ওবায়দুল কাদের বললেন,

নির্বাচনব্যবস্থাকে প্রভাবিত করতে মায়াকান্নায় বিদেশিদের কাছে করুণা ভিক্ষা করছে বিএনপি

দ্য রিপোর্ট ডেস্ক

অক্টোবর ৮, ২০২৩, ০৪:৩৬ পিএম

নির্বাচনব্যবস্থাকে প্রভাবিত করতে মায়াকান্নায় বিদেশিদের কাছে করুণা ভিক্ষা করছে বিএনপি

ওবায়দুল কাদের। ফাইল ছবি

নির্বাচনব্যবস্থাকে প্রভাবিত করার জন্য মায়াকান্নার মাধ্যমে বিদেশিদের কাছে করুণা ভিক্ষা করছে বলে মন্তব্য করেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের।

তিনি বলেন, এখন বিএনপি দেশের নির্বাচনব্যবস্থাকে প্রভাবিত করার জন্য মায়াকান্নার মাধ্যমে বিদেশিদের কাছে করুণা ভিক্ষা করছে। দেশবাসী ভুলে যায়নি, ২০০৬ সালে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক ন্যাশনাল ডেমোক্রেটিক ইনস্টিটিউটের (এনডিআই) গবেষণা ও তদন্তে বিএনপির ১ কোটি ২৩ লাখ ভুয়া ভোটার সৃষ্টির জালিয়াতি উন্মোচিত হয়। ক্ষমতায় থাকতে মরিয়া বিএনপি তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থাকে কলুষিত করে ২০০৬ সালে তাদের দলীয় রাষ্ট্রপতির মাধ্যমে নির্বাচন অনুষ্ঠানের অপচেষ্টা চালায় এবং জনগণের আন্দোলনের মুখে ২০০৭ সালের ২২ জানুয়ারির প্রহসনের নির্বাচন বাতিল করতে বাধ্য হয়।

রবিবার আওয়ামী লীগের দপ্তর সম্পাদক বিপ্লব বড়ুয়ার সই করা গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে সরকারের সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের এ মন্তব্য করেন।

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেন, বাংলাদেশের গণতন্ত্র ও নির্বাচন নিয়ে বিএনপি জন্মলগ্ন থেকেই দেশের জনগণের সঙ্গে তামাশা করে আসছে। অবৈধ ও অসাংবিধানিকভাবে ক্ষমতা দখলকারী স্বৈরশাসক জিয়াউর রহমানের হাতে গড়া বিএনপি ঐতিহ্যগত ও প্রাতিষ্ঠানিকভাবে স্বাধীনতা-গণতন্ত্র সংবিধান ও নির্বাচনবিরোধী একটি রাজনৈতিক দল।

ওবায়দুল কাদের আরও বলেন, স্বাধীন বাংলাদেশে বন্দুকের নলের মুখে ক্ষমতা দখলকারী জিয়াউর রহমান বাংলাদেশের নির্বাচনব্যবস্থাকে প্রহসনে পরিণত করেছিলেন। দেশের সংবিধান লঙ্ঘন করে সামরিক শাসন জারির মাধ্যমে জিয়া প্রথমবারের মতো ‘কারফিউ মার্কা গণতন্ত্র’ প্রবর্তন করেন।

জিয়াউর রহমানের শাসনামলে অনুষ্ঠিত নির্বাচনের সমালোচনা করে ওবায়দুল কাদের বলেন, সামরিক শাসন বলবৎ থাকা অবস্থায় ১৯৭৭ সালের ৩০ মে তথাকথিত হ্যাঁ/না ভোট, ১৯৭৮ সালের ৩ জুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচন ও ১৯৭৯ সালের ১৮ ফেব্রুয়ারি সংসদ নির্বাচনের আয়োজন করা হয়। সে সময় একই সঙ্গে রাষ্ট্রপতি, সেনাপ্রধান ও প্রধান সামরিক আইন প্রশাসক পদে থেকেই জিয়াউর রহমান প্রহসনের মাধ্যমে সব নির্বাচনে নিজের বিজয় নিশ্চিত করেন।

ওবায়দুল কাদের বলেন, বিএনপি বরাবরই হত্যা-ক্যু-ষড়যন্ত্র ও রক্তপাতের মধ্য দিয়ে রাষ্ট্রক্ষমতা দখল করেছে। তথাকথিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দাবির অন্তরালে বিএনপি পুনরায় হত্যা-ক্যু-ষড়যন্ত্র ও সন্ত্রাসের মাধ্যমে ক্ষমতা দখলের পাঁয়তারা চালাচ্ছে।

জনগণের রায় ছাড়া আওয়ামী লীগ কখনোই রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব গ্রহণ করেনি দাবি করে ওবায়দুল কাদের বলেন, একমাত্র বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনাই সাংবিধানিক ও শান্তিপূর্ণ উপায়ে ক্ষমতা হস্তান্তর করেছেন। শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আন্দোলন-সংগ্রামের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশের দীর্ঘ স্বৈরশাসনের অবসান এবং গণতন্ত্র, ভোটাধিকার ও আইনের শাসন পুনঃ প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। সে জন্য বাংলার জনগণ ভালোবেসে তাঁকে ‘গণতন্ত্রের মানসকন্যা’ অভিধায় অভিষিক্ত করেছে।

Link copied!