দূর থেকেই কি রান্না হয়েছে বলে দিতেন সবচেয়ে লম্বা নাকের মানুষটি

দ্য রিপোর্ট ডেস্ক

মে ২৬, ২০২৩, ০৮:০১ পিএম

দূর থেকেই কি রান্না হয়েছে বলে দিতেন সবচেয়ে লম্বা নাকের মানুষটি

লম্বা নাকের জন্য সব কিছুর ঘ্রাণ সবার আগেই পেতেন তুরস্কের আর্তভিন শহরের বাসিন্দা মেহমেত ওজিউরেক। অন্যান্য মানুষ যেখানে কোনো গন্ধ পান না, সেই জায়গাতেও সবার আগে গন্ধ শনাক্ত করতে পারতেন তিনি। বাড়িতে ঢুকেই গন্ধ শুঁকে বলে দিতে পারতেন কী রান্না হয়েছে।

হৃদ্‌রোগে আক্রান্ত হয়ে ৭৫ বছর বয়সে মৃত্যুবরণ করেছেন বিশ্বের সবচেয়ে লম্বা নাকের মানুষ তুরস্কের মেহমেত ওজিউরেক। মেহমেত গত সপ্তাহে মারা গেছেন জানিয়ে গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডস শোক প্রকাশ করেছে।  

গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডসের দেওয়া তথ্য বলছে, গত সপ্তাহে মেহমেত অসুস্থ হয়ে পড়েছিলেন। এরপর তিনি হৃদ্‌রোগে আক্রান্ত হন। তাঁর অস্ত্রোপচার হওয়ার কথা ছিল। তবে চিকিৎসকেরা চেষ্টা করেও তাঁকে বাঁচাতে পারেননি।

লম্বা নাকের জন্য একাধিকবার গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডসের তালিকায় নাম লিখিয়েছেন তিনি। সবশেষ ২০২১ সালে। সেবার তাঁর নাকের পরিমাপ করা হয়েছিল ৩ দশমিক ৪৬ ইঞ্চি। এর আগে ২০০১ সালে যুক্তরাষ্ট্রে ও ২০১০ সালে ইতালিতে একই খেতাব জিতেছিলেন মেহমেত।

সংবাদমাধ্যমকে তাঁর ছেলে বারিস বলেন, ‘আমরা শোকাহত। আমার বাবা খুব বড় মনের মানুষ ছিলেন। কাউকে পীড়া না দেওয়ার চেষ্টা করে গেছেন। বাবা শুধু তাঁর নাক নিয়েই সুখী ছিলেন না, জীবন নিয়েও সুখী ছিলেন।’

গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডস বলছে, নিজের নাককে আশীর্বাদ বলে মনে করতেন মেহমেত। এমনকি এই নাকের জন্য তাঁর ঘ্রাণ নেওয়ার ক্ষমতাও আর সবার চেয়ে ভিন্ন ছিল বলে জানিয়েছিলেন।

একবার গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডসকে তিনি বলেছিলেন, তিনি এমন অনেক গন্ধ পেতেন, যা তাঁর আশপাশে থাকা লোকজন পেতেন না।

মেহমেত ২০১০ সালে ইতালির একটি টিভি শোতে বলেন, ‘আমার পূর্বপুরুষদের নাকও ছিল আমার মতো বড়। আমি বিশেষ এক শারীরিক সক্ষমতা নিয়ে জন্মেছি। অন্যদের চেয়ে আমার নাক অনেক বড়। এ নিয়ে আমার বন্ধুরা আমাকে ক্ষ্যাপায়। কোনো জায়গায় গেলে অনেকেই আমার নাক বারবার ঘুরে দেখেন। অনেক সময় বিরক্ত লাগলেও, ভালো লাগে। এই নাক আমাকে একটি বিশ্ব রেকর্ডের মালিক বানিয়েছে।’

আর্তভিন শহরে মেহমেতকে সমাহিত করা হয়েছে।

Link copied!