সাংবাদিক অভিশ্রুতি শাস্ত্রীর মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর

নিজস্ব প্রতিবেদক

মার্চ ১১, ২০২৪, ০৫:০৭ পিএম

সাংবাদিক অভিশ্রুতি শাস্ত্রীর মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর

অভিশ্রুতি শাস্ত্রী। ফাইল ছবি

রাজধানীর বেইলি রোডে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় মারা যাওয়া অভিশ্রুতি শাস্ত্রী ওরফে বৃষ্টি খাতুনের মরদেহ ১০ দিন পর পরিবারের কাছে হস্তান্তর করেছে সিআইডি।

সোমবার (১১ মার্চ) বিকেল তিনটার দিকে বৃষ্টি খাতুনের বাবা সবুজ শেখের কাছে মরদেহ হস্তান্তর করে সিআইডি।

এর আগে ডিএনএ পরীক্ষার মাধ্যমে তার মরদেহ শনাক্ত করা হয়।

সিআইডি‍‍`র ফরেনসিক বিভাগের অতিরিক্ত উপ পুলিশ মহা-পরিদর্শক জাহাঙ্গীর হোসেন মাতুব্বর এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

তিনি সাংবাদিকদের বলেন, আপনারা জানেন গত ২৯ ফেব্রুয়ারি বেইলি রোডে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। সেখানে একজনের মরদেহের দুইজন দাবিদার পাওয়া যায়। কালী মন্দিরের একজন দাবি করেন অভিশ্রুতি শাস্ত্রী সেখানে যাতায়াত করতেন এবং তার বাবা দাবি করেন সে বৃষ্টি খাতুন। পরে আদালতের নির্দেশে তার মরদেহের ডিএনএ নমুনা সংগ্রহ করা হয় এবং তার বাবা-মায়ের ডিএনএ নমুনা সংগ্রহ করা হয়। পরে তার ডিএনএ বাবা-মায়ের সঙ্গে মিলে যায় এবং জাতীয় পরিচয়পত্র ও সার্টিফিকেটের সঙ্গে মিলে যায়। রমনা কালী মন্দিরের পক্ষ থেকেও লিখিতভাবে তাদের দাবি নেই বলে পুলিশকে জানানো হয়। যেহেতু অভিশ্রুতি শাস্ত্রী ওরফে বৃষ্টি খাতুনের ডিএনএ স্যাম্পল তার বাবা-মায়ের সঙ্গে মিলে যায় তাই আজ তার বাবার কাছে তার মরদেহ হস্তান্তর করা হলো।

বৃষ্টির বাবা সবুজ শেখ জানান, আমি আমার মেয়ের লাশ ফিরে পেয়েছি। কারা আমার মেয়ের লাশ নিয়ে ষড়যন্ত্র করলো আমি জানি না। আমি আমার মেয়ের লাশ কুষ্টিয়া জেলার খোকসা থানার বনগ্রামে নিয়ে জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করব।

গত ২৯ ফেব্রুয়ারি রাজধানীর বেইলি রোডের গ্রিন কোজি কটেজ ভবনে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় মারা যান অভিশ্রুতি শাস্ত্রী ওরফে বৃষ্টি খাতুন। বৃষ্টি তার বন্ধু ও সহকর্মীদের কাছে অভিশ্রুতি নামে পরিচিত ছিলেন। অভিশ্রুতি নামে নিজেকে পরিচয় দেওয়ার কারণে তার লাশ হস্তান্তর নিয়ে জটিলতা তৈরি হয়। মৃত্যুর পর মন্দিরের পুরোহিত তাকে সনাতন ধর্মালম্বী দাবি করেন।

অন্যদিকে সবুজ শেখ ও বিউটি খাতুন বাবা-মা দাবি করে জানান, নিহত তরুণী অভিশ্রুতি নয়, তার নাম বৃষ্টি খাতুন। বৃষ্টি তাদের সন্তান। এমন পরিস্থিতিতে পরিচয় শনাক্তে ডিএনএ পরীক্ষার সিদ্ধান্ত নেয় পুলিশ। নমুনা নেওয়ার ১১ দিন পর বৃষ্টির ডিএনএ’র সঙ্গে তার বাবা-মায়ের ডিএনএ মিলেছে।

বৃষ্টির গ্রামের বাড়ি কুষ্টিয়ার খোকসা উপজেলার বেতবাড়ীয়া ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের বনগ্রাম গ্রামের প‌শ্চিমপাড়ায়। কলেজের সার্টিফিকেট, জন্মনিবন্ধন ও জাতীয় পরিচয়পত্রে অভিশ্রুতি শাস্ত্রীর নাম বৃষ্টি খাতুন।

Link copied!