স্পাইডার-ম্যানের দাপটে হলিউডের গ্রীষ্মকালীন বক্স অফিসে নতুন রেকর্ড

শোবিজ ডেস্ক

সেপ্টেম্বর ৯, ২০২৬, ০১:৩১ পিএম

স্পাইডার-ম্যানের দাপটে হলিউডের গ্রীষ্মকালীন বক্স অফিসে নতুন রেকর্ড

ছবি: মার্ভেল

হলিউডের বক্স অফিসে এবার রীতিমতো ইতিহাস! ১৩ বছর আগের রেকর্ড ভেঙে ২০২৬ সালের গ্রীষ্মকালীন মৌসুমে উত্তর আমেরিকায় সিনেমার টিকিট বিক্রির আয় পৌঁছেছে প্রায় ৪ দশমিক ৭৬ বিলিয়ন ডলারে। আর এই সাফল্যের অন্যতম বড় কারিগর ‘স্পাইডার-ম্যান: ব্র্যান্ড নিউ ডে’।

বাংলাদেশেও ছবিটি মুক্তির পর দর্শকদের মধ্যে তৈরি করেছে ব্যাপক আগ্রহ। ৩০ জুলাই মুক্তির পর অনানুষ্ঠানিক বক্স অফিস ট্র্যাকিং অনুযায়ী, মাত্র ২৪ দিনেই সিনেমাটি দেশে আয় করেছে প্রায় ১২ কোটি ৪২ লাখ টাকা।

বিশ্বজুড়ে ছবিটির সাফল্যের মধ্যেই এবার হলিউডের গ্রীষ্মকালীন বক্স অফিসে তৈরি হয়েছে নতুন ইতিহাস। রেন্ট্রাকের হিসাবে, ১ মে থেকে ৭ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত উত্তর আমেরিকার গ্রীষ্মকালীন বক্স অফিসে টিকিট বিক্রি থেকে আয় হয়েছে প্রায় ৪ দশমিক ৭৬ বিলিয়ন ডলার, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ৫৮ হাজার ৫০০ কোটি টাকা।

এর মধ্য দিয়ে ভেঙে গেছে ২০১৩ সালের ৪ দশমিক ৭৫৫ বিলিয়ন ডলারের রেকর্ড।

এবারের গ্রীষ্মকালীন বক্স অফিসের সাফল্যে বড় ভূমিকা রেখেছে ‘স্পাইডার-ম্যান: ব্র্যান্ড নিউ ডে’, ‘দ্য ওডিসি’ ও ‘টয় স্টোরি ৫’। ‘স্পাইডার-ম্যান: ব্র্যান্ড নিউ ডে’ উত্তর আমেরিকায় প্রায় ৯২৩ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলার, অর্থাৎ প্রায় ১১ হাজার ৩৫০ কোটি টাকা আয় করেছে। বিশ্বজুড়ে ছবিটির আয় দাঁড়িয়েছে প্রায় ২ দশমিক ৪ বিলিয়ন ডলার, বাংলাদেশি টাকায় প্রায় ২৯ হাজার ৫০০ কোটি টাকা।

তবে আগের রেকর্ডের সঙ্গে তুলনা করার সময় দুটি বিষয় বিবেচনায় রাখতে হবে। ২০১৩ সালের আয় মুদ্রাস্ফীতির সঙ্গে সমন্বয় করা হয়নি। পাশাপাশি এবার গ্রীষ্মকালীন বক্স অফিসের সময়কাল ছিল ১৩০ দিন, যেখানে ২০১৩ সালে ছিল ১২৩ দিন।

রেন্ট্রাকের হিসাবে, ইতিহাসে প্রথমবার গ্রীষ্মকালীন মৌসুমের মে, জুন, জুলাই ও আগস্ট—চার মাসেই বক্স অফিস আয় ১ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়েছে। মে মাসে আয় হয়েছে ১ দশমিক ০৭ বিলিয়ন, জুনে ১ দশমিক ০৮ বিলিয়ন, জুলাইয়ে ১ দশমিক ১৮ বিলিয়ন এবং আগস্টে প্রায় ১ দশমিক ২৭ বিলিয়ন ডলার।

‘দ্য ওডিসি’ও বড় সাফল্য পেয়েছে। উত্তর আমেরিকায় ছবিটি আয় করেছে প্রায় ৫৮৯ মিলিয়ন ডলার, অর্থাৎ প্রায় ৭ হাজার ২৪০ কোটি টাকা। বিশ্বজুড়ে ছবিটির আয় প্রায় ১ দশমিক ৬৩ বিলিয়ন ডলার, অর্থাৎ প্রায় ২০ হাজার কোটি টাকা। এর মধ্যে শুধু আইম্যাক্স থেকেই এসেছে প্রায় ৪৮৬ মিলিয়ন ডলার।

শুধু বড় বাজেটের ফ্র্যাঞ্চাইজি নয়, তরুণ দর্শকদের পছন্দের ‘অবসেশন’ ও ‘ব্যাকরুমস’-এর মতো ছবিও এবারের মৌসুমে ভালো ব্যবসা করেছে। ফলে মহামারির পর সিনেমা হলের দর্শক ফেরার যে প্রবণতা তৈরি হয়েছিল, তা আরও শক্তিশালী হয়েছে।

অবশ্য সব সিনেমার ভাগ্য সমান ছিল না। ‘ফল ২: ডেডপয়েন্ট’ ও ‘অনসলট’ প্রত্যাশা অনুযায়ী ব্যবসা করতে পারেনি। অন্যদিকে দর্শকদের ইতিবাচক সাড়া পেয়ে ‘কায়োটি বনাম অ্যাকমি’ বক্স অফিসে ভালো অবস্থান তৈরি করেছে।

সব মিলিয়ে, ২০২৬ সালের গ্রীষ্মকালীন বক্স অফিসের এই রেকর্ডকে মহামারির পর হলিউডের সিনেমা ব্যবসায় বড় ধরনের প্রত্যাবর্তনের ইঙ্গিত হিসেবেই দেখা হচ্ছে। আর সেই প্রত্যাবর্তনের অন্যতম বড় মুখ হয়ে উঠেছে স্পাইডার-ম্যান।

Link copied!