মেয়েদের জন্য ফের সার্বজনীন উপবৃত্তি পুনরায় চালুর সম্ভাবনা পর্যালোচনার নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর

দ্য রিপোর্ট ডেস্ক

আগস্ট ২৪, ২০২৬, ০৫:৫২ পিএম

মেয়েদের জন্য ফের সার্বজনীন উপবৃত্তি পুনরায় চালুর সম্ভাবনা পর্যালোচনার নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর

ছবি: সংগৃহীত

মেয়েদের শিক্ষায় উৎসাহ দিতে ষষ্ঠ শ্রেণি থেকে স্নাতক পর্যন্ত সার্বজনীন উপবৃত্তি আবার চালুর সম্ভাবনা খতিয়ে দেখার নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। একই সঙ্গে শিক্ষার্থীদের জন্য মিড-ডে মিল চালুর দুটি পদ্ধতি যাচাই করতে পৃথক দুই জেলায় পরীক্ষামূলক প্রকল্প নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

সোমবার (২৪ আগস্ট) বাংলাদেশ সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা সহায়তা ট্রাস্ট নিয়ে অনুষ্ঠিত বৈঠকে এসব নির্দেশনা দেওয়া হয়।

বৈঠকে ট্রাস্টের চলমান কার্যক্রম, উদ্দেশ্য এবং আর্থিক সহায়তার মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের ঝরে পড়া রোধে এর ভূমিকা নিয়ে প্রধানমন্ত্রীকে অবহিত করা হয়। এ সময় শিক্ষার্থীদের শিক্ষাজীবন অব্যাহত রাখতে আর্থিক সহায়তার বিভিন্ন দিক নিয়েও আলোচনা হয়।

বৈঠকে সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার আমলে মেয়েদের জন্য চালু হওয়া সার্বজনীন উপবৃত্তি কর্মসূচির প্রভাব ও অর্জন তুলে ধরা হয়। ওই কর্মসূচির ফলে মেয়েদের বিদ্যালয়ে উপস্থিতি বাড়ার পাশাপাশি শিক্ষাজীবন অব্যাহত রাখা এবং বাল্যবিবাহ নিরুৎসাহিত করার ক্ষেত্রে ইতিবাচক প্রভাব পড়েছিল বলে বৈঠকে উল্লেখ করা হয়।

এর পরিপ্রেক্ষিতে ষষ্ঠ শ্রেণি থেকে স্নাতক পর্যায় পর্যন্ত মেয়েদের জন্য সার্বজনীন উপবৃত্তি পুনরায় চালুর সম্ভাবনা যাচাই করতে নির্দেশ দেন প্রধানমন্ত্রী। এ জন্য সম্ভাব্য ব্যয়, উপকারভোগীর সংখ্যা, বাস্তবায়ন পদ্ধতি এবং এর সামাজিক ও শিক্ষাগত প্রভাব বিবেচনায় নিয়ে একটি বিস্তারিত প্রস্তাব তৈরির ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।

এ ছাড়া ছেলেদের শিক্ষায় আগ্রহ বাড়াতে মেধা ও যোগ্যতার ভিত্তিতে উপবৃত্তি দেওয়ার বিষয়েও আলোচনা হয়েছে।

বৈঠকে শিক্ষার্থীদের স্বাস্থ্য ও পুষ্টির বিষয়টিও গুরুত্ব পায়। বিদ্যালয়ে মিড-ডে মিল চালুর ক্ষেত্রে খাবারের পুষ্টিমান, নিরাপদভাবে প্রস্তুত ও সরবরাহ এবং মান নিয়ন্ত্রণ নিয়ে আলোচনা হয়। শিক্ষার্থীদের দেওয়া খাবার যেন পুষ্টিকর, নিরাপদ ও মানসম্মত হয়, তা নিশ্চিত করার ওপর প্রধানমন্ত্রী জোর দেন।

মিড-ডে মিল পরিচালনায় ব্যয়, ব্যবস্থাপনা, স্থানীয় পর্যায়ের অংশগ্রহণ এবং খাবারের মান নিয়ন্ত্রণ বিবেচনায় দুটি সম্ভাব্য পদ্ধতি নিয়ে আলোচনা হয়। কার্যকারিতা যাচাই করতে পৃথক দুটি জেলায় দুই পদ্ধতির পাইলট প্রকল্প চালুর নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।

বৈঠকে শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহসানুল হক মিলন, প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা বিষয়ক উপদেষ্টা ও মুখপাত্র মাহদী আমিন, শিক্ষা সচিব আবদুল খালেক, প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমনসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

 

Link copied!