রামিসা ধর্ষণ-হত্যা: আত্মপক্ষ সমর্থনে এজলাসে সোহেল ও স্বপ্না

দ্য রিপোর্ট ডেস্ক

জুন ৩, ২০২৬, ১২:২৯ পিএম

রামিসা ধর্ষণ-হত্যা: আত্মপক্ষ সমর্থনে এজলাসে সোহেল ও স্বপ্না

ছবি: সংগৃহীত

শিশু রামিসাকে ধর্ষণ ও হত্যা মামলায় আত্মপক্ষ সমর্থনের জন্য আসামি সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না খাতুনকে আদালতে হাজির করা হয়েছে। বুধবার (৩ জুন) সকালে তাদের ঢাকার শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালে তোলা হয়।

আসামিরা নিজেদের বক্তব্য উপস্থাপনের সুযোগ পাবেন।

এর আগে মঙ্গলবার মাত্র এক দিনেই মামলার সাক্ষ্যগ্রহণ সম্পন্ন করেন ট্রাইব্যুনাল। মামলায় রামিসার বাবা, মা, বোন এবং তদন্ত কর্মকর্তাসহ মোট ১৬ জন সাক্ষী সাক্ষ্য দেন।

রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবীর দাবি, সাক্ষীদের জবানবন্দিতে আসামিদের বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে। বুধবার আসামিদের আত্মপক্ষ সমর্থনের পর উভয় পক্ষের আইনজীবীদের যুক্তিতর্ক উপস্থাপনেরও সম্ভাবনা রয়েছে। এরপরই মামলার রায়ের তারিখ ঘোষণা করা হতে পারে।

গত ২৪ মে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন। অভিযোগপত্রে সোহেল রানার বিরুদ্ধে ধর্ষণ ও হত্যা এবং তার স্ত্রী স্বপ্নার বিরুদ্ধে অপরাধে সহযোগিতার অভিযোগ আনা হয়েছে।

সোমবার (১ জুন) দুই আসামির বিরুদ্ধে ধর্ষণ, হত্যা ও মরদেহ গোপনের অভিযোগে চার্জ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দেন আদালত। একই দিন বিকেলে মামলার বাদীসহ ১৭ জন সাক্ষীকে আদালতে হাজির হওয়ার জন্য সমন জারি করা হয়।

মামলার নথি অনুযায়ী, গত ২৪ মে আদালত পুলিশের দাখিল করা অভিযোগপত্র আমলে নিয়ে ১ জুন অভিযোগ গঠন শুনানির তারিখ নির্ধারণ করেছিলেন। তদন্তে ডিএনএ রিপোর্ট, ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন এবং ফরেনসিক আলামতের ভিত্তিতে অভিযোগপত্র প্রস্তুত করা হয়েছে বলে জানা গেছে।

মামলা সূত্রে জানা যায়, পপুলার মডেল হাই স্কুলের দ্বিতীয় শ্রেণির ছাত্রী ছিল রামিসা। গত ১৯ মে সকাল সাড়ে ৯টার দিকে ঘর থেকে বের হলে স্বপ্না তাকে কৌশলে নিজের রুমের ভেতরে নিয়ে যায়। ওইদিন সকাল সাড়ে ১০টার দিকে রামিসাকে স্কুলে যাওয়ার জন্য খোঁজাখুঁজি শুরু করেন তার মা।

এক পর্যায়ে আসামির ঘরের সামনে শিশুটির একটি স্যান্ডেল পড়ে থাকতে দেখেন তিনি। ডাকাডাকির পর কোনো সাড়াশব্দ না পেয়ে রামিসার বাবা-মা এবং আশপাশের ফ্ল্যাটের বাসিন্দারা দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করেন। এরপর দেখতে পান সোহেল রানার শোবার ঘরের মেঝেতে রামিসার মাথাবিহীন মরদেহ পড়ে রয়েছে। আর তার মাথা পাওয়া যায় বাথরুমের ভেতরে একটি বড় বালতির মধ্যে।

জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এর মাধ্যমে কল পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করে এবং স্বপ্নাকে হেফাজতে নেয়। পরে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা থানার সামনে থেকে সোহেল রানাকে গ্রেফতার করা হয়।

এ ঘটনায় রামিসার বাবা আব্দুল হান্নান মোল্লা বাদী হয়ে পল্লবী থানায় মামলা দায়ের করেন। গ্রেফতার হওয়ার পর ২০ মে আদালতে দোষ স্বীকার করে জবানবন্দি দেন সোহেল রানা। ঘটনার আগে ইয়াবা সেবন করেছিল বলে জবানবন্দিতে জানায় সে।

Link copied!