অক্টোবর ১২, ২০২৩, ০৮:৫৭ পিএম
ছবি: দ্য রিপোর্ট ডট লাইভ
নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী খালিদ মাহমুদ চৌধুরী এমপি বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী দেশরত্ন শেখ হাসিনার গতিশীল ও প্রাজ্ঞ নেতৃত্বের কারণে প্রতিবেশী দেশের সাথে একটি বড় ধরনের সফলতা অর্জন করেছি। মেরিটাইম সেক্টরে আমাদের অধিকার প্রতিষ্ঠা করেছি। যেটা আমাদের আগে কখনোই ছিল না।’
তিনদিনব্যাপী আন্তর্জাতিক মেরিন অ্যান্ড অফশোর এক্সপো, ২০২৩ (বিমক্স ২০২৩) বৃহস্পতিবার ঢাকার ইন্টারন্যাশনাল কনভেনশন সিটি বসুন্ধরায় (আইসিসিবি) শুরু হয়েছে। শিপবিল্ডিং, শিপ রিসাইক্লিং, অফশোর, অয়েল অ্যান্ড গ্যাস সাপোর্ট, শিপিং, লজিস্টিক অ্যান্ড পোর্ট, ফিশিং ভেসেলস অ্যান্ড ফিসারির যন্ত্রপাতি ও মেশিনারিজ এই প্রদর্শনীতে স্থান পেয়েছে। সিঙ্গাপুরের ফায়ারওয়ার্কস ট্রেড মিডিয়া গ্রুপের সহযোগিতায় সেভর ইন্টারন্যাশনাল লিমিটেড এই প্রদর্শনীর আয়োজন করেছে। এই প্রদর্শনী চলবে ১৪ অক্টোবর পর্যন্ত প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত।
নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী খালিদ মাহমুদ চৌধুরী এমপি প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে প্রদর্শনীর উদ্বোধন করেন।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশস্থ নেদারল্যান্ডসের চার্জ দ্য অ্যাফেয়ার্স থিজ ওয়াউডস্ট্রা (Woudstra) )। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান মেরিটাইম ইউনিভার্সিটির ভাইস চ্যান্সেলর রিয়ার অ্যাডমিরাল মেহাম্মদ মুসা, পায়রা বন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান রিয়ার অ্যাডমিরাল গোলাম সাদেক, মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান রিয়ার অ্যাডমিরাল মীর এরশাদ আলী, নৌপরিবহন অধিদপ্তরের মহাপরিচালক কমডোর মোহাম্মদ মাকসুদ আলম, বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ-পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআইডব্লিউটিএ) চেয়ারম্যান কমডোর আরিফ আহমেদ মোস্তফা, সেভর ইন্টারন্যাশনাল লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. ফয়জুল আলম উপস্থিত ছিলেন।
প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, ‘মেরিটাইম সেক্টর আমাদের জন্য উন্মুক্ত হয়ে গেছে। মায়ানমার ও ভারতের সাথে আমাদের সমঝোতা হয়েছে। একচ্ছত্র একটি অর্থনৈতিক অঞ্চল হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। এটার মধ্য দিয়ে আমাদের সুনীল অর্থনীতির দ্বার উন্মোচন হয়ে গেছে। বাংলাদেশের সুনীল অর্থনীতির সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ২৬ টি সেক্টর নিয়ে কাজ করছে। আজকে যে প্রদর্শনী হচ্ছে তার সবটুকু কভার করেছে।’
খালিদ মাহমুদ চৌধুরী বলেন, ‘ধারাবাহিকভাবে তিন মেয়াদে প্রধানমন্ত্রী দেশরত্ন শেখ হাসিনার নেতৃত্বের ফলে মেরিটাইম সেক্টর অভূতপূর্ব অর্জন লাভ করেছে। এর মধ্যে বাংলাদেশের প্রথম নিজস্ব একটি পোর্ট `পায়রা পোর্ট` প্রতিষ্ঠা করতে পেরেছি । পায়রা পোর্টের সম্ভাবনা আগামী দিনে হাতছানি দিচ্ছে। মাতাবাড়ীতে গভীর সমুদ্র বন্দর নির্মাণ কার্যক্রম চলমান আছে। ২০২৬ সালের শেষের দিকে এটি ব্যবহার করতে পারব।’

তিনি বলেন, ‘আমাদের শিপ রিসাইক্লিং ও শিপবিল্ডিং সেক্টর পৃথিবীতে অনেক সুনাম অর্জন করেছে; বিশেষ করে প্রাইভেট সেক্টরে। শিপ রিসাইক্লিং এর বিষয়ে হংকং কনভেনশন অনুসমর্থন করেছি। আমরা সেগুলো অনুসরণ করে এগিয়ে যাচ্ছি। আগামী দিনে এর সম্ভাবনা আরও অনেক উজ্জ্বল আছে। শিপ রিসাইক্লিং এর ক্ষেত্রে পৃথিবীতে বাংলাদেশ প্রথম দিকে আছে। সামগ্রিক উন্নয়ন ও আধুনিকায়নের ক্ষেত্রে নৌপরিবহন মন্ত্রণালয় কাজ করে যাচ্ছে। বন্দর, টার্মিনাল ও নেভিগেশনাল উন্নয়নে বিনিয়োগ করছি। যাতে নৌ যোগাযোগ নির্বিঘ্ন ও সহজতর হয়।’
প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের লক্ষ্য বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলা প্রতিষ্ঠা করা। এ ভিশন বাস্তবায়নে আমরা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। আন্তর্জাতিক মেরিন অ্যান্ড অফশোর এক্সপোতে নেদারল্যান্ডস, যুক্তরাজ্য, সংযুক্ত আরব আমিরাত, জার্মানি, চীন, ভারতসহ আরো অনেক দেশের অংশগ্রহণ আমাদের মেরিটাইম ও ওশান শিল্পের সম্ভাবনা বাংলাদেশের বৈশ্বিক স্বীকৃতি আরো জোর দেয়।’
তিনি আশা করে বলেন, ‘আমাদের স্থানীয় মেরিটাইম এবং ওশান শিল্পের উদ্যোক্তারা প্রদর্শিত প্রযুক্তি ও যন্ত্রপাতি দেখে আরো অনেক আধুনিক বিষয়ে জানতে পারবে।’

প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘বঙ্গবন্ধুর স্বপ্ন সোনার বাংলা বাস্তবায়নে নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়, সরকার, বেসরকারি সেক্টর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে এগিয়ে যাচ্ছে। ২০০৮ সালের প্রেক্ষিত পরিকল্পনা ছিল- বাংলাদেশ ২০২১ সালে মধ্যম আয়ের দেশে পরিণত হবে। সেটা অর্জিত হয়েছে। এখনকার প্রেক্ষিত হলো- ২০৪১ সালের মধ্যে স্মার্ট ও উন্নত বাংলাদেশ। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার অগ্রসরমান নেতৃত্বের কারণেই ২০৪১ সালের আগেই উন্নত ও স্মার্ট বাংলাদেশে পৌঁছাতে সমর্থ্য হব। বাংলাদেশের এই যে উন্নয়ন; আমরা যেখানে যাচ্ছি সেখানেই ব্যাপকভাবে সমাদৃত হচ্ছি।’
তিনি বলেন, ‘আজ ভিয়েতনাম সফর করে এসেছি। ভিয়েতনাম একটি ডেভেলপিং কান্ট্রি। সেখানে গিয়ে বাংলাদেশ সম্পর্কে যা জেনেছি-সেটা আমাদেরকে আরো বেশি উৎসাহিত করেছে এবং সাহসী করে তুলেছে। ভিয়েতনামের সংগ্রামের ইতিহাস আছে। সেই জায়গা থেকে বাংলাদেশের প্রশংসা পাই, তখন বুঝতে অসুবিধা নাই, পৃথিবীর অন্যান্য দেশে বাংলাদেশ কিভাবে প্রশংসিত হচ্ছে। বাংলাদেশ যে উন্নয়নে তাক করা বিস্ময় সৃষ্টি করেছে, সেটা অনেকেরই ভাবনার কারণ হয়ে গেছে। সকল কিছুকে জয় করে শেখ হাসিনার নেতৃত্বে উন্নয়ন ও অগ্রগতি ধারা আমরা এগিয়ে নিব। সেক্ষেত্রে আমরা যারা এ সেক্টওে কাজ করছি তাদেরকে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ হতে হবে। এবং সেটা সরকারের প্রতি নয়, দেশের প্রতি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ হতে হবে।’