টোবর। ২০০৬ সালে এই দিনে আওয়ামী লীগের লগি-বৈঠা মিছিলে বিএনপি-জামায়াতের ও পুলিশের সাথে সংঘর্ষ হয়। তবে সময়ের আবর্তনে এখন আওয়ামী লীগ কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে মহানগর আওয়ামী লীগ, সহযোগী সংগঠন, দলীয় সংসদ সদস্য ও কাউন্সিলরদের প্রতিও কড়া নির্দেশনা দিয়েছে।

এমনকি ওয়ার্ড ও ইউনিটভিত্তিক কর্মসূচিতেও এই নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। সমাবেশকে ঘিরে যেন কোনো নাশকতা না হয় এজন্য গলিতে গলিতে নেতা-কর্মীদের পাহারার ব্যবস্থা থাকবে। যার ফলে কর্ণফুলী টানেল ও মেট্রোরেল (আংশিক) উদ্বোধনের কর্মসূচি পিছিয়ে নিয়েছে ক্ষমতাসীন দলটি।

আলোচনায় লগি-বৈঠা

আগামী ২৮ অক্টোবর বিএনপি ও আওয়ামী লীগের পাল্টাপাল্টি কর্মসূচি নিয়ে নতুন করে আলোচনায় আসছে লগি-বৈঠা। ইতিহাস বলছে, ২০০৬ সালের ২৭ অক্টোবর রাত ১২টার পর অষ্টম জাতীয় সংসদের বিলুপ্তি ঘটে। ২৮ অক্টোবর ছিল বিএনপির নেতৃত্বে চারদলীয় জোট সরকারের শেষ দিন। সেদিন ‘লগি-বৈঠা’ নিয়ে বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউতে সমাবেশ করে আওয়ামী লীগসহ ১৪ দলীয় জোট। কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে বিএনপি-জামায়াত ও পুলিশের সাথে ব্যাপক সংঘর্ষ ও হতাহতের ঘটনা ঘটেছিল, যা দেশব্যাপী আলোচিত হয়। 

দেশের বড় দুই রাজনৈতিক দলের পাল্টাপাল্টি সমাবেশ, আসন্ন ২৮ অক্টোবরকে ঘিরে জনমনে জন্ম দিয়েছে নানা শঙ্কার। আর এই লগি-বৈঠার কথাও কর্মসূচিতে বলছেন বিভিন্ন রাজনীতিবিদরা। 

গত শুক্রবার ছাত্র যুব আন্দোলনের সমাবেশে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের সিনিয়র নায়েবে আমির মুফতি সৈয়দ মুহাম্মদ ফয়জুল করীম লগি-বৈঠার কথা তুলে বলেন, লগি-বৈঠা দিয়ে আর ক্ষমতায় আসা যাবে না। এবার জনগণ তা প্রতিহত করবে।

‘ক্ষমতায় এসে আপনারা আবরারকে খুন করেছেন। দেশকে লুটপাট করার ষড়যন্ত্র করেছেন। আমরা আন্দোলন-সংগ্রাম করব। যখন আন্দোলনের আহ্বান আসবে তখনই আমাদের আন্দোলনের ময়দানে নামতে হবে। বিশ্রামের কোনো সময় নেই।’

অল আউট পরিস্থিতিতে আওয়ামী লীগ

২৮ অক্টোবরের শান্তি ও উন্নয়ন সমাবেশ বাস্তবায়ন করতে সর্বাত্মক প্রস্তুতি নিচ্ছে আওয়ামী লীগ।

এদিনের কর্মসূচির সাথে সমন্বয় করতে ২৭ অক্টোবর শুক্রবারের ঢাকা মহানগর উত্তর আওয়ামী লীগের প্রতিনিধি সভা পিছিয়ে আনা হয়েছে ২৫ অক্টোবরে। পরিবর্তন আসতে পারে ২৮ অক্টোবর অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া কর্ণফুলী টানেলের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানেও। এমনকি ২৯ অক্টোবর মেট্রোরেলের আগারগাঁও থেকে মতিঝিল লাইনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানও পেছান হয়েছে।

২৮ অক্টোবরের সমাবেশের বিষয়ে আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য মোস্তফা জালাল মহিউদ্দিন দ্য রিপোর্ট ডট লাইভকে জানান, আন্দোলনের নামে দেশে বিএনপির কোনো ধরনের নৈরাজ্য কিংবা বিশৃঙ্খলা মেনে নেওয়া হবে না। কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটানোর চেষ্টা করা হলে তাদের প্রতিহত করা হবে।

