মার্চ ৩১, ২০২৬, ০১:২০ পিএম
ছবি: সংগৃহীত
ইরানকে দ্রুত একটি সমঝোতায় পৌঁছাতে ১০ দিনের সময়সীমা বেঁধে দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে চুক্তি না হলে ইরানের গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোর ওপর কঠোর সামরিক হামলার হুঁশিয়ারিও দেওয়া হয়েছে।
হোয়াইট হাউসের নিয়মিত ব্রিফিংয়ে প্রেস সেক্রেটারি ক্যারোলিন লেভিট জানান, আগামী ৬ এপ্রিলের মধ্যে একটি কার্যকর চুক্তি দেখতে চায় যুক্তরাষ্ট্র। তিনি বলেন, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সমঝোতা না হলে ইরানের বিদ্যুৎকেন্দ্র, তেল স্থাপনা এবং খার্গ দ্বীপসহ গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলো লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হতে পারে।
তবে প্রকাশ্যে উত্তেজনা থাকলেও পর্দার আড়ালে আলোচনা এগোচ্ছে বলে দাবি করেছে হোয়াইট হাউস। লেভিটের ভাষ্য অনুযায়ী, ইরান কিছু মার্কিন শর্তে নীতিগতভাবে সম্মতি জানিয়েছে এবং আলোচনায় আগ্রহও বাড়ছে।
এদিকে হরমুজ প্রণালিতে তেলবাহী ট্যাঙ্কার চলাচল পুনরায় শুরু হওয়াকে আলোচনার ইতিবাচক ফল হিসেবে দেখছে যুক্তরাষ্ট্র। কয়েক দিনের মধ্যে অন্তত ২০টি ট্যাঙ্কার এই রুট ব্যবহার করবে বলে আশা করা হচ্ছে। তবে এ পথে কোনও ধরনের শুল্ক আরোপের চেষ্টা হলে তা মেনে নেওয়া হবে না বলেও সতর্ক করা হয়েছে।
অন্যদিকে, সম্ভাব্য যুদ্ধ ব্যয় বহনে পারস্য উপসাগরীয় মিত্রদের সম্পৃক্ত করার পরিকল্পনার কথাও জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। এ বিষয়ে মিত্র দেশগুলোর সঙ্গে আলোচনা হতে পারে বলে ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে।
নিজস্ব সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প সতর্ক করে বলেন, আলোচনায় অগ্রগতি না হলে পরিস্থিতি ভয়াবহ রূপ নিতে পারে। তিনি উল্লেখ করেন, প্রয়োজন হলে ইরানের জ্বালানি ও অবকাঠামোগত স্থাপনাগুলো ধ্বংস করে দেওয়া হবে।
হোয়াইট হাউস জানিয়েছে, চলমান উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে ওই অঞ্চলে ইতোমধ্যে ব্যাপক সামরিক উপস্থিতি জোরদার করা হয়েছে। হাজার হাজার সেনা ও যুদ্ধজাহাজ মোতায়েনের পাশাপাশি অতিরিক্ত বাহিনী প্রস্তুত রাখা হয়েছে, যাতে প্রয়োজনে দ্রুত অভিযান চালানো যায়।
পরিস্থিতি নিয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে উদ্বেগ বাড়ছে, তবে কূটনৈতিক সমাধানের সম্ভাবনাও এখনো পুরোপুরি শেষ হয়ে যায়নি বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।