জুলাই ২, ২০২৬, ১২:৪১ পিএম
ছবি: সংগৃহীত
বিশ্বকাপের শেষ ৩২-এর ম্যাচে নাটকীয় এক প্রত্যাবর্তনের গল্প লিখেছে বেলজিয়াম। একসময় ২-০ গোলে পিছিয়ে পড়েও শেষ মুহূর্তে সমতায় ফিরে অতিরিক্ত সময়ে ৩-২ ব্যবধানে জয় তুলে নিয়ে শেষ ষোলোর টিকিট নিশ্চিত করেছে ইউরোপের দলটি। হৃদয়ভাঙা বিদায় নিতে হয়েছে সেনেগালকে।
সিয়াটলে অনুষ্ঠিত ম্যাচে শুরু থেকেই দারুণ খেলেছে সেনেগাল। ২৫তম মিনিটে হাবিব দিয়ারার গোলে এগিয়ে যায় আফ্রিকার প্রতিনিধিরা। বাঁ প্রান্ত থেকে সাদিও মানের দুর্দান্ত ক্রসে ইসমাইলা সারের হেড পোস্টে লেগে ফিরে এলে ফিরতি বলে জাল খুঁজে নেন দিয়ারা।
প্রথমার্ধে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে থাকা সেনেগাল দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই ব্যবধান দ্বিগুণ করে। নিয়াখাতের লম্বা পাস বুক দিয়ে নিয়ন্ত্রণে নিয়ে জোরালো হাফ-ভলিতে থিবো কোর্তোয়াকে পরাস্ত করেন ইসমাইলা সার। ২-০ ব্যবধানে এগিয়ে যাওয়ার পর ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ পুরোপুরি নিজেদের হাতে নিয়ে নেয় সেনেগাল।
সময়ের কাঁটা যখন ৮৫ মিনিট ছুঁইছুঁই, তখনও নিশ্চিত পরাজয়ের দিকেই এগোচ্ছিল বেলজিয়াম। কিন্তু মাত্র তিন মিনিটেই বদলে যায় পুরো ম্যাচের চিত্র।
৮৬তম মিনিটে রোমেলু লুকাকু গোল করে বেলজিয়ামকে ম্যাচে ফেরার আশা জাগান। সেই ধাক্কা সামলানোর আগেই ৮৯তম মিনিটে ইউরি টিলেমান্সের দুর্দান্ত হেডে ২-২ সমতা ফেরে। নিশ্চিত হারের মুখ থেকে অবিশ্বাস্যভাবে ফিরে আসে ইউরোপের দলটি।
নির্ধারিত ৯০ মিনিটে আর কোনো গোল না হওয়ায় ম্যাচ গড়ায় অতিরিক্ত সময়ে। অতিরিক্ত সময়ের প্রথমার্ধেও দুই দল গোল করতে ব্যর্থ হয়। তবে ম্যাচের সবচেয়ে নাটকীয় মুহূর্ত আসে অতিরিক্ত সময়ের যোগ করা মিনিটে।
ডোডি লুকেবাকিওর শট ক্রসবারে লেগে ফিরে এলে বেলজিয়াম পেনাল্টির দাবি তোলে। শুরুতে রেফারি খেলা চালিয়ে যেতে বললেও ভিডিও সহকারী রেফারির (ভিএআর) সহায়তায় রিপ্লে দেখে সিদ্ধান্ত বদলান তিনি। রিপ্লেতে দেখা যায়, লামিনে কামারা বল স্পর্শ না করে টিলেমান্সকে ফাউল করেছিলেন।
১২৫তম মিনিটে স্পট-কিক থেকে কোনো ভুল করেননি ইউরি টিলেমান্স। তার গোলে ৩-২ ব্যবধানে এগিয়ে যায় বেলজিয়াম। শেষ পর্যন্ত সেই ব্যবধান ধরে রেখে বিশ্বকাপে স্মরণীয় এক প্রত্যাবর্তনের জয় তুলে নেয় তারা।