ছবি: সংগৃহীত
অস্বাভাবিক গরমে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে ফ্রান্স। চলমান তাপপ্রবাহের কারণে দেশটির বিভিন্ন অঞ্চলে জনজীবন ব্যাহত হচ্ছে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় সতর্কতা জারি করেছে কর্তৃপক্ষ এবং বন্ধ রাখা হয়েছে শত শত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান।
সোমবার দেশটির বেশ কয়েকটি এলাকায় বছরের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড হওয়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে। আবহাওয়া পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের কিছু এলাকায় তাপমাত্রা ৪৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে। রাজধানী প্যারিসেও পারদ ৩৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস ছুঁতে পারে।
ফরাসি আবহাওয়া বিভাগ জানিয়েছে, দেশের প্রায় অর্ধেক অঞ্চলে সর্বোচ্চ মাত্রার তাপ সতর্কতা কার্যকর করা হয়েছে। এ ধরনের পরিস্থিতি মোকাবিলায় স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে।
প্রচণ্ড গরমের কারণে ৮০০টির বেশি স্কুল সাময়িকভাবে বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। এছাড়া আরও প্রায় ১ হাজার ৮০০ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পাঠদানের সময়সূচিতে পরিবর্তন আনা হয়েছে। অনেক এলাকায় শিক্ষার্থীদের ঘরে রাখার পরামর্শও দেওয়া হয়েছে।
প্যারিস অঞ্চলের প্রশাসন বাসিন্দাদের অপ্রয়োজনে বাইরে না যাওয়ার আহ্বান জানিয়েছে। একই সঙ্গে গণপরিবহন ব্যবস্থায় বিঘ্ন ঘটার আশঙ্কার কথাও জানানো হয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, উচ্চ তাপমাত্রা রেলপথ ও অন্যান্য অবকাঠামোর ওপরও চাপ সৃষ্টি করতে পারে। ফলে যাতায়াত ব্যবস্থায় সাময়িক সমস্যা দেখা দেওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
এটি চলতি বছরে ফ্রান্সে দ্বিতীয় বড় তাপপ্রবাহ। এর আগে মে মাসেও দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে তাপমাত্রার নতুন রেকর্ড গড়েছিল।
আবহাওয়াবিদরা বলছেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে তাপপ্রবাহের সংখ্যা ও তীব্রতা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবেই এমন পরিস্থিতি ঘন ঘন দেখা যাচ্ছে বলে মনে করছেন তারা।
২০০৩ সালের ভয়াবহ তাপপ্রবাহের স্মৃতিও আবার সামনে চলে এসেছে। ওই সময় ফ্রান্সসহ ইউরোপের কয়েকটি দেশে কয়েক হাজার মানুষের প্রাণহানি ঘটে। বিজ্ঞানীদের আশঙ্কা, বৈশ্বিক উষ্ণায়নের ফলে ভবিষ্যতে এমন চরম আবহাওয়া আরও বেশি দেখা দিতে পারে।