যুবদল নেতাকে গুলি করে হত্যা, আড়াই ঘণ্টা সড়ক অবরোধ

দ্য রিপোর্ট ডেস্ক

জুন ১৩, ২০২৬, ০৮:২০ পিএম

যুবদল নেতাকে গুলি করে হত্যা, আড়াই ঘণ্টা সড়ক অবরোধ

ছবি: সংগৃহীত

চট্টগ্রামের রাউজান উপজেলায় যুবদল নেতা মাসুদ উল হক চৌধুরী (৪৫) হত্যার প্রতিবাদে চট্টগ্রাম-কাপ্তাই সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেছেন বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা। শনিবার দুপুর আড়াইটা থেকে বিকেল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত উপজেলার পাহাড়তলী চৌমুহনী বাজার এলাকায় সড়ক অবরোধ করে তারা বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করেন। একই সময়ে রাঙ্গুনিয়া উপজেলার ইছাখালী এলাকাতেও কাপ্তাই সড়কে টায়ার জ্বালিয়ে বিক্ষোভ করেন নেতাকর্মীরা।

নিহত মাসুদ উল হক রাঙ্গুনিয়া উপজেলা যুবদলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক ছিলেন। আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচনে রাঙ্গুনিয়া উপজেলার বেতাগী ইউনিয়নের সম্ভাব্য চেয়ারম্যান প্রার্থী হিসেবেও তিনি আলোচনায় ছিলেন। তিনি বেতাগী ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান পেয়ারুল ইসলাম চৌধুরী স্বপনের ছোট ভাই এবং সাবেক চেয়ারম্যান মরহুম খালেদ চৌধুরীর ছেলে।

শনিবার দুপুর দেড়টার দিকে রাউজান উপজেলার পাহাড়তলী ইউনিয়নের চৌমুহনী বাজার এলাকায় তাকে প্রকাশ্যে গুলি করে হত্যা করা হয়। প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য অনুযায়ী, মোটরসাইকেল ও সিএনজিচালিত অটোরিকশায় এসে ৫ থেকে ৬ জনের একটি দল তাকে লক্ষ্য করে গুলি চালিয়ে পালিয়ে যায়।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, বেতাগীর বাড়ি থেকে চট্টগ্রাম শহরে যাওয়ার উদ্দেশ্যে সিএনজিচালিত অটোরিকশায় করে পাহাড়তলী চৌমুহনী স্টেশনে পৌঁছান মাসুদ। অটোরিকশা থেকে নামার পরপরই দুর্বৃত্তরা তাকে লক্ষ্য করে গুলি ছোড়ে। তিনি মাটিতে লুটিয়ে পড়লে হামলাকারীরা তার শরীরে লোহার রড দিয়ে আঘাত করে মৃত্যু নিশ্চিত করে এবং দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করে।

ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়লে এলাকায় উত্তেজনা দেখা দেয়। হত্যার বিচার দাবিতে বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা চট্টগ্রাম-কাপ্তাই সড়কের পাহাড়তলী অংশে টায়ার জ্বালিয়ে অবরোধ কর্মসূচি পালন করেন। এতে সড়কের দুই পাশে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয় এবং ভোগান্তিতে পড়েন সাধারণ যাত্রীরা।

পরে ঘটনাস্থলে যান চট্টগ্রাম জেলার পুলিশ সুপার মো. মাসুদ আলম। তিনি বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে কথা বলে হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনার আশ্বাস দিলে বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে অবরোধ তুলে নেওয়া হয়। এরপর সড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়।

পুলিশ ও স্থানীয় বাসিন্দাদের ধারণা, বালুর ব্যবসাকে কেন্দ্র করে বিরোধের জেরে এ হত্যাকাণ্ড ঘটতে পারে।

পাহাড়তলী ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি নুরুল আলম বলেন, ‘একদল দুর্বৃত্ত মোটরসাইকেলে এসে পর পর বেশ কয়েকটি গুলি করে পালিয়ে গেছে। নিহত মাসুদ রাঙ্গুনিয়া উপজেলা যুবদলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক ছিলেন। এ ঘটনায় জড়িতদের গ্রেফতার করে শাস্তি দাবি জানাচ্ছি আমরা।’

চট্টগ্রামের সহকারী পুলিশ সুপার (রাউজান-রাঙ্গুনিয়া সার্কেল) বেলায়েত হোসেন বলেন, ‘পাহাড়তলী চৌমুহনী বাজারে মাসুদ নামে এক ব্যক্তিকে কে বা কারা গুলি করে হত্যা করে পালিয়ে গেছে। তার লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় জড়িতদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার চেষ্টা চলছে।’

উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর থেকে রাউজান উপজেলায় ২৪টি হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। নিহতদের মধ্যে অধিকাংশই বিএনপি ও এর অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মী বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।

Link copied!