জুন ২২, ২০২৬, ০৪:৪৮ পিএম
ছবি: সংগৃহীত
মধ্যপ্রাচ্যে দীর্ঘদিনের অস্থিরতা কমানোর লক্ষ্যে সুইজারল্যান্ডে অনুষ্ঠিত যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের উচ্চপর্যায়ের বৈঠক শেষ হয়েছে। আলোচনায় তাৎক্ষণিক কোনো চূড়ান্ত সমঝোতা না হলেও লেবাননের সংঘাত নিয়ন্ত্রণে যৌথভাবে কাজ করার বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হয়েছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলো।
সোমবার সমাপ্ত হওয়া এই বৈঠকের পর মধ্যস্থতাকারী কাতার ও পাকিস্তান এক যৌথ বিবৃতিতে জানায়, লেবাননে সংঘাত কমাতে একটি বিশেষ সমন্বয় কাঠামো গঠনে সম্মত হয়েছে উভয় পক্ষ। এতে লেবানন সরকারের প্রতিনিধিরাও যুক্ত থাকবেন। নতুন এই ব্যবস্থার লক্ষ্য হবে যুদ্ধবিরতি ও নিরাপত্তা-সংক্রান্ত শর্তগুলো বাস্তবায়ন তদারকি করা।
তবে ইসরায়েল ও হিজবুল্লাহর মধ্যে চলমান সংঘাত কতটা দ্রুত নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হবে, তা নিয়ে এখনও অনিশ্চয়তা রয়েছে। ইসরায়েল জানিয়েছে, উত্তরাঞ্চলে হামলার হুমকি অব্যাহত থাকলে তারা সামরিক অভিযান চালানোর অধিকার সংরক্ষণ করবে।
কূটনৈতিক সূত্রগুলো বলছে, সুইজারল্যান্ডের বৈঠকটি মূলত ইরান সংকটের স্থায়ী সমাধান খোঁজার লক্ষ্যে শুরু হওয়া ৬০ দিনের আলোচনাপ্রক্রিয়ার প্রথম ধাপ। আগামী কয়েকদিন কারিগরি পর্যায়ে আলোচনা অব্যাহত থাকবে, যাতে ভবিষ্যতে একটি পূর্ণাঙ্গ চুক্তির ভিত্তি তৈরি করা যায়।
বৈঠকে অংশ নেন যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স, বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ ও জ্যারেড কুশনার। ইরানের পক্ষে উপস্থিত ছিলেন দেশটির পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাকের কালিবাফ এবং পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি। ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, বৈঠক প্রায় ৮০ মিনিট স্থায়ী হয়।
আলোচনায় হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল, লেবাননের নিরাপত্তা পরিস্থিতি এবং ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচিসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয় উঠে আসে। যুক্তরাষ্ট্র চায়, পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে আলোচনায় ইরানকে সম্পৃক্ত রাখা হোক। অন্যদিকে তেহরান আবারও জানিয়েছে, তারা ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণের অধিকার থেকে সরে আসবে না।
বৈঠকের আগে দুই দেশের মধ্যে বাকযুদ্ধও দেখা যায়। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ইরানের বিরুদ্ধে কঠোর হুঁশিয়ারি দিলে তেহরান পাল্টা প্রতিক্রিয়া জানায়। পরে অবশ্য ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মধ্যস্থতাকারী দেশগুলোর ভূমিকার প্রশংসা করেন এবং লেবানন ইস্যুতে অগ্রগতিকে ইতিবাচক বলে উল্লেখ করেন।
এদিকে আলোচনার অংশ হিসেবে ইরানের তেল রপ্তানি ও স্থগিত থাকা কিছু সম্পদ ব্যবহারের বিষয়ে নীতিগত সমঝোতার ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। একই সঙ্গে উচ্চমাত্রায় সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুত কমানোর বিষয়েও আলোচনা হয়েছে বলে জানা গেছে।
বিশ্লেষকদের মতে, সুইজারল্যান্ডের এই বৈঠক তাৎক্ষণিক কোনো সমাধান না আনলেও যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে নতুন কূটনৈতিক প্রক্রিয়া শুরু হওয়ার ইঙ্গিত দিয়েছে। তবে লেবাননের সংঘাত এবং পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে মতপার্থক্য দূর না হলে চূড়ান্ত সমঝোতায় পৌঁছানো সহজ হবে না।