রাজধানীতে কোরবানির বর্জ্য অপসারণে নিয়োজিত সাড়ে ২৯ হাজার জনবল

বাসস

মে ২৮, ২০২৬, ১২:৩২ পিএম

রাজধানীতে কোরবানির বর্জ্য অপসারণে নিয়োজিত সাড়ে ২৯ হাজার জনবল

পবিত্র ঈদুল আযহাকে সামনে রেখে রাজধানীতে কোরবানির পশুর বর্জ্য দ্রুত অপসারণে ব্যাপক প্রস্তুতি নিয়ে মাঠে নেমেছে ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে বর্জ্য অপসারণ নিশ্চিত করতে দুই সিটি কর্পোরেশনে মোট প্রায় ২৯ হাজার ৫০০ জনবল মাঠে নামানো হয়েছে।

বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কার্যক্রম নির্বিঘœ করতে দুই সিটি কর্পোরেশনের পরিচ্ছন্নতা বিভাগের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ঈদের ছুটি বাতিল করা হয়েছে। পাশাপাশি নগরবাসীর সুবিধার্থে খোলা হয়েছে বিশেষ হটলাইন। বর্জ্য সংরক্ষণ ও অপসারণে দুই সিটি কর্পোরেশন থেকে প্রায় ১৭ লাখ ৭০ হাজার প্লাস্টিক, পলিব্যাগ ও বায়োডিগ্রেডেবল ব্যাগ বিতরণ করা হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ঈদের দিন বিকেল থেকেই আনুষ্ঠানিকভাবে বর্জ্য অপসারণ কার্যক্রম শুরু হবে। রাজধানীতে এবার প্রায় ৭ লাখ পশু কোরবানি হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে, যেখান থেকে প্রায় ৫৫ হাজার টন
বর্জ্য সৃষ্টি হতে পারে।

ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের (ডিএসসিসি) প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আবদুস সালাম বাসস’কে জানান, ঈদের দিনের বর্জ্য ৮ ঘণ্টায় অপসারণ করা হবে। কোরবানির পশুর হাট ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনা তদারকিতে উচ্চপর্যায়ের কর্মকর্তাদের সমন্বয়ে বিশেষ তদারকি পরিষদ গঠন করা হয়েছে। বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, পরিবহন ও যান্ত্রিক বিভাগের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ছুটি বাতিল করে মাঠপর্যায়ে প্রস্তুত রাখা হয়েছে।

তিনি বলেন, ঈদের দিন দুপুর ১২টা থেকে বর্জ্য অপসারণের মূল কার্যক্রম শুরু হবে এবং পরবর্তী আট ঘণ্টার মধ্যেই প্রথম দিনের কোরবানির বর্জ্য সম্পূর্ণ অপসারণের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

ডিএসসিসি প্রশাসক নগরবাসীকে সতর্ক করে বলেন, কোরবানির বর্জ্য কোনোভাবেই ড্রেন বা নর্দমায় ফেলা যাবে না। এতে রোগজীবাণু ছড়ানোর পাশাপাশি বৃষ্টির সময় ভয়াবহ জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হতে পারে।

ডিএসসিসির জনসংযোগ কর্মকর্তা মো. রাসেল রহমান জানান, মাতুয়াইল স্যানিটারি ল্যান্ডফিলে বর্জ্য স্থানান্তর ও অপসারণে ব্যাপক প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।

আজ ২৮ এবং ২৯ ও ৩০ মে- এই তিন দিনে মোট ৩৩ হাজার ৯৪২ টন বর্জ্য অপসারণের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। এর মধ্যে আজ প্রথম দিনে ১৫ হাজার ৯৩৫ টন, দ্বিতীয় দিনে ১১ হাজার ৭৭৬ টন এবং তৃতীয় দিনে ৬ হাজার ২৩১ টন বর্জ্য অপসারণ করা হবে।

এছাড়া পশুর হাটের বাঁশ, আউড় ও অন্যান্য ময়লা ধাপে ধাপে অপসারণ করা হবে। প্রথম দিনে ৬০ শতাংশ, দ্বিতীয় দিনে ৩০ শতাংশ এবং তৃতীয় দিনে অবশিষ্ট ১০ শতাংশ বর্জ্য পরিষ্কার করা হবে।

