চ্যালেঞ্জ দিলাম, পারলে নির্বাচন ঠেকান : ওবায়দুল কাদের

দ্য রিপোর্ট ডেস্ক

সেপ্টেম্বর ২৯, ২০২৩, ০৭:৫১ পিএম

চ্যালেঞ্জ দিলাম, পারলে নির্বাচন ঠেকান : ওবায়দুল কাদের

গোলাপবাগের গরুর হাটে আন্দোলন শেষ, বিএনপিকে উদ্দেশ্য করে ওবায়দুল কাদের। ছবি : ফেসবুক থেকে নেয়া

বাংলাদেশ নিজের সংবিধান অনুযায়ী চলবে এবং একটি অবাধ ও সুষ্ঠ নির্বাচনের আয়োজন করবে জানিয়ে নির্বাচন ঠেকানোর কথা যারা বলছেন, তাদের প্রতি চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়েছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের। শুক্রবার বিকেলে রাজধানীর বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ৭৭তম জন্মদিন উপলক্ষ্যে আওয়ামী লীগ আয়োজিত আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন। 

তিনি বলেন, আল্টিমেটাম তো শেষ। গোলাপবাগের গরুর হাটে আন্দোলন শেষ। তারপর কতো পদযাত্রা দেখলাম। তারপর দেখলাম মতো মরন যাত্রা। শেষ আল্টিমেটাম। ৪৮ ঘন্টা তো চলে গেলো। এখন কি করবেন। আন্দোলনের ডাকে পাবলিক নাই, ভুয়া। আন্দোলন ভুয়া। ৩২ দল ভুয়া। তত্ত্ববধায়ক ভুয়া। এই ভুয়া আন্দোলন এই দেশের মানুষ মানে না। এই দুর্নীতিবাজদের বিরুদ্ধে খেলা হভে। বৃহৎশক্তির হুমকিতে বন্ধুবন্ধু কন্যা পরোয়া করে না আর আপনারা কি হুমকি দেবেন? নির্বাচন হতে দেবেন না? দেখি কে নির্বাচন ঠেকাতে আসে।
আওয়ামী লীগের সভাপতিমন্ডলীর সদস্য সংসদ উপনেতা মতিয়া চৌধুরীর সভাপতিত্বে সভায় আরও বক্তব্য রাখেন দলের সভাপতিমন্ডলী সদস্য- ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন, শেখ ফজলুল করিম সেলিম, ড. আব্দুর রাজ্জাক, লে. কর্নেল (অব.) ফারুক খান, শাহজাহান খান, মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া, অ্যাডভোকেট কামরুল ইসলাম, ডা. মোস্তফা জালাল মহিউদ্দিন, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ড. হাছান মাহমুদ, মাহবুবউল আলম হানিফ, ডা. দিপু মনি, সাংগঠনিক সম্পাদক মির্জা আজম, শফিউল আলম চৌধুরী নাদেল, আইন বিষয়ক সম্পাদক নাজিবুল্লাহ হিরু, ধর্ম বিষয়ক সম্পাদক সিরাজুল মোস্তফা, ঢাকা মহানগর উত্তর আওয়ামী লীগের সভাপতি শেখ বজলুর রহমান, ঢাকা মহানগর দক্ষিণ আওয়ামী লীগের সহ সভাপতি নুরুল আমিন রুহুল প্রমুখ।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে ওবায়দুল কাদের আরও বলেন, আমাদেরকে এসব ভয় দেখিয়ে লাভ নেই। আমাদেরকে নিষেধাজ্ঞা-ভিসানীতির ভয় দেখিয়ে লাভ নেই। নিষেধাজ্ঞা দেয় ওয়াশিংটন আর ভয় দেখায় মির্জা ফখরুল। কি অদ্ভুদ কান্ড! ভুয়া তো বটেই। ৪৮ ঘন্টা শেষ আল্টিমেটাম শেষ। অতপর কি? কি হবে? খেলা তো হবে। ক্যাপ্টেন আমেরিকায় আছে। তিনি আসলে জোরদার খেলা হবে। ক্যাপ্টেন আসুক। আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক বলেন, একাত্তরে নিষেধাজ্ঞাকে ভয় পেলে বাংলাদেশ কোনোদিনই স্বাধীন হতো না। নিষেধাজ্ঞাকে ভয় করলে বঙ্গবন্ধু এই দেশ স্বাধীন করতে পারতো না। আজকে তাই নিষেধাজ্ঞাকে ভয় করলে বাংলাদেশের অগ্রযাত্রা সমৃদ্ধি সোনালী অর্জন আমরা রাখতে পারবো না।
‘বাংলাদেশে শেখ হাসিনা ছাড়া কোনো নির্বাচন হবে না। এমন কোনো নেতা নেই যাকে মানুষ বিশ্বাস করে। সেই নেতা শেখ হাসিনা। ষড়যন্ত্র করে ওই নেতাকে বাদ দেবেন। শেখ হাসিনা ছাড়া নির্বাচন মানি না। বাংলাদেশকে আবারও ষড়যন্ত্র করে অন্ধকারে নিয়ে যাবেন আমরা হতে দেব না। আমরা সেটা হতে দেব না।’

