কেয়ার স্টারমার, ছবি: সংগৃহীত।
যুক্তরাজ্যের রাজনীতিতে নতুন অনিশ্চয়তার সৃষ্টি হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী কেয়ার স্টারমার দলীয় নেতৃত্ব ছাড়ার ঘোষণা দিয়েছেন। দীর্ঘদিন ধরে জনসমর্থন কমে যাওয়া, নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়ে সমালোচনা এবং দলীয় চাপের মুখে শেষ পর্যন্ত সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নিলেন তিনি।
সোমবার লন্ডনের ১০ ডাউনিং স্ট্রিটে দেওয়া এক বক্তব্যে স্টারমার জানান, দেশের স্বার্থকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়েই তিনি এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। নতুন নেতা নির্বাচিত না হওয়া পর্যন্ত তিনি প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করবেন বলেও জানান।
লেবার পার্টি জানিয়েছে, আগামী জুলাই মাসে নতুন নেতা নির্বাচনের প্রক্রিয়া শুরু হবে। সবকিছু পরিকল্পনা অনুযায়ী এগোলে সেপ্টেম্বরে পার্লামেন্টের নতুন অধিবেশন শুরুর আগেই নেতৃত্ব পরিবর্তন সম্পন্ন হবে।
২০২৪ সালের সাধারণ নির্বাচনে লেবার পার্টিকে বড় জয় এনে দিয়ে ১৪ বছরের কনজারভেটিভ শাসনের অবসান ঘটিয়েছিলেন স্টারমার। তবে ক্ষমতায় আসার পর একাধিক নীতিগত সিদ্ধান্ত এবং রাজনৈতিক বিতর্ক তার জনপ্রিয়তায় বড় ধাক্কা দেয়।
কল্যাণমূলক ব্যয় সংকোচন, প্রতিরক্ষা খাতে পরিকল্পনা এবং বিভিন্ন উচ্চপর্যায়ের নিয়োগ নিয়ে সমালোচনার মুখে পড়ে তার সরকার। একই সঙ্গে অভিবাসনবিরোধী রাজনৈতিক শক্তিগুলোর উত্থানও লেবার সরকারের ওপর চাপ বাড়িয়ে তোলে।
বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক স্থানীয় নির্বাচনে লেবার পার্টির দুর্বল ফল এবং দলের ভেতরে অসন্তোষ বাড়তে থাকায় স্টারমারের অবস্থান আরও নড়বড়ে হয়ে পড়ে।
দলীয় নেতৃত্বের দৌড়ে এগিয়ে থাকা সম্ভাব্য প্রার্থীদের মধ্যে রয়েছেন অভিজ্ঞ রাজনীতিক অ্যান্ডি বার্নহ্যাম। উপনির্বাচনে জয় পাওয়ার পর তার নেতৃত্বের সম্ভাবনা আরও জোরালো হয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে।
বিদায়ী বক্তব্যে স্টারমার তার উত্তরসূরির প্রতি পূর্ণ সমর্থনের আশ্বাস দিয়ে বলেন, আগামী নেতৃত্ব একটি আরও শক্তিশালী ও ন্যায়ভিত্তিক ব্রিটেন গঠনের সুযোগ পাবে।
তার পদত্যাগের মধ্য দিয়ে এক দশকের মধ্যে সপ্তম প্রধানমন্ত্রী পাওয়ার পথে এগোচ্ছে যুক্তরাজ্য।