এদিকে বিএনপির সমাবেশকে ঘিরে সাংগঠনিক প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছেন ঢাকা মহানগর দক্ষিণ আওয়ামী লীগের সভাপতি আবু আহমেদ মন্নাফি। তিনি বলেন, বিএনপির কর্মসূচির দিন মাঠে থাকবে দক্ষিণ আওয়ামী লীগের প্রতিটি ওয়ার্ড, ইউনিট ও থানার নেতাকর্মীরা। দেশে কোনো অরাজকর পরিস্থিতি সৃষ্টি করতে দেয়া হবে না বলেও হুঁশিয়ারি দেন তিনি।

আওয়ামী লীগ সূত্র বলছে, দলের নেতাকর্মীদের চাঙ্গা রাখতে ও রাজনীতির মাঠে বিএনপির বিশৃঙ্খলা ঠেকাতেই একই দিনে কর্মসূচি পালন করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সেদিন রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ স্থানগুলোতে সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত প্রতিটি পাড়া-মহল্লাসহ সর্বত্র সুরক্ষা বলয় তৈরি করবে আওয়ামী লীগ ও এর সহযোগী-ভ্রাতৃপ্রতিম সংগঠনের নেতাকর্মীরা।

ঢাকা মহানগর উত্তর আওয়ামী লীগের সভাপতি শেখ বজলুর রহমান জানান, আমরা সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত সতর্ক অবস্থানে থাকব। তাই এই দিনটি সফল করতে বাকি সমাবেশগুলো আমরা সাময়িক স্থগিত করেছি। 

জরুরি বর্ধিত সভা করবে আওয়ামী লীগ

বিএনপির মহাসমাবেশকে কেন্দ্র করে বর্ধিত সভা করবে আওয়ামী লীগ। সভায় আসতে পারে গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশনা। বর্ধিত সভায় উপস্থিত থাকার কথা রয়েছে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় ও সহযোগী সংগঠনের নেতারাসহ ঢাকা এবং এর পার্শ্ববর্তী জেলার সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক ও সংসদ সদস্যরা।

একদিকে একের পর এক পাল্টাপাল্টি সমাবেশ, বিএনপির আন্দোলন ঠেকাতে ক্ষমতাসীনদের শোডাউন আর অন্যদিকে ঢাকায় মহাসমাবেশের মাধ্যমে সরকার পতনের চূড়ান্ত আন্দোলনের ডাক বিএনপির।

এ প্রসঙ্গে আওয়ামী লীগের একাধিক নেতারা জানান, বিএনপির আন্দোলন মানেই জ্বালাও-পোড়াও তাই সাধারণ মানুষের জানমাল ও সম্পদ রক্ষার্থে, যেকোনো বিশৃঙ্খলা ও নৈরাজ্য ঠেকাতে আওয়ামী লীগ ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা রাজপথে অবস্থান করবে।

এর আগে ১৩ অক্টোবর পূর্বঘোষণা ছাড়াই ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণ আওয়ামী লীগসহ যুবলীগ, স্বেচ্ছাসেবক লীগ এবং ছাত্রলীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকদের সাথে জরুরি বৈঠকে বসেন দলের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের। আলোচনা করা হয় আগামীর কর্মসূচির রোডম্যাপ নিয়ে, দেওয়া হয় কর্মসূচি বাস্তবায়নে দিক-নির্দেশনাও।

পরে ১৬ অক্টোবর বিএনপির মহাসমাবেশ প্রসঙ্গে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেন, ২৮ অক্টোবর বিএনপির পরিণতি হবে ১০ ডিসেম্বরের মতো। ওই দিন (গত বছরের ১০ ডিসেম্বর) তারা গোলাপবাগ গরুর হাটের খাদে পড়ে গিয়েছিল। এবার কোথায় যাবে সেটা দেখার অপেক্ষা।

তিনি আরও বলেন, বিএনপি দম্ভোক্তি করেছিল ১০ ডিসেম্বরের পর (২০২২) বেগম জিয়া চালাবে দেশ। ১০ ডিসেম্বরের মতো ২৮ অক্টোবরও তাদের একই পরিণতি হবে।

এদিকে শুধু বিএনপি নয় এই দিনকে কেন্দ্র করে অনেক রাজনৈতিক দল কর্মসূচি দিয়েছে। বিএনপির পাশাপাশি বাম রাজনৈতিক দলগুলোও এই দিনে বিক্ষোভ কর্মসূচি দিয়েছে।

Link copied!