শ্রীলংকায় সরকারবিরোধী আন্দোলনের মুখে প্রধানমন্ত্রী মাহিন্দা রাজাপক্ষে ও প্রেসিডেন্ট গোতাবায়া রাজাপক্ষে পদত্যাগ করেছেন। এর মধ্যে দেশ ছেড়ে পালিয়ে সিংগাপুরে চলে গেছেন গোতাবায়া। এমন পরিস্থিতিতে দেশের ভারপ্রাপ্ত প্রেসিডেন্ট হিসেবে হাল ধরেছেন প্রধানমন্ত্রী রনিল বিক্রমাসিংহে। তবে বিক্ষোভকারীরা এবার তার পদত্যাগ দাবিতেও সোচ্ছার হয়েছেন। রাজধানীতে বিক্ষোভ শুরু করছেন।
রনিলের পদত্যাগ চায় কেন?
সরকারের আর্থিক অব্যবস্থাপনা ও করোনা মহামারিতে অর্থনৈতিক বিপর্যয়ের কারণে ভয়াবহ সঙ্কটের কবলে পড়ে শ্রীলঙ্কা। জনগণের বিক্ষোভের এক পর্যায়ে পদত্যাগ করেন প্রধানমন্ত্রী মাহিন্দা রাজাপক্ষে। তবে ক্ষমতায় থেকে যান তার ছোট ভাই প্রেসিডেন্ট গোতাবায়া রাজাপক্ষে। সংবিধান রক্ষার্থে প্রেসিডেন্ট গোতাবায়া রনিল বিক্রমাসিংহেকে প্রধানমন্ত্রী পদে নিয়াগ দেন। রনিলকে শ্রীলংকার দীর্ঘসময়ের শাসক রাজাপক্ষের পরিবারের ঘনিষ্ঠজন বলে মনে করা হয়। আন্দোলনকারীদের অনেকে বিশ্বাস করেন, মাঠে নিজের পক্ষে পাশার দান চালবেন রনিল।
এবারের প্রেসিডেন্ট নির্বাচন পার্লামেন্টের সদস্যদের ভোটে নির্বাচিত হবেন। পার্লামেন্টে রাজাপক্ষের ক্ষমতাসীন শ্রীলঙ্কা পিপলস ফ্রন্ট পার্টির সমর্থনে তিনি প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে জয় পাবেন বলে মনে করছেন বিক্ষোভকারীরা। আর রনিল জয় পেলে রাজাপক্ষে পরিবারের সদস্যদের দুর্নীতির কোনো বিচার হবেনা। বরং ক্ষমতায় আবার আসতে পারেন রাজাপক্ষের পরিবার।
অঞ্জলি ওয়ান্দুরাগালা নামে বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষার্থী বার্তা সংস্থা এএফপিকে বলেন, “সবাইকে জবাবদিহির আওতায় আনার কথা বলে তিনি ক্ষমতায় এসেছিলেন,এমনকি রাজাপাকসেদেরও, কিন্তু তিনি কিছুই করেননি। এটা ভাবা অযৌক্তিক যে লোকেরা আবার তাকে বিশ্বাস করবে।”
বিক্ষোভকারীদের এক মুখপাত্র বার্তা সংস্থা এএফপিকে বলেছেন, ‘আমরা এখন রনিল বিক্রমাসিংহের বিরুদ্ধে প্রচারণায় নামতে বিক্ষোভে জড়িত দলগুলোর সাথে আলোচনা করছি।’