তথ্য পেতে সাংবাদিককে দিতে হবে ৩০ হাজার টাকা!

জাতীয় ডেস্ক

জুন ১৫, ২০২৪, ০৩:৪২ এএম

তথ্য পেতে সাংবাদিককে দিতে হবে ৩০ হাজার টাকা!

তথ্য অধিকার আইনে ভোলার স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরে (এলজিইডি) আবেদন করেছিলেন তজুমদ্দিন রিপোর্টার্স ইউনিটির সাধারণ সম্পাদক সাদির হোসেন রাহিম। গত ৫ জুন নির্বাহী প্রকৌশলী ইব্রাহিম খলিলের কাছে ই-মেইলে আবেদন করেন তিনি।

ই-মেইলের জবাবে চিঠি পেয়ে অবাক হয়েছি। একজন দায়িত্বশীল কর্মকর্তা একটি গুরুত্বপূর্ণ চেয়ারে বসে কীভাবে এমন একটি অনিয়মতান্ত্রিক চিঠি পাঠালেন?
- সাদির হোসেন রাহিম
সাধারণ সম্পাদক, তজুমদ্দিন রিপোর্টার্স ইউনিটি

ই-মেইলে জবাব আসে, তথ্যের বিনিময়ে সাংবাদিককে গুনতে হবে ৩০ হাজার টাকা। অর্থাৎ পে-অর্ডারের মাধ্যমে ৩০ হাজার টাকা জমা দেওয়ার অনুরোধ জানানো হয়।

সাংবাদিক সাদির হোসেন রাহিম জানান, তথ্য অধিকার আইন অনুযায়ী ৯ ধরনের তথ্য চেয়েছিলেন তিনি। এগুলোর অনুলিপি পেতে এত টাকা জমা দেওয়ার কথা নয়।

তথ্য অধিকার আইন, ২০০৯-এর ৮ ধারার (৪) উপধারা (১)-এ বলা হয়েছে, “তথ্য প্রাপ্তির ক্ষেত্রে অনুরোধকারীকে সংশ্লিষ্ট দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা কর্তৃক ওই তথ্যের জন্য নির্ধারিত যুক্তিসংগত মূল্য পরিশোধ করতে হবে।”

বিধি-৮-এ বলা হয়, “লিখিত কোনো ডকুমেন্টের কপি সরবরাহের জন্য (ম্যাপ, নকশা, ছবি, কম্পিউটার প্রিন্টসহ) এ-৪ ও এ-৩ মাপের কাগজের ক্ষেত্রে প্রতি পৃষ্ঠা দুই টাকা হারে ও তদূর্ধ্ব সাইজের কাগজের ক্ষেত্রে তথ্য প্রাপ্তির অনুরোধ ফি বা তথ্যের মূল্য পরিশোধযোগ্য হবে।”

এদিকে সাংবাদিক রাহিমকে পাঠানো চিঠিতে উল্লেখ করা হয়, ই-মেইলে পাঠানো আপনার আবেদনটি পাওয়া গেছে। তথ্য অধিকার আইনের বিধি-৮ (৪) উপ-ধারা (১)-এর বিধান অনুযায়ী তথ্য প্রাপ্তির অনুরোধ ফি ও চাহিত তথ্যের ২০২০-২০২১, ২০২১-২০২২, ২০২২-২০২৩ ও ২০২৩-২০২৪ অর্থ বছরের বিভিন্ন কাগজপত্রের ফটোকপিসহ অন্যান্য সম্ভাব্য খরচ বাবদ ৩০ হাজার টাকার পে-অর্ডার নির্বাহী প্রকৌশলী, এলজিইডি, ভোলা বরাবরে পাঠানোর অনুরোধ করা হলো। পে-অর্ডার প্রাপ্তি সাপেক্ষে তথ্য প্রাপ্তির কার্যক্রম শুরু করা হবে। তথ্য প্রাপ্তির অনুরোধ ফি, ফটোকপি ও অন্যান্য খরচ পরে সমন্বয় করা হবে। বিভিন্ন দপ্তর থেকে তথ্য সংগ্রহ করা সময় সাপেক্ষে, সব তথ্য সংগ্রহ করে আপনাকে পাঠানো হবে।

সাংবাদিক রাহিম বলেন, “ই-মেইলের জবাবে চিঠি পেয়ে অবাক হয়েছি। একজন দায়িত্বশীল কর্মকর্তা একটি গুরুত্বপূর্ণ চেয়ারে বসে কীভাবে এমন একটি অনিয়মতান্ত্রিক চিঠি পাঠালেন? চিঠিতে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়নি কত পিস কাগজের বিপরীতে এই মূল্য নির্ধারণ করেছেন তিনি। আমি মনে করি তিনি এই মূল্য নির্ধারণ করে তথ্য প্রাপ্তির ক্ষেত্রে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করেছেন, যা তথ্য অধিকার আইন অনুযায়ী শাস্তিযোগ্য অপরাধ। তথ্য প্রদানের ক্ষেত্রে সরকারি যে নিয়ম রয়েছে তা সম্পূর্ণরূপে অনুসরণ করেননি তিনি। আমার চাওয়া তথ্যের মূল্য কোনোভাবেই এত টাকা হতে পারে না। এ বিষয়ে আপিল কর্তৃপক্ষের কাছে আপিল করবো।”

বাংলাদেশ মফস্বল সাংবাদিক ফোরামের কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি আহমেদ আবু জাফর বলেন, “সাংবাদিকরা তথ্য চাইবেন, সরকারি কর্মকর্তারা তথ্য আইন অনুযায়ী তথ্য দেবেন। শুধু সাংবাদিক নয়, সব নাগরিকের তথ্য পাওয়ার অধিকার আছে। আর সেই তথ্য কিনে নিতে হবে কেন?”

নির্বাহী প্রকৌশলী ইব্রাহিম খলিল বলেন, “তথ্য প্রাপ্তির অনুরোধ ফি, ফটোকপি ও অন্যান্য খরচ বাবদ যে টাকা চাওয়া হয়েছে, তা যদি কম-বেশি হয় সেটা পরে সমন্বয় করা হবে। পে-অর্ডার জমা হলে আমরা তথ্য প্রদানের কাজ শুরু করবো।”

Link copied!