ছবি: সংগৃহীত
বিএসএফ সদস্যরা শুধু আত্মরক্ষার জন্য গুলি চালায় উল্লেখ করে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ) প্রধান নীতিন আগারওয়াল বলেছেন, ‘সীমান্তে হত্যা বন্ধে আমরা সর্বোচ্চ চেষ্টা করছি।’
শনিবার (৯ মার্চ) রাজধানীর পিলখানায় বিজিবি-বিএসএফ মহাপরিচালক পর্যায়ের পাঁচদিনব্যাপী ৫৪তম সীমান্ত সম্মেলনের শেষ দিন বিজিবির সদর দপ্তরে অনুষ্ঠিত এক যৌথ সংবাদ সম্মেলনে এ কথা বলেন তিনি।
বিএসএফ প্রধান বলেন, ‘আমরা যৌথভাবে সীমান্ত পাহারা বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছি। আন্তঃসীমান্ত অপরাধ বন্ধে গোয়েন্দা তথ্য বিনিময়ের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এসবের মাধ্যমে আশা করছি সীমান্ত হত্যা কমে আসবে।’
যৌথ সংবাদ সম্মেলনের ফলাফল সম্পর্কিত এক প্রশ্নের জবাবে বিজিবি প্রধান বলেন, ‘আমরা দুই দেশের অমীমাংসিত বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা করেছি। আমরা সিদ্ধান্তের পৌঁছেছি উভয় দেশের জন্য মঙ্গলজনক বিষয়গুলোতে আমরা যৌথভাবে কাজ করবো। এর মধ্যে থাকবে চোরাচালান প্রতিরোধ, সীমান্ত অপরাধ ও সীমান্ত হত্যা পুরোপুরি বন্ধ।’
বাংলাদেশ ও ভারতের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কের বিষয়টি উল্লেখ করে বিএসএফ প্রধান বলেন, ‘১৯৭১ সালে ভারতের অবদান আমরা কখনও ভুলিনি। তবে সীমান্ত হত্যার কোনো সমাধান দেখা যাচ্ছে না। নানা উদ্যোগ নেওয়ার পরও কেন শূন্যের কোটায় নামানো যাচ্ছে না মৃত্যু।’
নীতিন বলেন, ‘সীমান্ত হত্যা বন্ধে আমাদের উদ্যোগের পরও ভারত ও বাংলাদেশি নাগরিকের মৃত্যু হচ্ছে। বাংলাদেশ সীমান্তে আমরা অস্ত্রনীতি পরিবর্তন করেছি। প্রাণঘাতী নয় এমন অস্ত্র ব্যবহার করছি। এর মাধ্যমে যতদূর সম্ভব অনাকাঙ্ক্ষিত মৃত্যু কমিয়ে আনার চেষ্টা করছি।’
তিনি আরও বলেন, ‘সীমান্ত এলাকায় অপরাধী চক্র বেশ সক্রিয়। তারা দায়িত্বরত বিএসএফ ও বিজিবি সদস্যদের ওপরও হামলা চালায়। কখনও কখনও দুই পক্ষকেই আত্মরক্ষায় গুলি চালাতে হয়।’
নীতিন বলেন, ‘আমি নিশ্চিত আপনি জানেন, ৬০ বিএসএফ সদস্য সীমান্ত অপরাধীদের হামলায় গুরুতর আহত হয়েছেন। তারা অস্ত্র হিসেবে দা ব্যবহার করে। বিএসএফ সদস্যদের শরীরের স্পর্শকাতর অংশে দায়ের গুরুতর আঘাত রয়েছে, যেটা গভীর উদ্বেগের বিষয়। কেবলমাত্র এ রকম পরিস্থিতিতে আমাদের বিএসএফ সদস্যরা গুলি চালায় যাতে বাংলাদেশি ও ভারতীয় অপরাধীর মৃত্যু হয়।’
গত কয়েক বছর ধরে সীমান্ত হত্যা আবারও বাড়ছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘আমরা অনেক সময় দেখি, নিহত বাংলাদেশির মুখমণ্ডল, বুকে ও শরীরের উপরিভাগে আঘাতের চিহ্ন। আপনি বলেছেন অস্ত্রনীতি পরিবর্তন করা হয়েছে, কেবলমাত্র আত্মরক্ষায় গুলি চালায় বিএসএফ- কিন্তু মাঠপর্যায়ে আমরা এর বিপরীত চিত্র দেখি।’
প্রকৃত ঘটনা জানতে কেন বডি ওর্ন ক্যামেরা চালু করা হচ্ছে না, কেন যৌথ তদন্ত করা হয় না এমন প্রশ্নের জবাবে বিএসএফ প্রধান বলেন, ‘আপনি বললেন মুখ-মণ্ডল, বুকে ও শরীরের স্পর্শকাতর স্থানে আঘাত থাকে, এটাই কম দূরত্বে এসে হামলা প্রমাণ করে। দা নিয়ে হামলা চালাতে হলে খুব কাছে চলে আসতে হয়; যখন একজন মানুষ মৃত্যু ঝুঁকিতে থাকে, কেউ দা নিয়ে হামলা করছে, গুলি চালানোর তখন তিনি হাত-পা, শরীরের অন্যান্য কম গুরুত্বপূর্ণ অংশ মনোযোগ দিতে পারে না।’
বিজিবি মহাপরিচালক মেজর জেনারেল মোহাম্মদ আশরাফুজ্জামান সিদ্দিকীর নেতৃত্বে ১৬ সদস্যের প্রতিনিধি দল ও বিএসএফ মহাপরিচালক নীতিন আগারওয়ালের নেতৃত্বে ৯ সদস্যের ভারতীয় প্রতিনিধি দল এ সম্মেলনে অংশ নেন।