আগস্ট ২৪, ২০২৬, ০৫:৩৯ পিএম
ছবি: সংগৃহীত
ফেনীর সোনাগাজীর আলোচিত মাদরাসাছাত্রী নুসরাত জাহান রাফি হত্যা মামলায় হাইকোর্টের রায়ে সন্তোষ জানিয়েছেন তাঁর মা শিরিন আক্তার। তবে রায়কে কেন্দ্র করে পরিবারকে হুমকি দেওয়া হচ্ছে অভিযোগ করে নিরাপত্তা চেয়েছেন তিনি।
সোমবার দুপুরে সোনাগাজীর চরচান্দিয়া এলাকায় নিজ বাড়িতে সাংবাদিকদের কাছে রায় নিয়ে প্রতিক্রিয়া জানান শিরিন আক্তার।
তিনি বলেন, নুসরাতকে হত্যার পর ঘটনাটিকে আত্মহত্যা হিসেবে প্রচারের চেষ্টা হয়েছিল। হাইকোর্টের রায়ের মধ্য দিয়ে আবারও প্রমাণ হয়েছে, এটি আত্মহত্যা নয়, পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড। রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করে তিনি বলেন, ‘আমি এ রায়ে সন্তুষ্ট, আলহামদুলিল্লাহ।’
তবে পরিবারের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগের কথা জানিয়ে শিরিন আক্তার বলেন, তাঁদের বাড়িঘরে আগুন দিয়ে শেষ করে দেওয়ার হুমকি দেওয়া হচ্ছে। এ অবস্থায় প্রধানমন্ত্রীসহ সংশ্লিষ্টদের কাছে পরিবারের নিরাপত্তার ব্যবস্থা করার দাবি জানান তিনি।
রায়কে ঘিরে নুসরাতের বাড়িতে নিরাপত্তা বাড়ানো হয়েছে বলে জানিয়েছেন ফেনী মডেল থানার উপপরিদর্শক (এসআই) পলাশ চন্দ্র রায়। তিনি বলেন, কোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে বাড়তি পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
নুসরাত হত্যা মামলায় হাইকোর্ট সোনাগাজী ইসলামিয়া ফাজিল মাদরাসার তৎকালীন অধ্যক্ষ সিরাজ উদদৌলা ও শাহাদাত হোসেন শামীমের মৃত্যুদণ্ড বহাল রেখেছেন।
সোমবার বিচারপতি ভীষ্মদেব চক্রবর্তী ও বিচারপতি কে এম রাশেদুজ্জামান রাজার বেঞ্চ আসামিদের ডেথ রেফারেন্স, আপিল ও জেল আপিলের ওপর শুনানি শেষে এ রায় দেন।
এ ছাড়া চার আসামিকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড এবং ১০ জনকে খালাস দিয়েছেন আদালত। যাবজ্জীবন পাওয়া আসামিরা হলেন নূর উদ্দিন, সাইফুর রহমান মোহাম্মদ জোবায়ের, উম্মে সুলতানা ওরফে পপি এবং জাবেদ হোসেন ওরফে সাখাওয়াত হোসেন।
প্রায় সোয়া দুই ঘণ্টা ধরে রায় পড়া হয়। বেঞ্চের কনিষ্ঠ বিচারপতি কে এম রাশেদুজ্জামান রাজা রায়ের পুরো অংশ পড়ে শোনান। এ সময় আদালতে আসামি ও নুসরাতের স্বজনেরা উপস্থিত ছিলেন।
মামলার নথি অনুযায়ী, ২০১৯ সালের ২৭ মার্চ সোনাগাজী ইসলামিয়া ফাজিল মাদরাসার অধ্যক্ষ সিরাজ উদদৌলা নিজ কক্ষে ডেকে নুসরাতের সঙ্গে শ্লীলতাহানি করেন। এ ঘটনায় মামলা হলে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়।
মামলা তুলে নিতে রাজি না হওয়ায় ৬ এপ্রিল মাদরাসার ছাদে ডেকে নুসরাতের হাত-পা বেঁধে তাঁর গায়ে কেরোসিন ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়। গুরুতর দগ্ধ অবস্থায় তাঁকে ঢাকায় নেওয়া হয়। চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১০ এপ্রিল তাঁর মৃত্যু হয়।
এ ঘটনায় নুসরাতের বড় ভাই মাহমুদুল হাসান (নোমান) সোনাগাজী থানায় মামলা করেন। পরে মামলাটি হত্যা মামলায় রূপ নেয়।
২০১৯ সালের ২৪ অক্টোবর ফেনীর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল এ মামলার রায়ে অধ্যক্ষ সিরাজ উদদৌলাসহ ১৬ আসামিকে মৃত্যুদণ্ড দেন। পরে আসামিরা হাইকোর্টে আপিল ও জেল আপিল করেন। একই সঙ্গে নিম্ন আদালতের মৃত্যুদণ্ডের রায় অনুমোদনের জন্য ডেথ রেফারেন্সও হাইকোর্টে আসে।
দীর্ঘ শুনানি শেষে আজ দুই আসামির মৃত্যুদণ্ড বহাল রেখে বাকি আসামিদের বিষয়ে রায় দেন হাইকোর্ট।