সাংবাদিক উৎস হত্যা: একজনের মৃত্যুদণ্ড, দুজনের যাবজ্জীবন

ইউএনবি

সেপ্টেম্বর ২, ২০২৬, ০৭:৪২ পিএম

সাংবাদিক উৎস হত্যা: একজনের মৃত্যুদণ্ড, দুজনের যাবজ্জীবন

সাংবাদিকদের সঙ্গে আদালত প্রাঙ্গণে কথা বলছেন নিহত উৎসের মা নুরজাহান বেগম নুরী। ছবি: ইউএনবি

রংপুরে সাংবাদিক মশিউর রহমান ওরফে উৎস রহমান হত্যা মামলায় এক আসামিকে মৃত্যুদণ্ড ও দুজনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। তবে এ মামলায় মূল অভিযুক্তকে খালাস দেওয়ায় অসন্তোষ প্রকাশ করেছে নিহতের পরিবার।

বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) দুপুরে রংপুর মহানগর দায়রা জজ আদালতের বিচারক মশিউর রহমান খান এ রায় দেন।

রায়ে রুবেল ওরফে হেকরমকে মৃত্যুদণ্ড এবং এলিন ও শুভ কুমারকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়। তবে দণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা পলাতক রয়েছেন।

এ মামলায় মূল অভিযুক্ত চিহ্নিত মাদককারবারি জহিরন আক্তার জুঁই ওরফে গেদিকে খালাস দিয়েছেন আদালত।

রায়ের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট আব্দুল হাদী বেলাল ও বাদীপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট পলাশ কান্তি নাগ। রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে উচ্চ আদালতে যাওয়ার কথা জানিয়েছে নিহত সাংবাদিক উৎস রহমানের পরিবার।

মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, ২০১৫ সালের ২৩ ডিসেম্বর সন্ধ্যায় রংপুরের স্থানীয় দৈনিক যুগের আলো কার্যালয়ে যান সাংবাদিক মশিউর রহমান ওরফে উৎস রহমান। এরপর রাতে তিনি আর বাড়ি ফেরেননি। পরদিন সকালে নগরীর ধর্মদাস এলাকায় একটি গাছের সঙ্গে হাত-পা বাঁধা অবস্থায় তার মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।

এ ঘটনায় নিহতের মা নুরজাহান বেগম নুরী রংপুর কোতোয়ালি থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলায় পুলিশ আটজনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দেয়। পরে আদালত ছয়জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করেন।

১০ বছর ৯ মাসের বেশি সময় ধরে মামলাটির বিচারকার্য চলে। এ সময় ১১ জন সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ ও উভয়পক্ষের আইনজীবীদের যুক্তিতর্ক শেষে আজ (বুধবার) রায় ঘোষণা করেন আদালত।

এদিকে ন্যায়বিচার থেকে বঞ্চিত হয়েছেন দাবি করে মামলার বাদী নুর জাহান বেগম জানান, এই রায়ে তারা সন্তুষ্ট না হওয়ায় উচ্চ আদালতে আপিল করবেন তারা।

রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী আব্দুল হাদী বেলাল ও বাদীপক্ষের আইনজীবী পলাশ কান্তি নাগ বলেন, মামলার মূল অভিযুক্ত জহিরন আক্তার জুঁই ওরফে গেদি তিন লাখ ৬০ হাজার টাকা দিয়ে সাংবাদিক উৎস রহমানকে হত্যা করিয়েছে। অথচ আদালত হত্যাকাণ্ডের সেই মাস্টার মাইন্ডকেই বেকসুর খালাস দিয়েছেন। এ রায়ে আমরা আইনজীবীসহ নিহতের পরিবার সংক্ষুব্ধ। এ মামলার বিষয়ে উচ্চ আদালতে আপিল করা হবে। এভাবে হত্যার পর মূলহোতা পার পেয়ে গেলে সমাজে অপরাধ প্রবণতা আরও বাড়বে বলেও আশঙ্কা প্রকাশ করেন তারা।

রায় নিয়ে সাংবাদিক সমাজেও মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। সাংবাদিকদের মতে এই রায় সন্তোষজনক নয়

Link copied!