জুলাই ২৭, ২০২৩, ০২:০৬ পিএম
সংগৃহীত ছবি
বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের সাবেক মহাসচিব মুক্তিযোদ্ধা এম শাহজাহান মিয়া সমাজের ইতিবাচক পরিবর্তনে ভূমিকা রেখেছেন বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
বৃহস্পতিবার (২৭ জুলাই) সকালে প্রধানমন্ত্রীর প্রেস উইংয়ের পাঠানো এক শোকবার্তায় তিনি এ মন্তব্য করেন।
শোক বার্তায় বলা হয়, ‘এম শাহজাহান ছিলেন একজন পেশাদার সাংবাদিক। গণমাধ্যমে বিভিন্ন প্রতিবেদন ও তথ্য উপস্থাপনের মাধ্যমে তিনি সমাজের ইতিবাচক পরিবর্তনে ভূমিকা রেখেছেন। পাশাপাশি সাংবাদিক সংগঠনের নেতা হিসেবে সাংবাদিকদের কল্যাণ ও পেশাগত উৎকর্ষ সাধনে তাৎপর্যপূর্ণ অবদান রেখে গেছেন। তার মৃত্যুতে দেশের গণমাধ্যম এক কৃতী সাংবাদিককে হারাল। প্রধানমন্ত্রী তার বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের প্রতি গভীর সমবেদনা প্রকাশ করেন।’
প্রসঙ্গত, মুক্তিযোদ্ধা সাংবাদিক শাহজাহান বুধবার রাত ১০টার দিকে রাজধানী রামপুরায় নিজের বাসায় ইন্তেকাল করেন (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। তার বয়স হয়েছিল ৮০ বছর। তিনি বার্ধক্যজনিত শারীরিক নানা জটিলতায় ভুগছিলেন। এ অবস্থায় সম্প্রতি তিনি স্ট্রোকেও আক্রান্ত হয়ে চিকিৎসাধীন ছিলেন।
বৃহস্পতিবার বাদ যোহর জাতীয় প্রেস ক্লাবে শাহজাহান মিয়ার জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। মুন্সীগঞ্জ জেলার লৌহজং উপজেলার গ্রামের বাড়িতে জানাজা শেষে স্থানীয় কবরস্থানে তাকে দাফন করা হবে বলে জানা গেছে।
এম শাহজাহান মিয়া ১৯৪৪ সালের ১৭ সেপ্টেম্বর মুন্সীগঞ্জের লৌহজং উপজেলার খিদিরপাড়া ইউনিয়নের কাজিরগাঁও গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। ১৯৬১ সালে ম্যাট্রিক, ১৯৬৩ সালে ঢাকা কলেজ থেকে ইন্টারমেডিয়েট, ১৯৬৬ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ইতিহাসে অনার্স ও ১৯৬৭ সালে মাস্টার্স করেন তিনি। ১৯৭৪ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে কৃতিত্বের সাথে গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতায় ডিপ্লোমা ও ১৯৭৫ সালে মাস্টার্স করেন।
১৯৭০ সালে অধুনালুপ্ত ইংরেজি দৈনিক ‘দি পিপল’ পত্রিকায় পেশাগত জীবন শুরু করেন তিনি। শিফট্-ইন-চার্জ হিসেবে পদোন্নতি, ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ পর্যন্ত ওই পত্রিকায় কর্মরত। ১৯৭২ সালের এপ্রিল মাসে সহ-সম্পাদক ও রিপোর্টার হিসেবে বাসসে যোগদান করেন।
এম শাহজাহান মিয়া ১৯৮৬ থেকে ১৯৯৩ সাল পর্যন্ত ঐক্যবদ্ধ ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের (ডিইউজে) সভাপতি ছিলেন। এর আগে ১৯৮৪ ও ১৯৮৫ সালে দুই বার ডিইউজের সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। কর্মজীবনে তিনি ১৯৯৭ সালের ফেব্রুয়ারি থেকে ২০০০ সালের ২২ এপ্রিল পর্যন্ত মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটন ডিসিতে বাংলাদেশ দূতাবাসের প্রেস মিনিস্টার পদে দায়িত্ব পালন করেছেন।