সংগৃহীত ছবি
ভয়াবহ দাবানলে পুড়ছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মাউই দ্বীপ। স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার দাবানলে এ পর্যন্ত ৫৩ জনের মৃত্যু হয়েছে। তবে অনেকের অবস্থা গুরুতর হওয়ায় মৃত্যুর সংখ্যা আরও বাড়ার আশঙ্কা করছে কর্তৃপক্ষ।
বিবিসি ও সিএনএনের প্রতিবেদনে বলা হয়, দাবানল ক্রমেই প্রাণঘাতী হয়ে উঠছে। দ্বীপটিতে বৃহস্পতিবার নতুন ১৭ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েঢছে। এনিয়ে দ্বীপটিতে মোট ৫৩ জনের মৃত্যু হয়েছে।
হাওয়াইয়ের গভর্নর জশ গ্রিন মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএনকে ক্ষয়ক্ষতি সম্পর্কে জানান, দুই হাজারের বেশি মানুষ বিভিন্ন আশ্রয়কেন্দ্রে রাত কাটিয়েছেন। ১১ হাজার মানুষ বিদ্যুৎহীন হয়ে পড়েছেন। দাবানলে এক হাজার ৭০০ ভবন পুড়ে ছাই হয়ে গেছে।
তিনি বলেন, বিপর্যয় শুরুর পর থেকে কয়েক ডজন মানুষ নিহত হয়েছেন; কয়েক বিলিয়ন ডলারের সম্পত্তি ধ্বংস হয়েছে।
স্থানীয় জরুরি সেবা বিভাগ জানিয়েছে, নিহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে। ক্ষতি এড়াতে কর্তৃপক্ষ আশপাশের এলাকাগুলো থেকে বাসিন্দাদের সরিয়ে নিয়েছে; বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে সব ধরনের সড়কপথ। চার হাজারের মতো পর্যটক আটকা পড়েছেন সেখানে। দ্বীপটিতে ভ্রমণ ইচ্ছুক পর্যটকদের আবেদন বাতিল করা হয়েছে।
হাওয়াইয়ের গভর্নর সিলভিয়া লিউক এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, মঙ্গলবার রাতে ছড়িয়ে পেড়া দাবানলের কারণে আশ্রয়কেন্দ্রগুলোতে ধারণক্ষমতার বেশি লোক আশ্রয় নিয়েছেন। ক্ষতি কমাতে আমরা সাধ্যমতো চেষ্টা করে যাচ্ছি।
দাবানল থেকে বাঁচতে অনেকে সাগরে ঝাঁপ দিয়েছেন। বুধবার অনেককে সাগরের পানি থেকে উদ্ধার করেছে যুক্তরাষ্ট্রের কোস্টগার্ড সদস্যরা।
মাউই কাউন্টির মেয়র রিচার্ড বিসেন জুনিয়র জানান, ১২ হাজার বাসিন্দার এই শহরে অনেক বাড়িঘর এবং ব্যবসায়িক স্থাপনা পুরোপুরি ধ্বংস হয়ে গেছে। বিদ্যুৎবিহীন অবস্থায় রয়েছে প্রায় পুরো দ্বীপ।
স্থানীয় সময় মঙ্গলবার রাতে মাউইতে দাবানল শুরু হলে পাশ দিয়ে বয়ে যাওয়া ঘূর্ণিঝড় ডোরার বাতাসের তোড়ে অল্প সময়ের মধ্যেই চারদিকে ছড়িয়ে পড়ে।
মাউই দ্বীপের ফায়ার সার্ভিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, দাবানল এখনও পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আনা যায়নি। এলাকা ছেড়ে যাওয়া লোকজনকে সতর্ক করে তাদের এখনই বাড়িতে না ফিরতে বলা হয়েছে। দাবানল কবলিত এলাকাগুলোর পরিস্থিতি এখনও বিপজ্জনক ও অনিশ্চিত বলে জানিয়েছে তারা।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন মাউইর দাবানলকে ‘বড় ধরনের দুর্যোগ’ বলে ঘোষণা করেছেন। এর ফলে ক্ষয়ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে ও পুনর্নির্মাণে যুক্তরাষ্ট্রে ফেডারেল তহবিল দ্রুত পাওয়া সহজ হবে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।