শিশুর প্রাণ কেড়ে নেওয়া সেই ‘ধলাপাহাড়’ এর নতুন ঠিকানা ডুলাহাজারা সাফারি পার্ক

দ্য রিপোর্ট ডেস্ক

আগস্ট ২৪, ২০২৬, ০৩:০৮ পিএম

শিশুর প্রাণ কেড়ে নেওয়া সেই ‘ধলাপাহাড়’ এর নতুন ঠিকানা ডুলাহাজারা সাফারি পার্ক

ফাইল ছবি।

বাগেরহাটের ঐতিহাসিক খানজাহান আলী (রহ.) মাজারের দিঘিতে শিশুর মৃত্যুর ঘটনায় আলোচনায় আসা ‘ধলাপাহাড়’ নামের কুমিরটিকে কক্সবাজারের ডুলাহাজারা সাফারি পার্কে নেওয়া হয়েছে।

গত ১২ আগস্ট খুলনার বয়রা বন্যপ্রাণী উদ্ধার ও পুনর্বাসন কেন্দ্র থেকে বিশেষ ব্যবস্থায় কুমিরটিকে ডুলাহাজারায় পাঠানো হয়। খুলনা বিভাগীয় বন কর্মকর্তা নির্মল কুমার পাল বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

তিনি জানান, বন্যপ্রাণী উদ্ধার ও পুনর্বাসন কেন্দ্রে কোনো প্রাণী দীর্ঘদিন রাখার সুযোগ নেই। কুমিরটির জন্য তুলনামূলক বড় আবাসস্থলের প্রয়োজন বিবেচনা করে ডুলাহাজারা সাফারি পার্কে পাঠানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এ বিষয়ে ঢাকার বন সংরক্ষক, বন্য প্রাণী ও প্রকৃতি সংরক্ষণ অঞ্চলের সঙ্গে যোগাযোগের পর স্থানান্তরের সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হয়।

খুলনায় থাকা অবস্থায় কুমিরটি প্রায় খাবারই খেত না বলে জানান বন বিভাগের কর্মকর্তারা। খাবার খাওয়ানোর চেষ্টা ব্যর্থ হওয়ার পর অস্ট্রেলিয়ার কুমির বিশেষজ্ঞদের পরামর্শও নেওয়া হয়।

ডুলাহাজারা সাফারি পার্কের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মঞ্জুরুল আলম বলেন, পার্কে নেওয়ার পর কুমিরটিকে সুস্থই মনে হচ্ছে। পার্কের দিঘিতে সাধারণত সপ্তাহে একদিন খাবার দেওয়া হয়। সেখানে নেওয়ার পরদিন কুমিরটি একটি জীবিত মুরগি খেয়েছিল। এরপর আর তাকে খাবার খেতে দেখা যায়নি।

বন বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, মাদি কুমিরটির দৈর্ঘ্য প্রায় ৭ থেকে ৮ ফুট এবং ওজন আনুমানিক ৪০০ থেকে ৫০০ কেজি।

গত ১ জুন রাতে খানজাহান আলী (রহ.) মাজারের দিঘির মহিলা ঘাটে কুমিরের আক্রমণে আট বছরের শিশু ফাতেমা নিহত হয়। পরদিন ভোরে দিঘির পানিতে তার মরদেহ ভেসে উঠলে উদ্ধার করা হয়। এর আগে একটি কুকুরকেও কুমিরটি আক্রমণ করে মেরে ফেলেছিল।

শিশুটির মৃত্যুর পর দিঘিতে দর্শনার্থী ও স্থানীয় মানুষের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ দেখা দেয়। পরে ৩ জুন কুমিরটিকে দিঘি থেকে উদ্ধার করে খুলনার বয়রা বন্যপ্রাণী উদ্ধার ও পুনর্বাসন কেন্দ্রে নেওয়া হয়।

‘ধলাপাহাড়’ নামের এই কুমিরটির সঙ্গে খানজাহান আলী (রহ.)-এর দিঘির দীর্ঘ ইতিহাসও জড়িয়ে আছে। প্রচলিত রয়েছে, দিঘি খননের পর তিনি সেখানে দুটি কুমির ছেড়েছিলেন। ১৯১৪ সালে প্রকাশিত সতীশ চন্দ্র মিত্রের একটি ইতিহাসগ্রন্থেও ‘কালাপাহাড়’ ও ‘ধলাপাহাড়’ নামে দুটি কুমিরের উল্লেখ পাওয়া যায়।

তবে খানজাহান আলী (রহ.)-এর সময়কার কুমিরের বংশধারা ২০১৫ সালে শেষ হয়ে যায়। ওই বছরের ৫ ফেব্রুয়ারি ‘ধলাপাহাড়’ নামে শতবর্ষী একটি কুমির মারা যায়। পরে দিঘিতে কুমিরের সংখ্যা কমে গেলে ২০০৪ সালের ২৬ জুন ভারতের মাদ্রাজ ক্রোকোডাইল ব্যাংক থেকে ছয়টি মিঠাপানির কুমির এনে সেখানে ছাড়া হয়েছিল। সময়ের সঙ্গে কয়েকটি মারা যায় এবং কয়েকটি অন্যত্র সরিয়ে নেওয়া হয়। শেষ পর্যন্ত দিঘিতে টিকে ছিল ‘ধলাপাহাড়’ নামের এই মাদি কুমিরটি।

Link copied!