চলতি বছর দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন এলাকায় প্রায় ১ লাখ ৭৪ হাজার পশু কোরবানি হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এসব বর্জ্য অপসারণে মোট ২ হাজার ১১৭টি যান ও যন্ত্রপাতি ব্যবহার করা হবে। এর মধ্যে রয়েছে কম্পেক্টর, ডাম্প ট্রাক, কন্টেইনার ক্যারিয়ার, পে-লোডার, এক্সকাভেটর, ব্যাকহো লোডার, বুলডোজার ও পানির গাড়ি।

পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমে সহায়তার জন্য ৪৬ টন ব্লিচিং পাউডার, ২১০ গ্যালন স্যাভলন এবং ১ লাখ ৪০ হাজার বায়োডিগ্রেডেবল ব্যাগ বিতরণ করা হবে। নগর ভবনে স্থাপিত কেন্দ্রীয় নিয়ন্ত্রণ কক্ষ থেকে পুরো কার্যক্রম সার্বক্ষণিক মনিটরিং করা হবে।

নাগরিক অভিযোগ গ্রহণ ও দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য দুটি হটলাইন নম্বর চালু রাখা হয়েছে। নম্বর দুটি হলো -০১৭০৯৯০০৮৮৮ ও ০২২২৩৩৮৬০১৪।

অন্যদিকে, ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের (ডিএনসিসি) প্রশাসক মো. শফিকুল ইসলাম খান জানান, ১২ ঘন্টার মধ্যে উত্তর সিটির কোরবানির বর্জ্য অপসারণের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।

তিনি বলেন, কোরবানির বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় জনসচেতনতা বাড়াতে প্রতিটি ওয়ার্ডে মাইকিং করা হয়েছে। এছাড়া মসজিদের ইমামদের মাধ্যমে নামাজের পর ও জুমার খুতবায় পরিচ্ছন্নতা বিষয়ে মুসল্লিদের উদ্বুদ্ধ করা হয়েছে।

তিনি বলেন, গত বছর ঈদুল আযহায় ডিএনসিসি এলাকায় মোট ২০ হাজার ৮৮৯ টন বর্জ্য অপসারণ করা হয়েছিল। এবারও একই পরিমাণ বর্জ্য অপসারণের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।

ডিএনসিসির উপ-প্রধান বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা মো. মফিজুর রহমান ভূঁইয়া বাসস’কে জানান, সংস্থার নিজস্ব সাড়ে ৬ হাজার পরিচ্ছন্নতা কর্মীর পাশাপাশি আরও সাড়ে ৪ হাজার বর্জ্য সংগ্রহকর্মী মাঠে কাজ করছেন। এছাড়া প্রতিটি ওয়ার্ডে ১০০ জন করে মোট সাড়ে ৫ হাজার স্বেচ্ছাসেবক পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম তদারকি করছেন। সব মিলিয়ে প্রায় ১৬ হাজার জনবল মাঠে রয়েছে।

বর্জ্য অপসারণে ডিএনসিসি ১৬ লাখ ৩০ হাজার পলিব্যাগ বিতরণ করেছে। এছাড়া জীবাণুনাশক হিসেবে ৩ হাজার ৬০০ বস্তা ব্লিচিং পাউডার বিতরণ হয়েছে। ব্যবহারের জন্য মোট ৭৫২টি যানবাহন ও যন্ত্রপাতি প্রস্তুত রয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে ট্রাক, ডাম্পার, পে-লোডার, পানির গাড়ি, কম্পেক্টর ট্রাক ও রোড সুইপার।

ডিএনসিসির জনসংযোগ কর্মকর্তা মো. জোবায়ের হোসেন বাসসকে জানান, ৫৪টি ওয়ার্ডে প্রায় এক হাজার মাংস প্রস্তুতকারীকে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে, যাতে সঠিকভাবে পশু জবাই ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করা যায়।

তিনি আরও জানান, কোরবানির তিন দিন আগে থেকেই ১০টি জোনে মনিটরিং টিম কাজ শুরু করেছে। পশু জবাইয়ের স্থান প্রস্তুত ও বর্জ্য চূড়ান্ত নিষ্পত্তির জন্য ল্যান্ডফিল প্রস্তুত রাখার নির্দেশনাও দেওয়া হয়েছে।

নগরবাসীর সহযোগিতা পেলে নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই রাজধানীকে বর্জ্যমুক্ত করা সম্ভব হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন দুই সিটি কর্পোরেশনের কর্মকর্তারা।

Link copied!