আগস্ট ১৯, ২০২৩, ১২:২৬ এএম
ছবি: দ্য রিপোর্ট ডট লাইভ
আসছে দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে পশ্চিমা রাষ্ট্রগুলোর তৎপরতার কড়া সমালোচনা করে আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের দেশগুলোর প্রতিনিধিদের বাংলাদেশের পক্ষ থেকে দাওয়াত করা হয় না। তারা দাওয়াত ছাড়াই চলে আসেন।’ বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ বিষয় নিয়ে তাদের এত আগ্রহ কেন? এমন প্রশ্নও রাখেন তিনি।
শুক্রবার (১৮ আগস্ট) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগ আয়োজিত এক আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও বঙ্গমাতাসহ ১৫ আগস্টের শহীদদের স্মরণে ছাত্রলীগ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ওই আলোচনা সভার আয়োজন করে।
ওবায়দুল কাদের বলেন, শেখ হাসিনা একমাত্র আল্লাহ ছাড়া, কারো হুমকি ধামকিকে ভয় পায় না। গত পনের বছরে স্বল্পোন্নত দেশ থেকে বাংলাদেশ উন্নয়নশীল দেশের মর্যাদা লাভ করেছে। এদেশের উন্নয়ন শেখ হাসিনার বড় অপরাধ! অন্য দেশে না গিয়ে, বিদেশিদের এত বাংলাদেশের রাজনীতি নিয়ে আগ্রহ কিসের?
পশ্চিমাদেশগুলোর প্রতিনিধিরা বিনা দাওয়াতে বাংলাদেশ সফর করে আবার ধমকও দেন উল্লেখ করে আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক বলেন, বাংলাদেশে কী বিপদে আমরা আছি। মাকির্ন পররাষ্ট্রমন্ত্রী, ইউরোপের নেতাদের আমরা তো দাওয়াত করি না। কোথা থেকে এত মেহমান আসেন। ইউরোপ-আমেরিকার মেহমান না বলে চলে আসেন। আসতে চান আমাদের বলেন, আমরা আদর-যত্ন করে রাখব। কী জানতে চান বলেন, প্রয়োজনে আমাদের জনগণের সঙ্গে কথা বলেন। আপনারা কথা বলেন, ধমক মারেন, নিষেধাজ্ঞা দেন, এখন আবার ভিসা নীতি দেন। কিন্তু এই হুমকি বিএনপির ব্যাপারে কেন দেন না? ওখানে কি ভিসা নীতি নেই?
এসময় ক্ষমতাসীন দলের এই নেতা আরও বলেন, “আপনাদের তো মূল কথা নির্বাচনে যে বাধা দেবে, তার বিরুদ্ধে ভিসা নীতি। এই কাজ তো বিএনপি করছে। আমরা তো করছি না। আমরা তো নির্বাচন চাই, শান্তিপূর্ণ নির্বাচন চাই। নির্বাচনের আগে-পরে শান্তি চাই। যারা নির্বাচনের নামে আগুন-সন্ত্রাসের পরিকল্পনা করবে, আমরাও দেখব এই নিষেধাজ্ঞার মানে কী, এই ভিসা নীতি কার বিরুদ্ধে প্রয়োগ হবে।”
বিএনপির নেতাদের উদ্দেশ্যে আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক বলেন, “আপনারা (বিএনপি) তারেক রহমানকে বলেন, সাহস থাকলে দেশে আসতে। রাজপথে ফয়সালা হোক। কানাডার আদালত বিএনপিকে পাঁচবার সন্ত্রাসী বলেছে। বিএনপি সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে বিদেশেও চিহ্নিত। এই টেরোরিস্টের সঙ্গে আমাদের যুদ্ধ।
শেখ হাসিনার বড় দোষ সত্য কথা বলা-উল্লেখ করে আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক বলেন, “১৫ আগস্টের আলোচনায় প্রধানমন্ত্রী সত্য কথা, বড় বড় সত্য ফাঁস করে দিয়েছেন। তিনি আল্লাহ ছাড়া কাউকে ভয় পান না। আমরা অনেকে ভয় করি, নেত্রী কেন এসব বলেন? বিশ্ব মোড়লদের খেঁপাচ্ছেন। কিন্তু নেত্রীর কাছে সব খবর আছে। এখানে একটা বড় খেলা আছে। অন্য দেশের গণতন্ত্র নিয়ে তাদের (বিশ্ব মোড়ল) মাথাব্যথা নেই।”
বিএনপি গণতন্ত্রকে ধ্বংস করে আজিজ মার্কা নির্বাচন কমিশন তৈরি করেছিল, ভোট চুরির রাজনীতি শুরু করেছিল উল্লেখ করে ওবায়দুল কাদের বলেন, “ তারা (বিএনপি) দুর্নীতিতে চ্যাম্পিয়ন হয়ে দুর্নীতিকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিয়েছিল। তারা তত্ত্বাবধায়ক সরকার চাইলে পাকিস্তানে চলে যাক। পাকিস্তান ছাড়া দুনিয়ার কোথাও তত্ত্বাবধায়ক সরকার নেই।ফ্যাসিবাদ কাকে বলে তার জলন্ত প্রমাণ বিএনপি।” বিএনপি ফ্যাসিবাদী রাষ্ট্র করেছিলেন আর শেখ হাসিনা সেটা নির্মূল করেছে বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি মাজহারুল কবির শয়নের সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় অন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন- ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় সভাপতি সাদ্দাম হোসেন, সাধারণ সম্পাদক শেখ ওয়ালী আসিফ ইনান, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক তানভীর হাসান সৈকত।