সেপ্টেম্বর ৫, ২০২৬, ১২:২৯ পিএম
সন্তার প্রসবের পর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন হাজতি বৃষ্টি খাতুন। ছবি: ইউএনবি
চারপাশে কারাগারের কঠোর বাস্তবতা। কিন্তু সেই বাস্তবতার বাইরে গতকাল শুক্রবার রাতে এক মুহূর্তের জন্য অন্যরকম এক আবহ তৈরি হলো।
অ্যাম্বুলেন্সে করে হাসপাতালে নেওয়ার পথে পুত্রসন্তানের জন্ম দিয়েছেন ঝিনাইদহ কারাগারের হাজতি বৃষ্টি খাতুন। নতুন অতিথির আগমনের খবর পেয়ে মা ও নবজাতককে ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানিয়েছে যশোর কেন্দ্রীয় কারাগার কর্তৃপক্ষ। পাশাপাশি তাদের চিকিৎসা ও প্রয়োজনীয় সামগ্রীরও ব্যবস্থা করা হয়েছে।
শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) রাত পৌনে ৯টার দিকে যশোর সদর উপজেলার চুড়ামনকাটি এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
বৃষ্টি খাতুনের (১৯) প্রসবযন্ত্রণা শুরু হলে তাকে ঝিনাইদহ কারাগার থেকে অ্যাম্বুলেন্সযোগে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের উদ্দেশে নেওয়া হচ্ছিল। পথিমধ্যে চুড়ামনকাটি এলাকায় পৌঁছালে তার প্রসববেদনা আরও তীব্র হয়। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছায় যে হাসপাতাল পর্যন্ত অপেক্ষা করার সুযোগ মেলেনি। অ্যাম্বুলেন্সেই তিনি একটি পুত্রসন্তানের জন্ম দেন।
নবজাতকের জন্মের খবর পাওয়ার পর দ্রুত মা ও শিশুর প্রয়োজনীয় চিকিৎসা এবং সার্বিক সহযোগিতার ব্যবস্থা করে যশোর কেন্দ্রীয় কারাগার কর্তৃপক্ষ। শিশুটির জন্য জামাকাপড়, মশারি, বিছানাপত্র, তোয়ালে, ন্যাপকিন, ডায়পার, অলিভ অয়েলসহ বিভিন্ন প্রয়োজনীয় সামগ্রী সরবরাহ করা হয়।
শুধু প্রয়োজনীয় সামগ্রী দিয়েই থেমে থাকেনি কারাগার কর্তৃপক্ষ। নতুন অতিথির আগমনকে আনন্দঘন করে তুলতে মা ও নবজাতককে ফুলের তোড়া দিয়ে শুভেচ্ছা জানানো হয়। উপস্থিতদের মধ্যে বিতরণ করা হয় মিষ্টিও।
যশোর কেন্দ্রীয় কারাগারের জেলার আবিদ আহমেদ বলেন, ‘বর্তমানে মা ও নবজাতক দুজনেই সুস্থ রয়েছেন। তাদের প্রয়োজনীয় চিকিৎসা ও সার্বিক সহযোগিতার বিষয়টি কারাগার কর্তৃপক্ষ গুরুত্বের সঙ্গে দেখছে।’
কারাগারের কঠোর পরিবেশের মধ্যেও একটি নতুন প্রাণের আগমন ঘিরে এমন মানবিক উদ্যোগে সেখানে তৈরি হয় আনন্দঘন পরিবেশ। হাজতি একজন নারী হলেও সন্তান জন্মের এই মুহূর্তে তার প্রতি সহমর্মিতা ও নবজাতকের প্রয়োজন মেটাতে কারাগার কর্তৃপক্ষের এই উদ্যোগ ভিন্ন এক মানবিক বার্তা দিয়েছে।