বিপিসির নীতিমালা পরিবর্তনের দাবি, না হলে তেল উত্তোলন বন্ধের হুঁশিয়ারি

দ্য রিপোর্ট ডেস্ক

মার্চ ১১, ২০২৬, ১২:১৬ পিএম

বিপিসির নীতিমালা পরিবর্তনের দাবি, না হলে তেল উত্তোলন বন্ধের হুঁশিয়ারি

জরুরি সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম ডিলার্স, ডিস্ট্রিবিউটার্স, এজেন্টস অ্যান্ড পেট্রোল পাম্প ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন সিলেট বিভাগীয় শাখার নেতারা। ছবি: সংগৃহীত

বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি) ঘোষিত নতুন বিপণন নীতিমালা পরিবর্তনের দাবি জানিয়েছেন সিলেটের পেট্রোল পাম্প মালিকরা। তাদের দাবি, বর্তমান নীতিমালার কারণে প্রয়োজনের তুলনায় কম তেল সরবরাহ হচ্ছে, এতে ব্যবসায়িক ক্ষতির পাশাপাশি পাম্পগুলোতে উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতি তৈরি হচ্ছে। নীতিমালা সংশোধন না হলে ডিপো থেকে তেল উত্তোলন বন্ধ রাখার হুঁশিয়ারিও দিয়েছেন তারা।

মঙ্গলবার দুপুরে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম ডিলার্স, ডিস্ট্রিবিউটার্স, এজেন্টস অ্যান্ড পেট্রোল পাম্প ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন সিলেট বিভাগীয় শাখা আয়োজিত এক জরুরি সংবাদ সম্মেলনে এ ঘোষণা দেওয়া হয়।

সংগঠনের নেতারা জানান, গত কয়েক দিনে সিলেটের কয়েকটি পেট্রোল পাম্পে মালিক ও কর্মীদের ওপর হামলার ঘটনা ঘটেছে। সর্বশেষ এক পাম্পে তেল না পেয়ে এক গ্রাহক কর্মীকে ছুরিকাঘাত করেন। আহত ওই শ্রমিক বর্তমানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

তাদের অভিযোগ, বিপিসি সম্প্রতি একটি নতুন বিপণন নীতিমালা চালু করেছে। এতে গত বছরের মার্চ থেকে জুন পর্যন্ত একটি পাম্প যত তেল উত্তোলন করেছিল, তার গড় হিসাবের চেয়ে ২৫ শতাংশ কম তেল সরবরাহের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। বাস্তবে অনেক পাম্প মাসে ২০ থেকে ২২ দিন তেল উত্তোলন করে, কিন্তু গড় নির্ধারণ করা হয়েছে ৩০ দিন ধরে। এতে করে পাম্পগুলোতে সরবরাহ কমে যাচ্ছে।

পাম্প মালিকদের মতে, বিপণন কোম্পানিগুলোকে নির্দিষ্ট কোটা বেঁধে দেওয়ায় তারা আগের মতো তেল সরবরাহ করতে পারছে না। ফলে ডিপো থেকে তেল আনতে পরিবহন ব্যয় একই থাকলেও পাম্পে কম তেল আসছে, যা ব্যবসায়িকভাবে সমস্যার সৃষ্টি করছে।

সংগঠনের নেতারা আরও বলেন, সিলেটের গ্যাস ফিল্ডের কন্ডেনসেট থেকে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ অকটেন ও পেট্রোল উৎপাদন হয়। দেশে এসব জ্বালানির প্রকৃত ঘাটতি না থাকলেও নতুন নীতিমালার কারণে ডিপোতে মজুত থাকা তেল পাম্পে স্বাভাবিকভাবে সরবরাহ করা যাচ্ছে না। এতে সাধারণ মানুষ ক্ষুব্ধ হয়ে পাম্প মালিকদের ওপর দোষারোপ করছেন এবং অনেক ক্ষেত্রে সংঘর্ষের ঘটনাও ঘটছে।

তারা জানান, পাম্প মালিকরা কোনো ধরনের মজুতদারি বা সিন্ডিকেটের সঙ্গে জড়িত নন। নির্ধারিত দামের বেশি দামে কেউ তেল বিক্রি করলে সংগঠন তার বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ও আইনি ব্যবস্থা নেবে।

সংগঠনের দাবি, মাঠপর্যায়ের বাস্তবতা বিবেচনায় নিয়ে দ্রুত বিপণন নীতিমালা সংশোধন করতে হবে এবং রাষ্ট্রীয় বিপণন কোম্পানি পদ্মা, মেঘনা ও যমুনার মাধ্যমে স্বাভাবিক তেল সরবরাহ নিশ্চিত করতে হবে।

সংগঠনের তথ্য অনুযায়ী, সিলেট বিভাগে প্রতিদিন প্রায় ৮ থেকে ১০ লাখ লিটার ডিজেল, প্রায় ২ লাখ লিটার পেট্রোল এবং প্রায় দেড় লাখ লিটার অকটেনের চাহিদা রয়েছে। কিন্তু বর্তমানে সরবরাহ হচ্ছে এর তুলনায় অনেক কম। পরিস্থিতি সমাধান না হলে পাম্প খোলা থাকলেও ডিপো থেকে তেল উত্তোলন বন্ধ রাখা হতে পারে বলে তারা আশঙ্কা প্রকাশ করেন।

সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি ব্যারিস্টার রিয়াসাদ আজিম আদনানসহ অন্যান্য নেতারা উপস্থিত ছিলেন। তারা জানান, বিষয়টি জেলা প্রশাসকের কাছে লিখিতভাবে জানানো হয়েছে এবং শিগগিরই বাণিজ্যমন্ত্রীর সঙ্গেও আলোচনা করার উদ্যোগ নেওয়া হবে।

 

Link copied!