শেখ হাসিনাকে বাংলাদেশের রূপান্তরের রূপকার উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘সংকটকে সম্ভাবনায় রূপ দিয়েছেন যিনি তিনি আমাদের সাহস, স্বপ্নের বর্ণিল ঠিকানা। আমাদের পূর্ব পৃথিবীর সূর্য শেখ হাসিনা। শেখ হাসিনা বাংলাদেশকে নতুন নতুন উচ্চতা দিয়েছেন। বাংলাদেশকে নব নব মুকুটে সজ্জিত করেছেন। শি হ্যাজ মেড আস লুক ব্রাইটার। শি হ্যাজ প্রাউড আস ফিল প্রাউড, স্ট্যান্ড টলার। শি হ্যাজ শো দ্য ওয়ে আউট অব প্রভার্টি।’

কাদের আরও বলেন, ‘বঙ্গবন্ধু হত্যার পর ৪৮ বছর চলে গেছে। যারা ষড়যন্ত্র করে তাদের কাছে জানতে চাই, পঁচাত্তরের পর শেখ হাসিনার মতো জনপ্রিয় নেতা এসেছে এ দেশে? গত ৪৮ বছরে সবচেয়ে সাহসী নেতা, সবচেয়ে দক্ষ প্রশাসক, সফল কূটনীতিক। কে তিনি? শেখ হাসিনা। এখনো বাংলাদেশের নাম্বার ওয়ান পপুলার পলিটিশিয়ান শেখ হাসিনা।’
শেখ ফজলুল করিম সেলিম বলেন, ১৯৮১ সালের আওয়ামী লীগ যখন বহুভাগে বিভক্ত ছিল। আওয়ামী লীগ সংগঠিত ছিল না। কিন্তু আওয়ামী লীগ কর্মীদের দাবি ছিল, এই আওয়ামী লীগকে বাঁচাতে হবে। বঙ্গবন্ধু হত্যার বিচার করতে হবে, জেল হত্যার বিচার করতে হবে। কিন্তু করবে কে? তখন আওয়ামী লীগ নেতারা বুঝলেন বাংলাদেশকে বাঁচাতে, মানবতাকে বাঁচাতে হলে শেখ হাসিনার বিকল্প নাই। তিনি বলেন, আজ শেখ হাসিনার দেশের জনগণের আর্শীবাদ হয়ে গেছেন। বঙ্গবন্ধু হত্যার বিচার করে দেশে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করেছেন। গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করেছেন। দেশে গণতন্ত্র আছে বলে আজ মানুষ কথা বলতে পারছে।
ড. আব্দুর রাজ্জাক এমপি বলেন, আমাদের জন্য আজকের দিনটি অত্যন্ত আনন্দের , অত্যন্ত খুশীর। কারণ শেখ হাসিনার জীবনের ওপর বারবার আঘাত আসলেও আল্লাহ রাব্বুল আলামিনের ইচ্ছায় তিনি আজো আমাদের মাঝে বেঁচে আছেন। তিনি বেঁচে আছেন বলে বাংলাদেশকে উন্নয়নের দিক থেকে একটি নতুন মাত্রায় নিয়ে গেছেন। অর্থনীতির সকল ক্ষেত্রে, আইসিটি, কৃষি, শিক্ষা প্রতিটি ক্ষেত্রে অভূতপূর্ব উন্নয়ন করেছেন। যা আজ সারাবিশ্বে প্রশংসিত।
লে. কর্লেণ (অব) মুহাম্মদ ফারুক খান বলেন, আমাদের নেত্রী শেখ হাসিনা একজন সাহসী নেত্রী। বাংলাদেশের মানুষেল জন্য আজ শুভ দিন কারণ তাদের প্রধানমন্ত্রী একজন কর্মচঞ্চল প্রধানমন্ত্রী। বিশ্বের মানুষের কাছে আজকের দিনটি শুভ দিন কারণ শেখ হাসিনা একজন দূরদর্শী, মানবতাবাদী রাষ্ট্রনায়ক শেখ হাসিনা।
ড. হাছান মাহমুদ বলেন, বাংলাদেশ যখন উন্নয়ন ও অগ্রযাত্রায় শেখ হাসিনার নেতৃত্বে এগিয়ে যাচ্ছেন; সেই সময় বিএনপি-জামায়াত দেশবিরোধী ষড়যন্ত্রে লিপ্ত। বিএনপি ষড়যন্ত্র করছে ক্ষমতায় যাওয়ার জন্য নয়। তাদের উদ্দেশ্য হচ্ছে, দেশটাকে বিশ্ব বেনিয়াদের হাতে তুলে দেওয়া। আর বিশ্ব বেনিয়াদের লক্ষ্য হচ্ছে বাংলাদেশে একটি হামিদ কার্জাই মার্কা সরকার প্রতিষ্ঠা করা। মীরজাফর যেমন বাংলাকে বিশ্ব বেনিয়াদের হাতে তুলে দিয়েছিল; তেমনই বিএনপিও এই দেশটাকে তুলে দিতে চায়।
মাহবুবউল আলম হানিফ বলেন, বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আর্থসামাজিক উন্নয়নের নতুন মাত্রা সূচিত হয়েছে। চরম দারিদ্র দেশকে বিশ্বের বুকে উন্নয়নশীল দেশে পরিণত করেছেন। সব শ্রেণি-পেশার মানুষের কল্যাণে যুগান্তকারী অবদান রাখার মধ্য দিয়ে শেখ হাসিনা বাঙালি জাতির মুকুট মণি‍‍`তে পরিণত হয়েছেন।

Link copied!