মাদরাসাছাত্রের মৃত্যু নিয়ে ধোঁয়াশা, জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক ৩ শিক্ষক

দ্য রিপোর্ট ডেস্ক

সেপ্টেম্বর ৩, ২০২৬, ১১:৫১ এএম

মাদরাসাছাত্রের মৃত্যু নিয়ে ধোঁয়াশা, জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক ৩ শিক্ষক

ছবি: সংগৃহীত

নড়াইলে মাদরাসাছাত্র সৈয়দ সোলাইমান ইসলামের (১৪) মৃত্যু নিয়ে পরস্পরবিরোধী দাবি উঠেছে। পরিবারের অভিযোগ, মাদরাসায় নির্যাতনের শিকার হয়ে তার মৃত্যু হয়েছে। অন্যদিকে মাদরাসা কর্তৃপক্ষ বলছে, অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে নেওয়ার পর মারা গেছে সে। ঘটনার তদন্তে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তিন শিক্ষককে আটক করেছে পুলিশ।

সোলাইমান সদর উপজেলার রামচন্দ্রপুর গ্রামের সৈয়দ ইকরামুল ইসলামের ছেলে। সে নড়াইল শহরের লস্করপুর-চাঁনমারি এলাকার মারকাযুল কোরআন মাদরাসার কিতাব বিভাগের প্রথম বর্ষের ছাত্র এবং আবাসিক হিসেবে সেখানে থাকত।

নিহতের বাবা ইকরামুল ইসলাম জানান, মঙ্গলবার সকালে বাড়ি থেকে মাদরাসায় যায় সোলাইমান। পরদিন বেলা ১১টার দিকে মাদরাসা কর্তৃপক্ষ পরিবারের সদস্যদের জানায়, সে অসুস্থ হয়ে পড়েছে। পরে স্বজনরা তাকে নড়াইল জেলা হাসপাতালে ভর্তি করেন। অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য যশোর নেওয়ার পথে বুধবার বিকেলে তার মৃত্যু হয়।

ইকরামুল ইসলামের অভিযোগ, সোলাইমানের ঘাড়সহ শরীরের বিভিন্ন জায়গায় আঘাতের চিহ্ন দেখা গেছে। তাঁর দাবি, অসুস্থ হওয়ার পরও কয়েক ঘণ্টা মাদরাসা কর্তৃপক্ষ তাকে হাসপাতালে নেয়নি। মঙ্গলবার রাতেই তাকে নির্যাতন করে হত্যা করা হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি। এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত দাবি করেছেন নিহতের বাবা।

তবে নির্যাতন বা হত্যার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন মাদরাসার অধ্যক্ষ মাওলানা নাজমুস সায়াদাৎ আল মামুন। তিনি বলেন, কোনো শিক্ষক সোলাইমানকে শারীরিকভাবে নির্যাতন করেননি। অসুস্থ হয়ে পড়ার পর তাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং সেখানেই তার মৃত্যু হয়েছে। ময়নাতদন্তের পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানা যাবে। মাদরাসার কেউ জড়িত থাকলে আইন অনুযায়ী যে শাস্তি হবে, তা মেনে নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।

নড়াইল সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রাসেল সরোয়ার জানান, ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য মাদরাসার তিন শিক্ষক ইউসুফ হায়দার, হাসিবুর রহমান ও ফাহাদ শেখকে আটক করা হয়েছে। তবে এখনো নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে থানায় লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়নি।

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার রকিবুল হাসান জানান, ময়নাতদন্তের জন্য সোলাইমানের মরদেহ জেলা হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়া গেলে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যাবে।

Link copied!