মার্চ ২০, ২০২৬, ১২:৩৪ পিএম
Photo: Collected
হরমুজ প্রণালী দিয়ে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক রাখতে সহযোগিতার আগ্রহ প্রকাশ করেছে বিশ্বের ছয়টি প্রভাবশালী দেশ। তবে ইতালি, জার্মানি ও ফ্রান্স জানিয়েছে, যেকোনো কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হবে কেবল যুদ্ধবিরতির পর।
বার্তা সংস্থা এএফপি জানিয়েছে, ব্রিটেন, ফ্রান্স, জার্মানি, ইতালি, জাপান ও নেদারল্যান্ডস এক যৌথ বিবৃতিতে এ অবস্থান জানায়। তারা উপসাগরীয় অঞ্চলে বাণিজ্যিক জাহাজে সাম্প্রতিক হামলার ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করে এবং নিরাপদ নৌ চলাচল নিশ্চিত করতে আন্তর্জাতিক উদ্যোগের পক্ষে মত দেয়।
বিবৃতিতে দেশগুলো ইরানের বিরুদ্ধে বেসামরিক জাহাজে হামলার অভিযোগ তুলে তার নিন্দা জানায়। একই সঙ্গে চলমান সংকট মোকাবিলায় প্রাথমিক পর্যায়ের কিছু উদ্যোগকে স্বাগত জানানো হয়।
তবে ইউরোপের তিন দেশ ইতালি, জার্মানি ও ফ্রান্স স্পষ্ট করে দিয়েছে, তাৎক্ষণিক কোনো সামরিক পদক্ষেপে তারা যাচ্ছে না। তাদের মতে, যুদ্ধবিরতির পর আন্তর্জাতিকভাবে সমন্বিত কাঠামোর ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
বর্তমান পরিস্থিতিতে হরমুজ প্রণালী দিয়ে জাহাজ চলাচল প্রায় স্থবির হয়ে পড়েছে। এই নৌপথটি বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সরবরাহের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, কারণ বৈশ্বিক অপরিশোধিত তেল ও এলএনজির বড় একটি অংশ এখান দিয়ে পরিবহন করা হয়।
আন্তর্জাতিক সামুদ্রিক সংস্থার তথ্যমতে, প্রণালীর পশ্চিমাঞ্চলে হাজারো জাহাজ আটকা পড়েছে, যেখানে বিপুল সংখ্যক নাবিক অবস্থান করছেন।
যৌথ বিবৃতিতে দেশগুলো সতর্ক করে বলেছে, চলমান সংঘাত বিশ্বব্যাপী প্রভাব ফেলতে পারে, বিশেষ করে দুর্বল অর্থনীতির দেশগুলোর ওপর এর প্রভাব বেশি পড়বে। তারা ইরানকে হুমকি, মাইন পাতা, ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা বন্ধের আহ্বান জানিয়েছে।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্র হরমুজ প্রণালী পুনরায় চালু করতে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা চাইলেও সংশ্লিষ্ট দেশগুলো আপাতত সরাসরি সামরিক সম্পৃক্ততা থেকে সরে এসেছে। তবে দীর্ঘমেয়াদে একটি বহুপাক্ষিক উদ্যোগের সম্ভাবনা উন্মুক্ত রাখা হয়েছে।
ফ্রান্স ও জার্মানি জানিয়েছে, ভবিষ্যতে যেকোনো পদক্ষেপ নিতে হলে আন্তর্জাতিক ম্যান্ডেট এবং সংশ্লিষ্ট দেশের অনুমোদন প্রয়োজন হবে। একইভাবে ইতালিও বলেছে, যুদ্ধবিরতি ছাড়া কোনো ধরনের উদ্যোগে অংশ নেওয়া হবে না।
বর্তমান পরিস্থিতিতে সংঘাত কমিয়ে আনা এবং আন্তর্জাতিক সমন্বয়ের মাধ্যমে নিরাপদ নৌ চলাচল নিশ্চিত করার ওপরই গুরুত্ব দিচ্ছে সংশ্লিষ্ট দেশগুলো