আগস্ট ৩০, ২০২৫, ০৬:৫৪ পিএম
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রধান প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম জানিয়েছেন, আসন্ন জাতীয় নির্বাচনকে ঘিরে রাজনৈতিক অনিশ্চয়তার কারণে চলমান মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলাগুলো দ্রুত শেষ করতে তারা বাধ্য হচ্ছেন।
শনিবার ঢাকায় আয়োজিত এক গোলটেবিল আলোচনায় তিনি এ কথা বলেন। অনুষ্ঠানটি যৌথভাবে আয়োজন করে নিখোঁজ তদন্ত কমিশন ও জাতিসংঘ মানবাধিকার হাইকমিশনারের কার্যালয় (ওএইচসিএইচআর)।
তাজুল ইসলাম বলেন, “আগামী ফেব্রুয়ারির নির্বাচনের পর যে সরকার ক্ষমতায় আসবে, তারা এসব বিচার অব্যাহত রাখবে কি না তা নিয়ে সংশয় আছে। এ কারণে আমরা যে পরিমাণ সময় ও নিখুঁতভাবে কাজ করা প্রয়োজন, তা করতে পারছি না। আমাদের বাধ্য হয়ে দ্রুত এগোতে হচ্ছে।”
তিনি জানান, জুলাইয়ের গণ-অভ্যুত্থান চলাকালীন হত্যাকাণ্ডের পাশাপাশি আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে সংঘটিত গুমসহ অন্যান্য অপরাধের মামলা ট্রাইব্যুনালে চলছে। এসব মামলায় অভিযোগপত্র গঠন না হলে তা হবে বড় ধরনের ব্যর্থতা।
প্রধান প্রসিকিউটর আরও বলেন, “এক হাজার ৮০০-এর বেশি গুমের মামলা আছে, প্রতিটির একাধিক শাখা রয়েছে। কয়েক মাসে এগুলো পুরোপুরি তদন্ত করা প্রায় অসম্ভব। তারপরও আমরা চেষ্টা করছি, কারণ আশঙ্কা আছে—পরবর্তী সরকার হয়তো এ প্রক্রিয়া আর এগিয়ে নেবে না।”
তিনি রাজনৈতিক দলগুলোর উদ্দেশে বলেন, “এ অপরাধগুলোর গুরুত্ব তারা যেন বোঝে। বিচার না হলে এগুলো আবার বাংলাদেশে ফিরে আসতে পারে, যা হবে জাতির জন্য সবচেয়ে বড় দুর্ভাগ্য।”
তাজুল ইসলাম জোর দিয়ে বলেন, অপরাধীর পদ বা পরিচয় দিয়ে তাকে রক্ষা করা যাবে না। “অপরাধী মানে অপরাধী। তাকে আড়াল করা মানে ন্যায়বিচার ব্যাহত করা, আর এটিও একটি অপরাধ।”
আলোচনায় আরও বক্তব্য রাখেন আইন উপদেষ্টা অধ্যাপক আসিফ নজরুল, শিল্প উপদেষ্টা আদিলুর রহমান খান, কমিশনের চেয়ারম্যান বিচারপতি মঈনুল ইসলাম চৌধুরী এবং জাতিসংঘ আবাসিক সমন্বয়কারীর কার্যালয়ের সিনিয়র মানবাধিকার উপদেষ্টা হুমা খান।