ইসরাইল-হিজবুল্লাহ যুদ্ধবিরতি, তবু শান্তি প্রক্রিয়ায় অনিশ্চয়তা

দ্য রিপোর্ট ডেস্ক

জুন ২০, ২০২৬, ০২:৫৮ পিএম

ইসরাইল-হিজবুল্লাহ যুদ্ধবিরতি, তবু শান্তি প্রক্রিয়ায় অনিশ্চয়তা

ছবি: সংগৃহীত

লেবাননে কয়েক দিনের রক্তক্ষয়ী সংঘাতের পর যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়েছে ইসরাইল ও হিজবুল্লাহ। তবে সাম্প্রতিক এই সমঝোতার মধ্যেও মধ্যপ্রাচ্যে স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠার প্রচেষ্টা এখনও নানা চ্যালেঞ্জের মুখে রয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের এক কর্মকর্তার বরাতে জানা গেছে, শুক্রবার দুই পক্ষ যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়। এর আগে ইসরাইলি হামলা ও পাল্টা সংঘর্ষে লেবাননজুড়ে ব্যাপক প্রাণহানির ঘটনা ঘটে।

লেবাননের কর্মকর্তাদের তথ্য অনুযায়ী, সর্বশেষ হামলায় অন্তত ৪৭ জন নিহত হয়েছেন। অন্যদিকে ইসরাইল জানিয়েছে, সংঘাতে তাদের চার সেনা প্রাণ হারিয়েছেন। যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের সাম্প্রতিক সমঝোতার পর এটিই সবচেয়ে বড় প্রাণহানির ঘটনা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

এদিকে, চলমান শান্তি প্রক্রিয়াকে এগিয়ে নিতে সুইজারল্যান্ডে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে যে আলোচনা হওয়ার কথা ছিল, তা আপাতত স্থগিত করা হয়েছে। বৈঠকের নতুন কোনো তারিখ এখনও ঘোষণা করা হয়নি।

সংঘাত নিরসনের কূটনৈতিক প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখতে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও এবং লেবাননের প্রেসিডেন্ট জোসেফ আউনের মধ্যে টেলিফোনে আলোচনা হয়েছে। লেবাননের প্রেসিডেন্ট ইসরাইলি হামলা বন্ধ এবং পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধবিরতি নিশ্চিত করতে যুক্তরাষ্ট্রের সহযোগিতা কামনা করেন।

মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, আলোচনায় হিজবুল্লাহকে নিরস্ত্র করার বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তুলে ধরা হয়েছে। পাশাপাশি লেবাননের পুরো ভূখণ্ডে কেন্দ্রীয় সরকারের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার প্রয়োজনীয়তার কথাও উল্লেখ করা হয়।
অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রে নিযুক্ত ইসরাইলের রাষ্ট্রদূত ইয়েচিয়েল লাইটার বলেছেন, যুদ্ধবিরতির বিষয়ে ইসরাইল ইতিবাচক অবস্থানে রয়েছে। তবে এর জন্য হিজবুল্লাহকে সব ধরনের হামলা বন্ধ করে চুক্তির শর্ত মেনে চলতে হবে।

চলতি সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে স্বাক্ষরিত সমঝোতা মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত প্রশমনের একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। এই উদ্যোগের অন্যতম লক্ষ্য ছিল লেবানন সীমান্তে চলমান উত্তেজনা কমিয়ে আনা এবং বৃহত্তর আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করা।

এদিকে ইসরাইলি সেনাবাহিনী দাবি করেছে, শুক্রবার তারা লেবাননে হিজবুল্লাহর ৮০টির বেশি অবস্থানে হামলা চালিয়েছে এবং সংগঠনটির বহু সদস্য নিহত হয়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে, যুদ্ধবিরতি কার্যকর হলেও দীর্ঘমেয়াদি শান্তি নিশ্চিত করতে রাজনৈতিক সমঝোতা, নিরাপত্তা নিশ্চয়তা এবং আঞ্চলিক কূটনৈতিক উদ্যোগের বিকল্প নেই।

Link copied!