ছবি: সংগৃহীত
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের প্রতিনিধিরা আগামীকাল শুক্রবার (১৯ জুন) সুইজারল্যান্ডের পাহাড়ি অবকাশকেন্দ্র বুর্গেনস্টকে বৈঠকে বসবেন বলে জানিয়েছে সুইস পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।
রয়টার্সের প্রতিবেদন অনুযায়ী, সুইস পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে বলেছে, ‘বর্তমান পরিস্থিতি অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান, মধ্যস্থতাকারী পাকিস্তান ও কাতার এবং সংশ্লিষ্ট অন্যান্য দেশগুলো আগামীকাল বুর্গেনস্টকে বৈঠক করবে। সেখানে চুক্তি বাস্তবায়ন নিয়ে প্রাথমিক আলোচনা অনুষ্ঠিত হবে।’
তবে সুইস কর্তৃপক্ষ বৈঠকের সময়সূচি বা বিস্তারিত বিষয়ে অতিরিক্ত কোনো তথ্য দেয়নি।
এর আগে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ সমঝোতা স্মারক আগামী শুক্রবার (১৯ জুন) সুইজারল্যান্ডের জেনেভায় আনুষ্ঠানিকভাবে স্বাক্ষরের কথা থাকলেও, নির্ধারিত সময়ের দুই দিন আগেই অর্থাৎ গত বুধবার (১৭ জুন) তা স্বাক্ষরিত হয়েছে। সূত্র অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষে প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প এবং ইরানের পক্ষে প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান এতে স্বাক্ষর করেন। এরপর ইরান জানায়, সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হওয়ায় সুইজারল্যান্ডে আলাদা করে আর কোনো আনুষ্ঠানিক স্বাক্ষর অনুষ্ঠান হবে না।
চলমান পরমাণু ইস্যুতে উত্তেজনার মধ্যেই সাম্প্রতিক মাসগুলোতে মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে সংঘাত ও কূটনৈতিক তৎপরতা বৃদ্ধি পেয়েছে। ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে একযোগে সামরিক আগ্রাসন শুরু করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল। প্রায় পাঁচ সপ্তাহ পর ৮ এপ্রিল যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়।
এরপরও অঞ্চলজুড়ে সংঘাত অব্যাহত থাকে। লেবাননে ইসরাইলের বিমান হামলায় ৩৫০ জনের বেশি নিহত হন। ১১ এপ্রিল পাকিস্তানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে বিরল সরাসরি আলোচনা হলেও তা কোনো অগ্রগতি ছাড়াই শেষ হয়। পরে ওয়াশিংটন ইরানের বন্দরগুলোর বিরুদ্ধে নৌ অবরোধ ঘোষণা করে।
১৪ এপ্রিল লেবানন ও ইসরাইল কয়েক দশকের মধ্যে প্রথমবারের মতো কূটনৈতিক আলোচনা শুরু করে এবং ১৭ এপ্রিল যুদ্ধবিরতির ঘোষণা দেয়। তবে হিজবুল্লাহ আলোচনায় না থাকায় অল্প সময়ের মধ্যেই আবার সংঘর্ষ শুরু হয়।
২১ এপ্রিল মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প ইরানের সঙ্গে যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বাড়ানোর ঘোষণা দেন, একই সময়ে পরোক্ষ আলোচনা চলতে থাকে। ৭ জুন ইসরাইল বৈরুতে হামলা চালালে ইরান পাল্টা ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করে। এরপর ইসরাইল মধ্য ও পশ্চিম ইরানে বিমান হামলা চালায়।
৯ জুন হরমুজ প্রণালীতে একটি হেলিকপ্টার ভূপাতিত হওয়ার ঘটনায় যুক্তরাষ্ট্র ইরানে হামলা চালায়। এর জবাবে ইরান কুয়েত, জর্ডান ও বাহরাইনে অবস্থিত মার্কিন ঘাঁটিতে আক্রমণ করে। পরবর্তী দিনগুলোতেও পাল্টাপাল্টি হামলা অব্যাহত থাকে।
সবশেষ ১৪ জুন ডনাল্ড ট্রাম্প ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ অবসানে একটি সমঝোতা স্মারক চূড়ান্ত করার ঘোষণা দেন। পরবর্তীতে গত বুধবার ট্রাম্প ও ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান অন্তর্বর্তীকালীন ওই চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন।