জানুয়ারি ১৯, ২০২৬, ০৫:২৯ পিএম
শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান | ছবি: সংগৃহীত
বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা, বীর মুক্তিযোদ্ধা ও শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ৯০তম জন্মবার্ষিকী আজ সোমবার। ১৯৩৬ সালের এই দিনে বগুড়ার গাবতলী উপজেলার বাগবাড়ি গ্রামে এক সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে তাঁর জন্ম।
শিক্ষাজীবন শেষে ১৯৫৩ সালে জিয়াউর রহমান পাকিস্তান সেনাবাহিনীতে যোগ দেন। ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ পাকিস্তান সামরিক বাহিনী তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানের জনগণের ওপর হামলা শুরু করলে তিনি পাকিস্তানি অধিনায়ককে বন্দি করে সশস্ত্র প্রতিরোধ গড়ে তোলেন। পরদিন ২৬ মার্চ চট্টগ্রামের কালুরঘাট বেতার কেন্দ্র থেকে বাংলাদেশের স্বাধীনতা ঘোষণা করেন এবং মুক্তিযুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়েন। দীর্ঘ নয় মাস তিনি অসীম সাহসিকতার সঙ্গে দেশমাতৃকার মুক্তির জন্য যুদ্ধ করেন।
স্বাধীনতার পর বাংলাদেশে গণতন্ত্র ও বাক্স্বাধীনতা যখন সংকটের মুখে পড়ে, সে সময় ১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বর সৈনিক-জনতার বিপ্লবের মাধ্যমে রাষ্ট্রক্ষমতার দায়িত্ব নেন জিয়াউর রহমান। ক্ষমতায় এসে তিনি বিচার বিভাগ ও সংবাদপত্রের স্বাধীনতা ফিরিয়ে দেন এবং বহুদলীয় গণতন্ত্রের পুনঃপ্রতিষ্ঠা করেন।
রাষ্ট্রনায়ক হিসেবে তিনি উৎপাদনমুখী রাজনীতির সূচনা করেন। কৃষি বিপ্লব, গণশিক্ষা কার্যক্রম ও শিল্প উৎপাদন বৃদ্ধির উদ্যোগ নেন। সেচ ব্যবস্থার উন্নয়নে স্বেচ্ছাশ্রম ও সরকারি সহায়তার মাধ্যমে ১ হাজার ৪০০ খাল খনন ও পুনঃখনন করা হয়। গণশিক্ষা কার্যক্রমের মাধ্যমে অল্প সময়ে প্রায় ৪০ লাখ মানুষকে অক্ষরজ্ঞান দেওয়া হয়। গ্রামাঞ্চলে শান্তি-শৃঙ্খলা রক্ষায় তিনি গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনী গঠন করেন।
১৯৭৮ সালের ১ সেপ্টেম্বর জিয়াউর রহমান বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) প্রতিষ্ঠা করেন। তাঁর প্রতিষ্ঠিত দল বিএনপি তিনবার রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত হয়। বর্তমানে দলের নেতৃত্ব দিচ্ছেন তাঁর জ্যেষ্ঠপুত্র তারেক রহমান।
জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান ও মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর পৃথক বাণী দিয়েছেন। মির্জা ফখরুল বলেন, জিয়াউর রহমান ছিলেন তার জীবদ্দশায় সকল ক্রান্তিকাল উত্তরণে অন্যতম দিশারী। রণনায়ক হিসেবে জিয়াউর রহমান ছিলেন দেশাবাসীর কাছে সমাদৃত ও সম্মানিত। ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ হানাদার বাহিনীর নৃশংস গণহত্যার বিরুদ্ধে তিনি সশস্ত্র প্রতিরোধ গড়ে তোলেন। ২৬ মার্চ চট্টগ্রাম কালুরঘাট বেতার কেন্দ্র থেকে জিয়া বাংলাদেশের স্বাধীনতা ঘোষণা করেন। স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়ে তিনি মুক্তিযুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়েন। দীর্ঘ ৯ মাস অসীম বীরত্বে দেশমাতৃকার মুক্তির জন্য লড়াই চালিয়ে যান।
দিবসটি উপলক্ষে আজ সকাল ১১টায় শেরেবাংলা নগরে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের মাজারে বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্যসহ সব পর্যায়ের নেতাকর্মীরা পুষ্পস্তবক অর্পণ ও ফাতেহা পাঠ করেন। আগামীকাল মঙ্গলবার বেলা ১১টায় কাকরাইলের ইনস্টিটিউশন অব ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স বাংলাদেশ (আইডিইবি) মিলনায়তনে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হবে, যেখানে বিএনপির জাতীয় নেতৃবৃন্দসহ বিশিষ্ট ব্যক্তিরা বক্তব্য দেবেন।
এ ছাড়া জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে বিএনপি কেন্দ্রীয় কার্যালয়সহ সারা দেশে দলীয় কার্যালয়গুলোতে দলীয় পতাকা উত্তোলন করা হবে। পাশাপাশি বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনগুলোর উদ্যোগে দেশের সব জেলা, মহানগর, উপজেলা, থানা ও ইউনিট পর্যায়ে আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হবে।