জানুয়ারি ২, ২০২৪, ১১:৪৩ এএম
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, ভোটের দিন প্রতিটি কেন্দ্রে স্ট্রাইকিং ফোর্সের সঙ্গে একজন করে ম্যাজিস্ট্রেট থাকবেন । ম্যাজিস্ট্রেট ছাড়া স্ট্রাইকিং ফোর্সকে কোথাও পাঠানো যাবে না ।
মঙ্গলবার (২ জানুয়ারি) দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে আগারগাঁও বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেটদের প্রশিক্ষণে এ কথা বলেন তিনি।
তিনি বলেন, নির্বাচনের সময় আমাদের অনেক বেশি জনবল প্রয়োজন হয় । নির্বাচনকে সুষ্ঠুভাবে পরিচালনার জন্য এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট যারা আছেন তাদের রিপোর্ট ৩ তারিখ থেকে সেনাবাহিনী মাঠে থাকবে । জেলা প্রশাসন এবং নির্বাচন কমিশনের সচিব মহোদয়ের কাছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে অনুরোধ থাকবে চার তারিখ বিকালে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট এবং আরো যারা সামারি ম্যাজিস্ট্রেট আছেন তাদের স্ট্রাইকিং ফোর্সের সঙ্গে একটা চা চক্রের আয়োজন হোক । যাতে করে নিজেদের মধ্যে যোগাযোগ শিথিল হয় এবং মাঠে কাজের ক্ষেত্রে যেন দুই পক্ষের সুবিধা হয় ।
এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেটদের উদ্দেশ্যে মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, মিডিয়ার সঙ্গে কথা বলার দরকার নেই। মিডিয়া যদি আপনাকে কোনো প্রশ্ন করে তবে আপনি রিটার্নিং অফিসার বা অথোরাইজডকে অবগত করবেন।
দায়িত্ব পালনের সময় অতিরিক্ত কথা না বলা এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এবং পোলিং এজেন্টদের সঙ্গে
এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেটদেরকে ব্যবহারের ক্ষেত্রে খুবই নম্র হবার জন্য জানান সিনিয়র সচিব ।
কোনো মিডিয়াতে স্টেটমেন্ট দেওয়া যাবে না এবং বিদেশি পর্যবেক্ষক এবং সাংবাদিকদের সঙ্গে সতর্কতার সাথে কথা বলার জন্য বলেন তিনি ।
তিনি বলেন, নির্বাচনের দিন কিছু গুজব আসতে পারে সেই বিষয় মাথায় রেখে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এবং পি আইডির একটা আলাদা সেল চব্বিশ ঘন্টা চালু রাখার ব্যবস্থা করেছি । জেলা প্রশাসককে আমরা জানাবো এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেটদের সঙ্গে যেন সিঙ্গেল যোগাযোগ রাখে । ভোটের দিন প্রতিটি কেন্দ্রে স্ট্রাইকিং ফোর্সের সঙ্গে একজন করে ম্যাজিস্ট্রেট থাকবেন । ম্যাজিস্ট্রেট ছাড়া স্ট্রাইকিং ফোর্সকে কোথাও পাঠানো যাবে না ।
মিডিয়ার গুজব খুবই ভয়ংকর। আমাদের অনেকগুলো স্ট্রাইকিং ফোর্স আছে । যাদের সঙ্গে কাজ করবেন তাদের সঙ্গে কো-অপারেট করে মুভ করবেন। কিছু অফিসার মোবাইল কোর্টের সঙ্গে থাকবেন এবং কিছু অফিসার স্ট্রাইকিং ফোর্সের সঙ্গে থাকবেন,যিনি স্ট্রাইকিং ফোর্সের সঙ্গে থাকবেন তিনিও মোবাইল কোর্ট করার এখতিয়ার রাখবেন।
মোবাইল কোর্টের মূল বিষয় হচ্ছে উদঘাটিত এবং সংঘটিত অপরাধ। দুটো বিষয় মাথায় রেখে ম্যাজিস্ট্রেটদেরকে সাজা দেবার পরামর্শ দেন মোস্তাফিজুর রহমান।
তিনি বলেন, ভ্রাম্যমাণ কিছু আদালত থাকে যেখানে এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেটদের কোনো ক্ষমতা থাকবে না।
নির্বাচন কমিশনের দেওয়া নিয়ম অনুযায়ী মোবাইল কোর্টে সব তফসিল ভুক্ত । কিন্তু মোবাইল কোর্ট অনুযায়ী আরপিও অন্তর্ভূক্ত হলেও আপনি একজন ম্যাজিস্ট্রেট হিসেবে দু`বছরের সাজা প্রদান করতে পারবেন। মোবাইল কোর্ট করার সময় কোনো ছবি তোলা যাবে না। সকল ধরনের লাইসেন্স ধারী ব্যক্তি কোনো অস্ত্র ব্যবহার করতে পারবেন না ।
মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, যানবাহনের ক্ষেত্রে শিথিলতা খানিকটা কমানো হয়েছে । প্রাইভেট কার , সিএনজি,বাস,অটো চলবে তবে বন্ধ থাকবে মোটরসাইকেল,মাইক্রোবাস। নৌপরিবহন মন্ত্রণালয় থেকে স্পিড বোট বন্ধ থাকে । বাকি সব রেগুলার যানবাহন চলবে ।
তিনি বলেন, ভোটারদের সুবিধার্থে নির্বাচন কমিশন থেকে এবার বেশ কিছু নিয়ম শিথিল করা হয়েছে । ভোটাররা যেন নির্বিঘ্নে ভোট কেন্দ্রে যেতে পারেন এজন্য নিয়মিত কিছু যানবাহন চালু রাখা হবে ।
এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেটদের প্রশিক্ষণ অনুষ্ঠানে আরো উপস্থিত ছিলেন নির্বাচন কমিশন সচিব জাহাংগীর আলম ,কমিশনার আনিছুর রহমান , অর্থমন্ত্রী অর্থসচিব ড. মো: খায়েরুজ্জামান মজুমদার, মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সমন্বয় ও সংস্কার সচিব মো. মাহমুদুল হোসাইন খান প্রমুখ।